শরণখোলায় বছরে ২ হেক্টর করে কমছে ফসলের জমি

শরণখোলাসহ আশেপাশের উপজেলায় নতুন বসতি স্থাপনের কারণে ক্রমান্বয়ে কমছে আবাদী জমি। জনসংখ্যাবৃদ্ধি, বছর বছর একান্নবর্তী পরিবার ভেঙ্গে আলাদা হওয়ায় স্থান সংকুলানের অভাব এবং অন্যান্য প্রয়োজনের তাগিদে মানুষ ফসলের জমি নষ্ট করে বাড়িঘর, রাস্তাঘাট ও ইটভাটা নির্মাণ করছে। ফলে প্রতি বছর উপজেলায় প্রায় ২ হেক্টর করে আবাদী জমি কমছে।

সরেজমিনে গ্রামাঞ্চল ঘুরে মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রতিবছর পরিবারে সদস্যসংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় একান্নবর্তী পরিবার ভেঙ্গে আলাদা হয়ে যায়। প্রয়োজনের তাগিদে বাধ্য হয়েই বিকল্প জমি না থাকায় ফসলের জমিতে তারা বাড়িঘর নির্মাণ করছে।

অনেকক্ষেত্রে ফসলের জমি, মাঠঘাট, ছোটখাল, ডোবা, পুকুর ভরাট করে মার্কেট ও ইটভাটা, পেট্রোল পাম্প, ক্লিনিক নির্মাণ করা হয়েছে। বছর ঘুরে গেলেই ফসলের জমিতে একেকটি নতুন গ্রাম, পাড়া, মহল্লা গড়ে উঠছে।

গত ৩/৪ বছরের মধ্যে উপজেলা সদরের কদমতলা গ্রামের কয়েক হাজার একরের ফসলের মাঠ প্রায় পুরোটাই এখন নতুন একটি গ্রামে পরিণত হয়েছে। সেখানে বড় বড় দালান ও বাড়িঘর নির্মাণ হয়েছে। বিশেষ করে উপজেলার সর্বত্র কয়েক শত প্রবাসী চড়া দামে কৃষকের ফসলের জমি কিনে বালু ভরাট করে ইমারত নির্মাণ করেছে।

এ ছাড়া বাগেরহাট-মোরেলগঞ্জ-শরণখোলা আঞ্চলিক মহাসড়কের দুপাশে ফসলের জমিতে কয়েকশত বাড়িঘর, স্থাপনা ও মাছের খামার গড়ে উঠেছে। প্রতি বছর ফসলের জমিতে বাড়িঘরসহ মাছের খামার ও অন্য  স্থাপনা নির্মাণের কারণে আগামীতে ধানসহ অন্যান্য ফসল উৎপাদন কমে যাওয়ার আশংকায় এলাকাবাসীরা উদ্বিগ্ন।

বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক ইউপি সদস্য হেমায়েত উদ্দিন বাদশা বলেন, ‘ফসলের জমিতে বাড়িঘর নির্মাণের প্রবণতা এখনই ঠেকানোসহ  বিদ্যমান বাড়িঘর নির্মাণের সরকারি নীতিমালা বাস্তবায়নে প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকা নিতে হবে।’

আরও পড়ুন: হবিগঞ্জে স্কুলছাত্রীকে ছুরিকাঘাত করেছে এক দুর্বৃত্ত

শরণখোলা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সৌমিত্র সরকার বলেন, ‘শরণখোলায় আবাদী জমির পরিমাণ ১০ হাজার হেক্টর। বাড়িঘর নির্মাণের ফলে প্রতি বছর ১/২ হেক্টর করে ফসলের জমি কমছে ফলে এর প্রভাব বাৎসরিক ফসল উৎপাদনের ওপর পড়ছে। বাড়িঘর নির্মাণের নীতিমালা কার্যকর করার বিষয়টি আগামী উপজেলা পরিষদের সমন্বয় সভায় তোলা হবে।’

ইত্তেফাক/নূহু