সাঁতারে সর্বকনিষ্ঠ পদকজয়ী চীনের ইউ

চীনা স্কুলছাত্রী ইউ জিদি, বয়স সবে ১২। অধম্য মানসিকতা এবং ইচ্ছে শক্তিতে সিংগাপুরে অনুষ্ঠিত বিশ্ব অ্যাকোয়াটিক্স চ্যাম্পিয়নশিপে পা রাখেন। সোমবার সর্বকনিষ্ঠ সাঁতারু হিসেবে বিশ্ব মঞ্চে অভিষেক হয় ইউ জিদির। এবার সর্বকনিষ্ঠ সাতারু হিসেবে পদক জেতার রেকর্ড গড়েছেন এই চীনা কিশোরী।

বৃহস্পতিবার ২০০ মিটার বাটারফ্লাই ফাইনালে চতুর্থ স্থান অর্জন করেছেন ইউ জিদি। তবে চীনা রিলে দলের সদস্য হিসেবে পদক পেয়েছিলেন ইউ জিদি। তাতে সর্বকনিষ্ঠ সাঁতারু হিসেবে পদক জয়ের রেকর্ড তার এখন দখলে। এর আগে রেকর্ডটি ছিল কানাডিয়ান সাঁতারু অ্যালিসন হিগসনের দখলে। ১৯৮৬ সালে অ্যাকুয়াটিক চ্যাম্পিয়নশিপসে মেয়েদের ২০০ মিটার ব্রেস্টস্ট্রোকে ১৩ বছর ১৫৮ দিন বয়সে পদক জেতেন হিগসন। বৃহস্পতিবার ১২ বছর ২৯২ দিন বয়সে পদক জিতেন ইউ জিদি।

যদিও এই চীনা সাঁতারুর চেয়েও কম বয়সে ব্রোঞ্জ জেতার রেকর্ড রয়েছে। ১৯৩৬ সালে বার্লিন অলিম্পিকে ১২ বছর পূর্ণ হওয়ার এক মাস আগে ২০০ মিটার ব্রেস্টস্ট্রোকে ব্রোঞ্জ জিতেছিল ডেনমার্কের ইনগে সোরেনসেন। তবে বিশ্ব অ্যাকোয়াটিক্স চ্যাম্পিয়নশিপে সর্বকনিষ্ঠ সাঁতারু হিসেবে পদক জেতার রেকর্ড ইউ জিদিদের রেকর্ডে। এমন কৃতি অর্জনের পর আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়েন ইউ জিদি। বলেন, 'এটি বেশ আবেগঘন এবং দুর্দান্ত অনুভূতি।'

অন্যদিকে মাত্র ১২ বছর বয়সে সাঁতারের বিশ্বমঞ্চে জিদিকে লড়াইয়ে অনুমতি দেওয়া নিয়েও রয়েছে বিতর্ক। কেননা সাধারণত বিশ্ব অ্যাকোয়াটিক্স চ্যাম্পিয়নশিপে প্রতিযোগীদের সর্বনিম্ন বয়স ১৪ বছর হতে হবে। নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দেওয়ায় এই মঞ্চে ইউ জিদিকে লড়াই সুইমিংয়ে নামতে অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

তবে চার বারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন কারেন পিকারিং কম বয়সে এত বড় মঞ্চে ইউ জিদিকে খেলা নিয়ে অসন্তষ প্রকাশ করেন। বলেন, 'একজন তরুণের এমন ইভেন্টগুলোতে অংশগ্রহণ করতে দেখা অবাক করার মতো। এটি প্রশ্ন তৈরি করে। সে কতক্ষণ ধরে কঠোর প্রশিক্ষণ নিচ্ছে? সে কী ধরণের প্রশিক্ষণ নিচ্ছে? এটি তার শারীরিকভাবে কী করছে।'

এছাড়াও তিনি আরো বলেন, 'আমি চিন্তিত যে, এটি সে (ইউ) এই বয়সে এত প্রশিক্ষণ নেওয়ায় তার শারীরিকভাবে কেমন বোধ করছে। আমরা জিমন্যাস্টদের ক্ষেত্রে এটি দেখেছি যাদের খুব কম বয়সে চাপ দেওয়া হয় এবং দীর্ঘমেয়াদে তাদের শরীরের ওপর এর বাজে প্রভাব ফেলে।'