প্রথমবার দেশের হকি বড় আসরে খেলতে যাবে। আগামী ২৭ নভেম্বর থেকে ১০ ডিসেম্বর তামিলনাডুতে অনুষ্ঠিত হবে হকি অনুর্ধ্ব-২১ বিশ্বকাপ। বাংলাদেশ রয়েছে 'এফ' গ্রুপে। প্রতিপক্ষ ফ্রান্স, অস্ট্রেলিয়া ও কোরিয়া। ভারতের দুটি শহরে অনুষ্ঠিত হবে খেলা। বাংলাদশে, স্বাগতিক ভারতসহ তিন গ্রুপের খেলা মাঠে গড়াবে তামিলনাডুতে। তার আগে দলে যুক্ত হল ডাচ কোচ সিগফ্রাইড আইকম্যান। স্বল্প সময়ের জন্য লাল-সবুজের দায়িত্ব নিলেও তার লক্ষ্য শুধু আসন্ন বিশ্বকাপ নয়। তিনি চান বাংলাদেশ দলকে পুরোপুরি দলকে বদলে দিতে গড়তে চান শক্তিশালী দল হিসেবে।
সিগফ্রাইড আইকম্যান ডাচ কোচ হলেও এশিয়ায় বেশ পরিচিত। প্রায় দেড় যুগ এশিয়ায় জাপান, পাকিস্তানসহ নানা দেশে সিনিয়র দলের কোচ ছিলেন। সবশেষ দায়িত্ব পালন করেছেন ওমানে। এবার এসেছেন বাংলাদেশে। গতকাল দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথমেবারের মত গণমাধ্যমের সামনে মুখোমুখি হয়েই জানিয়েছেন এখানে আসার লক্ষ্য। তিনি বলেন, 'দেশের হকির ভবিষ্যতের ভিত্তি গড়ে তুলতে হবে এখনই। এখন যে মানে আছে, তাকে স্থানীয় পর্যায় থেকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিতে হবে। পারফরম্যান্স স্তর থেকে হাই পারফরম্যান্স স্তরে নিতে হবে। এটাই আমার কাজ।'
গেল শুক্রবার ডাচ কোচের সঙ্গে হকি ফেডারেশন চুক্তি করেছে। দলের সঙ্গে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ শুরু করবেন আগামী মাসের শুরু থেকেই। আর ২৮ নভেম্বর থেকে বিশ্বকাপ শুরু। স্বল্প সময়ে দলকে পর্যাপ্ত পরিমাণে প্রস্তুতি করা সম্ভব কিনা এ নিয়ে আইকম্যান বলেন, 'কোচদের কাছে সবসময় যত সময় পাওয়া যায় ততই ভালো। তিন মাস সময় মোটামুটি অর্থে যথেষ্ট। দীর্ঘ সময় অনুশীলন ও ক্যাম্প করানো বাংলাদেশের পক্ষে কষ্টসাধ্য। আমি এই সময়ের মধ্যেই বাংলাদেশ দলের ফিটনেস লেভেল উন্নতি করে খেলার মান উন্নয়ন করতে চাই।'
সামনের দিনগুলোর অনুশীলনে 'বিজ্ঞানভিত্তিক পদ্ধতি' আনতেই চান তিনি। আইকম্যান বলেন 'আধুনিক হকি এখন আর শুধু আবেগ বা ভালো লাগা দিয়ে চলে না। এখন সব কিছু ডেটা-নির্ভর। এক বছর আগেও আমি যেভাবে কাজ করতাম, এখন তা পুরোনো হয়ে গেছে। প্রতিনিয়ত নতুন কিছু শিখতে হয়, এগিয়ে থাকতে হয়।'
তবে শুধু খেলা নয়, খেলোয়াড়দের শেখানোর ক্ষেত্রেও জোর দিতে চান এই ডাচ কোচ। কারণ তার আরেক পরিচয় ফআইএইচ সিনিয়র কোচ ও আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষক। খেলোয়াড়দের শেখাতে চান কীভাবে খেলা ধরতে হয়, বিশ্লেষণ করতে হয়। আইকম্যান বলেন, 'প্রথমে আপনাকে খেলার মূল ভিত্তি ধরতে হবে যেটা হলো খেলার জন্য খেলা। এরপর আপনি প্রতিযোগিতায় খেলেন। আর সেখান থেকে আপনি খেলেন জেতার জন্য। আর জেতার জন্য খেলতে হলে, আপনাকে এমন সব কাজ করতে হবে যেটা সত্যিকার অর্থেই জেতাতে সাহায্য করে।' এদিকে বাংলাদেশ দলের দীর্ঘদিনের দুর্বলতা হিসেবে শেষ মুহূর্তে খেই হারানো বা ফিটনেসের অভাবের কথাও খোলাখুলি বললেন তিনি।