এশিয়ান ফুটবলের সবচেয়ে বড় কিংবদিন্ত দক্ষিণ কোরিয়ান অধিনায়ক সন হিউং-মিন। শান্ত মেজাজের সন নিজের কাজটা করেন মাথা ঠান্ডা রেখে। তাকে প্রতিপক্ষের সঙ্গে তর্কে জড়াতেও দেখা যায় না তেমন একটা। ২০১৫ সালে জার্মান ক্লাব লেভারকুসেন ছেড়ে ২৩ বছর বয়সে এসেছেন উত্তর লন্ডনে। তখন জানতেন না ইংরেজি, কেউ কথা বলার সময় তাকিয়ে থাকতেন মুখের দিকে। অঙ্গভঙ্গি থেকে বোঝার চেষ্টা করতেন কী বলছে। মাঝখানে কেটে গিয়েছে এক দশক। এবার লন্ডন ছাড়ছেন সন। ইংরেজি না জেনে লন্ডনে আসা ছেলের বিদায় বেলায় কাঁদছে ইংলিশদের মন। তার সঙ্গে হচ্ছে লাখ টটেনহ্যাম ভক্তের ভালোবাসা।
মে মাসের আগে নিজেদের 'কিংবদন্তি' হিসেবে মানতে নারাজ ছিলেন সন। কেননা তার কেবিনেটে ছিল না কোনো শিরোপা। মে মাসে সনের নেতৃত্বে ইউরোপা লিগের ফাইনালে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডকে হারিয়ে ১৭ বছর পর কোনো শিরোপা এবং ৪১ বছর পর ইউরোপিয়ান টুর্নামেন্টের শিরোপা জয়ের স্বাদ পেয়েছে টটেনহ্যাম। শিরোপা জয়ের পর সন নিজেই নিজেকে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন কিংবদিন্ত বলে।
এবার দিলেন প্রিয় ক্লাব ছাড়ার ঘোষণা। আগামী মৌসুম থেকে টটেনহ্যামের জার্সি গায়ে দেখা যাবে না সনকে। ক্লাব প্রীতি ম্যাচে আজ মাঠে নামছে টটেনহ্যাম মাঠে নামবে নিউ ক্যাসেলের বিপক্ষে। ম্যাচটি সনের জন্মভূমি দক্ষিণ কোরিয়ায় অনুষ্ঠিত হবে। এই ম্যাচের মধ্যদিয়ে ঘরের ছেলে সনকে সংবর্ধনা দেবে দক্ষিণ কোরিয়া ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন।
তার আগে গতকাল স্পার্সদের নতুন কোচ মাস ফ্র্যাঙ্কের সঙ্গে সংবাদ সম্মলেন আসেন সন। সেখানে নিজের ক্লাব ছাড়ার ঘোষণা দিয়ে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। নিজের পেছনের গল্প নিয়ে করেন স্মৃতিচারণ। তিনি বলেন 'আমি ছোটবেলায় উত্তর লন্ডনে এসেছিলাম-খুব ছোটবেলায়। একটি ছোট ছেলে লন্ডনে এসেছিল, যে এমনকি ইংরেজি বলতেও পারত না।' নিজের বিদায় নিয়ে সন বলেন, 'এটি আমার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে কঠিন সিদ্ধান্ত ছিল। এই ক্লাবে আমার অসাধারণ স্মৃতি রয়েছে। সিদ্ধান্ত নেওয়া খুব কঠিন ছিল। তবে ক্লাবও আমার সিদ্ধান্তকে সম্মান জানিয়েছে।'
তবে ৩৩ বছর বয়সী এই কিংবদন্তির পরবর্তী গন্তব্যের কোথায়? তা নিশ্চিত করে না জানালেও সন এমন কোথাও যেতে চান যেখানে ভিন্ন পরিবেশে ফুটবল এবং জীবন দুটোই উপভোগ করতে পারবেন তিনি। বলেন, 'নিজেকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য আমার একটা নতুন পরিবেশ দরকার। আমার একটু পরিবর্তন দরকার। ১০ বছর অনেক দীর্ঘ সময়। আমি ২৩ বছর বয়সে উত্তর লন্ডনে এসেছিলাম।'
গেল ১০ বছরে স্পার্সদের হয়ে ৩৩৩ ম্যাচে ১৭৩ গোল করেছেন। সেইসঙ্গে ২০২১-২২ মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগ গোল্ডেন বুট এবং ২০২০ সালের ফিফা পুসকাস অ্যাওয়াড জিতেছেন সন। যদিও গুঞ্জন আছে, সনের পরবর্তী গন্তব্য হতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। এমএলসের দল লস অ্যাঞ্জেলেস এশিয়ান সবচেয়ে বড় এই কিংবদিন্ত দলে ভেড়াতে তদবির করছে। সেই লিগে খেলছে লিওনেল মেসি, সুয়ারেজ, জর্ডি আলাবা, ডি পলের মতো তারকারা। সব ঠিকঠাক থাকলে আগামী মৌসুম থেকে লস অ্যাঞ্জেলেসের জার্সি গায়ে দেখা যাবে এশিয়ার সবচেয়ে বড় এই কিংবদন্তিকে।