চাঁদাবাজির অভিযোগে গ্রেপ্তার অপু গণ-অভ্যুত্থানের পর এলাকায় ‘বিলাসী নেতা’

রাজধানীর গুলশানে আওয়ামী লীগের এক সাবেক সংসদের বাড়ীতে চাঁদাবাজির অভিযোগে গ্রেপ্তার গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদের বহিষ্কৃত নেতা জানে আলম অপুর বাড়ী জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার পুনঘরদীঘি গ্রামে। জানে আলম নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান। গণ-অভ্যুত্থানের কিছুদিন পর হঠাৎ করেই বদলে যায় তার জীবনযাপন। দামি পোশাক, প্রাইভেট কারে চলাফেরা, প্রভাবশালী রাজনৈতিক ও পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সাথে ছবি তুলে আপলোড দিতেন ফেসবুকে। এলাকায় ছিলেন তিনি অনেক বড় মাপের নেতা।

পুনঘরগ্রামে গিয়ে জানা গিয়েছে, জানে আলম অপু রাজধানীর গ্রিন ইউনিভার্সিটির আইন বিভাগের শিক্ষার্থী। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলনকারীদের মধ্যে সামনের সারির একজন সমন্বয়ক হিসেবে তাকে দেখা যেত। চাঁদাবাজির অভিযোগে গ্রেপ্তার গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদের বহিষ্কৃত যুগ্ম আহ্বায়ক অপু। 

অপুর বাবা আনোয়ার হোসেন দুলাল ঢাকায় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কাজ করতেন। প্রায় ৮ বছর আগে তিনি মারা যান। মায়ের অন্যত্র বিয়ে হয়েছেন। ছোট বোন মায়ের সঙ্গে থাকেন। ফলে বাড়িটি বেশির ভাগ সময় তালাবন্ধ থাকে। অপু নানার বাড়ীতে থাকতেন। মানুষের দেওয়া উপহার, সাহায্য-সহযোগিতায় চলতো তার পড়াশোনা। 

গণ-অভ্যুত্থানের কিছুদিন পর হঠাৎ করেই বদলে যায় তার জীবনযাপন। গণ-অভ্যুত্থানের পর ১১ আগস্ট অপু জয়পুরহাট আসেন। সে সময়কার জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নুরে আলম তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান। বর্তমান পুলিশ সুপার মুহম্মদ আবদুল ওয়াহাবও তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়েছিলেন। এসব ছবি এখনো ফেসবুকে আছে। তিনি এলাকায় এসে নিজেকে বিরাট ক্ষমতাধর ব্যক্তি বলে পরিচয় দিতেন। 

পুনঘরদীঘি গ্রামের বাসিন্দা ও তার এক প্রতিবেশী বলেন, ‘অপুর বয়সের তুলনায় অনেক পাকা ছিল। তার গ্রামের বাড়িতে কেউ থাকে না। এনসিপির জয়পুরহাটের প্রোগ্রামের সময় কিছু সময়ের জন্য গ্রামের বাড়িতে এসেছিল। কয়েক দিন পর আমরা জানতে পারি, গুলশানে তার চাঁদাবাজির ঘটনার ভিডিও বের হয়েছে। অপুর এমন ঘটনায় আমরা বিস্মিত হইনি।’

এ বিষয়ে আক্কেলপুর উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক দেওয়ান তানভীন নেওয়াজ বলেন, ‘২০২২ সালের দিকে জানে আলম ছাত্রদল করতেন। নারী কেলেঙ্কারির দায়ে তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। এরপর তিনি একেক সময় একেক দলে যোগ দেন। ফেসবুকে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টাসহ বিভিন্ন ক্ষমতাবান ব্যক্তির সঙ্গে ছবি দিতেন। এই ছবি দিয়ে নিজেকে বিশাল ক্ষমতাধর নেতা হিসেবে উপস্থাপন করতেন। এগুলো তার চাঁদাবাজিতে সহায়ক হয়েছে।’

ছাত্রদলের আরেক নেতা আরমান হোসেন বলেন, ‘অভ্যুত্থানের পর হঠাৎ অপুর লাইফস্টাইল পাল্টে যায়। চাঁদাবাজি ও তদবির বাণিজ্য তার আয়ের মূল উৎস ছিল। তিনি এলাকায় তেমন কিছু করেননি। তবে ঢাকায় সম্পদ ও ব্যাংক ব্যালেন্স করেছেন বলে শোনা যায়। গণ-অভ্যুত্থানের কয়েক দিন পর তিনি এলাকায় দামি প্রাইভেট কার নিয়ে এসেছিলেন। তখন জেলা পুলিশ ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা তাকে সমীহ করেছিলেন।’