ভয়ংকর সুন্দর বাঘ মামা

দেখলে ভয় লাগে আবার দেখতেও সুন্দর—এই দুইয়ের মিশেলকে বলা যায় ভয়ংকর সুন্দর। রয়েল বেঙ্গল টাইগার তেমনি একটি ভয়ংকর সুন্দর প্রাণী।  হিংস্র প্রাণীগুলোর মধ্যে বাঘ মানুষের পছন্দের শীর্ষে। ২০০৯ সালে ‘অ্যানিম্যাল প্ল্যানেট’ চ্যানেলের করা গবেষণায় উঠে এসেছে এমন তথ্য।

বাঘের অনেক প্রজাতি থাকলেও মোটামুটি ৬ প্রজাতির বাঘ বেশি দেখা যায়। এগুলো হলো বাংলা বাঘ, ইন্দোচীন বাঘ, মালয় বাঘ, সুমাত্রীয় বাঘ, সাইবেরীয় বাঘ, দক্ষিণচীন বাঘ। ‘রয়েল বেঙ্গল টাইগার’ বাংলা বাঘের আরেক নাম। বাংলাদেশ এবং ভারতসহ মোট ৬টি দেশের জাতীয় পশু এই রয়েল বেঙ্গল টাইগার। সুন্দরবনের ভারত-বাংলাদেশ অংশে রয়েল বেঙ্গল টাইগারের বসবাস। বাঘের হারিয়ে যাওয়া তিনটি প্রজাতি হলো বালি বাঘ, জাভাদেশীয় বাঘ এবং কাস্পিয়ান বাঘ। এগুলো এখন আর দেখা যায় না।

বিড়ালকে বলা হয় বাঘের মাসি। অর্থাত্ বাঘ হলো বিড়াল শ্রেণির প্রাণী। তাই বাঘকে বড়সড় বিড়াল বললেও খুব একটা ভুল হবে না। তবে বিড়াল ভেবে বাঘের কাছে ঘেঁষতে গেলে প্রাণটা খোয়াতে হবে নির্ঘাত। হিংস্রতার দিক থেকে বাঘ সিংহের চেয়েও এগিয়ে। শুধু তা-ই নয়, বাঘের গর্জন একজন মানুষকে প্যারালাইজড পর্যন্ত করে ফেলতে পারে। সাধারণত রাতে শিকার খোঁজা বাঘের স্বভাব। কারণ, দিনের চেয়ে রাতে ভালো দেখতে পায় বাঘ। দিনে দেখতে পায় না বললেই চলে। মজার ব্যাপার হলো, শিকারকে কাবু করার জন্য শিকারের মতো হুবহু আওয়াজ করতে বেশ পারদর্শী বাঘ মামা।

বাংলা ভাষার শিশুসাহিত্যিকেরা বাঘকে মামা বলে উল্লেখ করেছেন। তোমরা নিশ্চয়ই ‘বাঘ মামা’ শব্দটির সঙ্গে পরিচিত। বাঘ আর বকের গল্পটি পড়েছ তো? বাঘের গলায় কাঁটা বিঁধলে বক তার লম্বা ঠোঁট দিয়ে সে কাঁটা বের করে আনে। পরবর্তী সময়ে বাঘ বককেই খেতে চায়! বাঘ দিল থাবা। বক দিল উড়াল। বসল পাকা তালের ওপর। তাল পড়ল বাঘ মামার মাথায়। মুহূর্তেই বাঘ চিত্পটাং। শিশুসাহিত্যে এমন অসংখ্য মজার গল্প রয়েছে বাঘ মামাকে ঘিরে।

তবে মন খারাপের কথা হলো—দিন দিন বাঘ হারিয়ে যাচ্ছে। বিপন্ন হয়ে পড়ছে। এর প্রধান কারণ, অর্থের লোভে বাঘ শিকার বেড়ে গেছে। একইসঙ্গে সুন্দরবনসহ পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে বাঘের বসবাস কঠিন থেকে কঠিনতর হয়ে উঠেছে। ভয়ংকর সুন্দর এই প্রাণীটি যেন হারিয়ে না যায়, আমরা যেন আরেকটু দরদি হই বাঘের প্রতি, সচেতন হয়ে উঠি বাঘ সংরক্ষণের বিষয়ে—এ উদ্দেশ্যে ২০১০ সাল থেকে প্রতি বছর জুলাই মাসের ২৯ তারিখ বিশ্ব বাঘ দিবস পালন করা হচ্ছে। তোমরাও অবশ্যই বাঘ মামার প্রতি দরদি হবে। পাশাপাশি বড়দের এ কথা বোঝাতে চেষ্টা করবে, বাঘ সংরক্ষণে বিশেষ উদ্যেগ না নিলে বিলুপ্তির তালিকায় পড়ে যাবে আমাদের জাতীয় পশু রয়েল বেঙ্গল টাইগারও।