গাজীপুরের কালীগঞ্জ পৌরসভার প্রতিষ্ঠার প্রায় দেড় যুগ পার হলেও এখনো গড়ে ওঠেনি একটি পরিকল্পিত ও আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা। ফলে প্রতিদিন পৌরবাসীকে পোহাতে হচ্ছে পরিবেশ দূষণ, দুর্গন্ধ এবং জনস্বাস্থ্য ঝুঁকির মতো গুরুতর ভোগান্তি। রাজধানী ঢাকা থেকে অল্প দূরত্বে অবস্থিত এই পৌর শহরের বর্জ্য খোলা জায়গায় ফেলা হচ্ছে নিয়মিত, যেখানে থাকে পশু-পাখির মরদেহসহ নানা ধরণের জীবাণুবাহী ময়লা-আবর্জনা।
২০১০ সালের ১৫ ডিসেম্বর ‘গ’ শ্রেণির পৌরসভা হিসেবে যাত্রা শুরু করে কালীগঞ্জ। ২০১৪ সালে এটি ‘খ’ শ্রেণিতে উন্নীত হয়। পৌরসভার আয়তন ১৫.৮১ বর্গকিলোমিটার, জনসংখ্যা প্রায় ৬০ হাজার এবং ভোটার সংখ্যা ৪৫ হাজারের বেশি। পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডে কোনো নির্ধারিত বর্জ্য ডাম্পিং জোন এখনো নেই।
সরেজমিনে দেখা যায়, বাসাবাড়ি, দোকান, হোটেল এমনকি হাসপাতাল ও ক্লিনিকের বর্জ্যও যত্রতত্র ফেলা হচ্ছে। পরবর্তীতে সেগুলো পৌরসভার পিকআপ ভ্যানে করে নিয়ে যাওয়া হয় ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বালীগাঁও এলাকার একটি খোলা জায়গায়, যা এখন ‘অনানুষ্ঠানিক ভাগাড়’ হিসেবে পরিচিত। দুর্গন্ধ এতটাই তীব্র যে পথচারীদের নাক চেপে হাঁটতে হয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করে বলেন, বছরের পর বছর ধরে এমন চললেও দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেয়নি পৌরসভা।
এ বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও পরিবেশকর্মীরা। কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. সৈয়দ শহিদুল ইসলাম বলেন, খোলা জায়গায় বর্জ্য ফেলার কারণে বাতাসে জীবাণু ছড়িয়ে পড়ছে। এতে বাড়ছে শ্বাসকষ্ট, ফুসফুসের রোগ এমনকি ক্যান্সারের ঝুঁকি। পেটে পীড়া ও নানা সংক্রামক রোগও ছড়াচ্ছে।
তিনি আরও জানান, এসব বর্জ্য বর্ষায় জলাবদ্ধতারও অন্যতম কারণ হয়ে উঠছে।
পরিবেশবাদী সংগঠন বিডিক্লিনের কালীগঞ্জ শাখার উপ-সমন্বয়ক ইশতিয়াক ফয়সাল বলেন, এভাবে বর্জ্য ফেলা শুধু মানবস্বাস্থ্য নয়, আশেপাশের জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশের জন্যও হুমকিস্বরূপ।
বর্জ্যের এই ভাগাড় ঘিরেই বালীগাঁও এলাকায় গড়ে উঠেছে একটি অনানুষ্ঠানিক কর্মসংস্থান ব্যবস্থাও। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা দরিদ্র শিশু ও নারী-পুরুষ ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে কাজ করছেন সেখানে। কেউ কুড়িয়ে নিচ্ছেন পুনর্ব্যবহারযোগ্য দ্রব্য, কেউবা কাজ করছেন দৈনিক মজুরিতে।
এ বিষয়ে কালীগঞ্জ পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তনিমা আফ্রাদ বলেন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফেরাতে পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। পৌরসভার একটি নির্দিষ্ট জায়গায় আধুনিক ডাম্পিং স্টেশন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শিগগিরই এ নিয়ে দৃশ্যমান পরিবর্তন আসবে।