তৃণমূলেই মূল নজর সুমনদের

তৃণমূল পর্যায়ে নজর দিচ্ছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। জেলা-উপজেলা পর্যায় থেকেই উঠে আসেন ভবিষ্যৎ তারকা ক্রিকেটাররা। সেই বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে শুরু থেকেই সঠিকভাবে ক্রিকেট শেখানোর উদ্যোগ নিয়েছে দেশের ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি। বিশেষ করে তৃণমূল পর্যায়ের কোচদের উন্নয়নে এবার আলাদা করে পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। কোচিং মানোন্নয়নের অংশ হিসেবে ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে কোচিং কোর্স। পর্যায়ক্রমে দেশের সব বিভাগেই বিসিবির এই উদ্যোগ চালু করা হবে বলে জানিয়েছেন জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক ও বিসিবির গেম ডেভেলপমেন্টের হেড অফ অপারেশন্স হাবিবুল বাশার সুমন।

সুমনের মতে, ক্রিকেটার তৈরির বীজতলা হচ্ছে তৃণমূল। সেখানকার কোচদের মানোন্নয়ন হলে ভবিষ্যতের ক্রিকেটাররা শুরুতেই পেয়ে যাবেন গুণমানসম্পন্ন প্রশিক্ষণ। তিনি বলেন, 'ক্রিকেটকে ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। কীভাবে মাঠে আরও বেশি ক্রিকেট খেলানো যায়, সেটা ভাবছি। তরুণ ক্রিকেটাররা এখন দক্ষতার অনুশীলনে বেশি সময় দিচ্ছে, অথচ ম্যাচ কম খেলছে। আমাদের চেষ্টা থাকবে স্কুল পর্যায়ে ১০ ম্যাচ খেলা হলে সেটা যেন ২০টি হয়। শুধু ওয়ানডে নয়, দীর্ঘ পরিসরের ক্রিকেটেও তারা অংশ নিক, সেটা নিশ্চিত করতে চাই। কলেজ-জেলা পর্যায়ের ক্রিকেটকে আরও সক্রিয় করতে শিক্ষা বোর্ডের সঙ্গে আলোচনা চলছে।'

দেশে ক্রিকেটের মান বাড়াতে হলে ঘরোয়া পর্যায়েই মানসম্পন্ন প্রতিযোগিতা গড়ে তোলার ওপর জোর দিয়েছেন সুমন। তার ভাষায়, 'একটা দেশের ক্রিকেট তখনই ভালো হয়, যখন তার ঘরোয়া ক্রিকেটে ভালো মানের খেলা হয়। সব খেলোয়াড় জাতীয় দলে খেলবে না, কিন্তু নিচের স্তরে প্রতিযোগিতা মানসম্পন্ন হলে জাতীয় দলের মান আপনাতেই বেড়ে যাবে।' তৃণমূল কোচদের উন্নয়নে বিসিবি চালু করেছে 'লেভেল ওয়ান' কোচিং কোর্স। এটি দিয়ে শুরু হলেও পর্যায়ক্রমে লেভেল টু ও থ্রি পর্যন্ত কোর্স চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে। সুমনের ভাষায়, 'গেম এডুকেশনকে গুরুত্ব দিচ্ছি আমরা। এটারই অংশ হিসেবে কোচিং কার্যক্রম নতুনভাবে শুরু হলো। কোচিং কোর্স করার আগ্রহী অনেকের সিভি জমা পড়েছে। সেমিনারে ৩০ জনের বেশি নেওয়া যায় না। ধীরে ধীরে সব কোর্স চালু করা হবে।'

এই কোর্সে 'সার্ভিসেস অ্যান্ড পার্টনার্স' নামকরণ করে একযোগে নিয়েছে সামরিক বাহিনী, আনসার, পুলিশ, এয়ার ফোর্সসহ বিভিন্ন সরকারি সংস্থা এবং বিশ্ববিদ্যালয় ও বিকেএসপির সংশ্লিষ্টদের। সুমন মনে করেন, ক্রিকেটকে ছড়িয়ে দিতে হলে এসব প্রতিষ্ঠানের কোচদেরও সম্পৃক্ত করা জরুরি। কারণ, তারা সরাসরি কাজ করেন মূলত তৃণমূল পর্যায়েই। এদের দক্ষতা বাড়াতে পারলেই দেশ উপকৃত হবে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, 'ক্রিকেট শুধু খেলা নয়, এটা একটা শিক্ষা। যারা রুট লেভেলে কাজ করেন, তারা যদি ক্রিকেট শিক্ষায় আরও উন্নত হন, তাহলে সেটা দেশীয় ক্রিকেটে প্রতিফলিত হবে। আমরা জেলা কোচদের উন্নত করার চেষ্টা করছি। রাজশাহীতে কাজ শুরু হয়েছে, এরপর খুলনায় যাব। ধাপে ধাপে সব বিভাগেই কাজ করব। আমরা বিশ্বাস করি, একজন ক্রিকেটার শুরুতে শেখেন একজন জেলা কোচের কাছ থেকে। প্রথম শিক্ষাটা সঠিক হলে ভবিষ্যতের ভিত্তি শক্ত হয়।'

সুমনের বক্তব্যে স্পষ্ট, কোচিংয়ে আগ্রহ বেড়েছে দেশের ক্রিকেটারদের মধ্যেও। অনেক ফার্স্ট ক্লাস ক্রিকেটার, যারা এখনো খেলছেন কিংবা খেলা শেষ করেছেন, তারাও কোচ হওয়ার চেষ্টা করছেন। তিনি বলেন, 'পাঁচ-দশ বছর আগেও এত ক্রিকেটারকে কোচিংয়ে আগ্রহী হতে দেখিনি। এখন অনেকেই কোচিংয়ে আসতে চাইছেন। এটা একটা ভালো দিক।'