রাজধানীর বাজারে বাড়ছে মুরগির দাম, স্থিতিশীল মাছ-মাংসের বাজার

রাজধানীর কাঁচাবাজারে আবারও বাড়তে শুরু করেছে ব্রয়লারসহ অন্যান্য মুরগির দাম। প্রতি কেজিতে দাম বেড়েছে ১০ থেকে ১৫ টাকা। তবে মাছের বাজারে এখনো তেমন কোনো পরিবর্তন নেই, আর গরু ও খাসির মাংসের দামও রয়েছে আগের অবস্থানেই।

শুক্রবার (১ আগস্ট) সকালে রামপুরা ও বনশ্রী এলাকার একাধিক বাজার ঘুরে এবং ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এই চিত্র পাওয়া গেছে।

সাপ্তাহিক ছুটির দিনে বাজারে ক্রেতার চাপ কিছুটা বেশি থাকায় অনেকেই অভিযোগ করছেন, ব্যবসায়ীরা এ সুযোগে বাড়িয়ে দিচ্ছেন দামের হার।

বাজারে দেখা গেছে, ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৬০ থেকে ১৭০ টাকায়, যা এক সপ্তাহ আগেও ছিল ১৫০ টাকার আশেপাশে। সোনালি মুরগির দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩০০ টাকায়।

রামপুরা বাজারে বাজার করতে আসা চাকরিজীবী হাসিব উল্লাহ বলেন, “প্রতি শুক্রবারেই দেখি দাম একটু বাড়ে। আজও ১৫০ টাকার ব্রয়লার ১৬৫ টাকা বললো, দরাদরি করে ১৬০ টাকায় কিনলাম।”

বনশ্রীর শফিকুল ইসলাম বললেন, “ব্রয়লারের দাম যদি ১৪০-১৫০ টাকার মধ্যে থাকতো, তাহলে সবার পক্ষে কেনা সম্ভব হতো। এখন ১৭০ টাকা, যা সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে।”

একই বাজারের মুরগি বিক্রেতা রিয়াজ উদ্দিন জানান, “মুরগির পাইকারি দামও এখন বেড়েছে। ১৪০ টাকায় কিনতাম, এখন কিনতে হচ্ছে ১৫৫ টাকায়। আমাদেরও অন্তত ১৫ টাকা লাভ রাখতে হয়।”

ঈদুল আজহার পর দুই মাস পার হলেও গরু ও খাসির মাংসের বাজারে এখনো ভাটার টান। অনেক দোকানেই ক্রেতা নেই বললেই চলে।

খিলগাঁও বাজারের মাংস ব্যবসায়ী মো. কবির হোসেন বলেন, “ঈদের পর এমন হওয়াটা স্বাভাবিক, কিন্তু এবার বিক্রিই নেই। গরুর মাংস ৭৫০–৭৮০, খাসির মাংস ১১০০ আর ছাগলের মাংস ১০০০ টাকায় বিক্রি করছি, তাও আগ্রহ কম।”

মাছের বাজার তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল। রুই ও কাতল ৩০০–৩৪০ টাকা, পাবদা ৩৫০–৪০০, চিংড়ি ৬৫০–৭০০, টেংরা ৬০০–৭০০, শিং ৪০০–৪৫০, কৈ ২০০–২২০ এবং তেলাপিয়া ও পাঙ্গাস ১৮০–২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

চাকরিজীবী মনিরুল ইসলাম বলেন, “মাংসের দামের তুলনায় মাছ এখন অনেকটাই সাশ্রয়ী ও মানসম্মত। আমাদের মতো নিম্ন-মধ্যবিত্তদের জন্য মাছই এখন সবচেয়ে ভালো বিকল্প।”

মাছ বিক্রেতা হুমায়ুন কবির বলেন, “মানুষ এখন মাংসের দাম দেখে মাছের দিকেই ঝুঁকছে। রুই-কাতল বিক্রি ভালো হচ্ছে। অনেকে বলছেন—মাংসের প্রতি আগ্রহই কমে গেছে।”