ময়মনসিংহের আনন্দ মোহন কলেজের অধ্যক্ষ আমান উল্লাহকে ওএসডি 

ময়মনসিংহের ঐতিহ্যবাহী সরকারি আনন্দ মোহন কলেজের অধ্যক্ষ আমান উল্লাহকে ওএসডি (বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) করা হয়েছে। রোববার (৩ আগস্ট) বিকেল ৪টায় দায়িত্ব হস্তান্তর করে ক্যাম্পাস ত্যাগ করেন তিনি। এ সময় ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন উপাধ্যক্ষ সাকির হোসেন।

এর আগে ৩১ জুলাই শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ থেকে উপসচিব (সরকারি কলেজ-২) আ. কুদদুসের সই করা একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এতে রোববার বিকেলের আগে উপাধ্যক্ষকে অধ্যক্ষ পদের দায়িত্ব হস্তান্তর করতে বলা হয়। আমান উল্লাহকে ২০২১ সালের ৮ আগস্ট অধ্যক্ষ হিসেবে পদায়ন করা হয়েছিল। তিনি একই কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে অধ্যাপনা করে আসছিলেন।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, আমান উল্লাহর বদলিকৃত কর্মস্থল মাউশি অধিদপ্তর। আমান উল্লাহ কলেজের উপাধ্যক্ষ মোহা. সাকির হোসেনের কাছে পদের দায়িত্বভার হস্তান্তরপূর্বক ৩ আগস্ট অপরাহ্ণের আগে বদলিকৃত কর্মস্থলে যোগদান করবেন। অন্যথায় একই তারিখ অপরাহ্ণে তাৎক্ষণিকভাবে অবমুক্ত বলে গণ্য হবে। জনস্বার্থে এই আদেশ জারি করা হয়েছে।

আমান উল্লাহকে মুঠোফোনে একাধিকবার কল করলেও তিনি ধরেননি। নতুন দায়িত্ব নেওয়া ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সাকির হোসেন বলেন, ‘গতকাল বিকেল ৪টার দিকে আমি দায়িত্ব বুঝে পেয়েছি। কলেজে যেন সুন্দর পরিবেশ তৈরি করতে পারি, এ জন্য সবার সহযোগিতা চাই।’

জানা যায়, রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর থেকেই অধ্যক্ষ আমান উল্লাহর বিরুদ্ধে দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহারসহ কলেজ ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ ওঠে। আমান উল্লাহর বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ নিয়ে বিএনপিপন্থী শিক্ষকসহ অনেক শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ বিরাজ করছিল। বলা হচ্ছিল, তিনি আওয়ামী লীগ সমর্থক ও বঙ্গবন্ধু শিক্ষক পরিষদের প্রভাবশালী নেতা।

কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা তার অপসারণের দাবি জানিয়ে বেশ কয়েকবার ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেন। গত ২৫ মে দুপুরে ময়মনসিংহ প্রেসক্লাবের সামনে আনন্দ মোহন কলেজের সাধারণ ছাত্রদের ব্যানারে অধ্যক্ষ মো. আমান উল্লাহর অপসরণের দাবিতে ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন করা হয়। এতে কলেজের অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেন।