রাশিয়ার অর্থনীতিকে পঙ্গু করতে নিষেধাজ্ঞা কাজে না লাগায় পশ্চিমারা হতাশ: রিপোর্ট

রাশিয়ার অর্থনীতিকে পঙ্গু করে দিতে নিষেধাজ্ঞার হাতিয়ার কাজে না লাগার বিষয়টি পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে স্থায়ী হতাশাগুলোর মধ্যে একটি। সোমবার (৪ আগস্ট) দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের সম্পাদকীয় বোর্ডের মতামতে এ কথা বলা হয়েছে।

পত্রিকাটি লিখেছে, 'সাড়ে ৩ বছর আগে পুতিনের ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রায় আক্রমণের পর থেকে রাশিয়ার অর্থনীতিকে পঙ্গু করে দিতে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার অক্ষমতা সবচেয়ে স্থায়ী হতাশাগুলোর মধ্যে একটি। গত বছর রাশিয়ার অর্থনীতি ৪ শতাংশেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে এবং এই বছর আবারও বৃদ্ধি পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যদিও আরও ধীর গতিতে।'

'পুতিন যুদ্ধকালীন ভিত্তিতে তেল ও জ্বালানি রপ্তানির জন্য নতুন বাণিজ্য অংশীদারদের একটি নেটওয়ার্ক তৈরি করে নিষেধাজ্ঞাগুলি কাটিয়ে উঠেছেন' বলেও এতে উল্লেখ করা হয়েছে। 'এর প্রধান গ্রাহক হলো চীন এবং ভারত।'

ওয়াশিংটন পোস্ট আরও বলছে, রাশিয়ার বাজেটের প্রায় অর্ধেক আসে পেট্রোলিয়ামের রাজস্ব থেকে। ভারত রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল রপ্তানির ৩৮ শতাংশ কেনে, অন্যদিকে চীন ৪৭ শতাংশ কেনে। সেই সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও তুরস্ক ৬ শতাংশ করে কেনে।

প্রসঙ্গত, ১ আগস্ট ট্রাম্প ঘোষণা করেন, তিনি রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের পরিকল্পনা করছেন। তবে উল্লেখ করেন, তিনি নিশ্চিত নন, এটি ইউক্রেন সংকট সমাধানের প্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলবে কিনা।

এর আগে ট্রাম্প ইউক্রেন নিয়ে একটি চুক্তির জন্য মস্কোকে ৫০ দিনের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিলেন। তিনি আরও বলেছিলেন, যদি কোনো চুক্তি না হয়, তাহলে তিনি মস্কো এবং তার বাণিজ্যিক অংশীদারদের ওপর ১০০% শুল্ক আরোপ করবেন।

২৯ জুলাই মার্কিন নেতা বলেছিলেন, তিনি সময়সীমা কমিয়ে ১০-১২ দিন করছেন। তবে এবারও তিনি উল্লেখ করেন, এই পদক্ষেপ রাশিয়ার অবস্থানকে প্রভাবিত করবে কিনা, তা তিনি নিশ্চিত নন।

জাতিসংঘে মার্কিন 'বিকল্প প্রতিনিধি' জন কেলির মতে, ট্রাম্প আশা করেন, ৮ আগস্টের মধ্যে রাশিয়া এবং ইউক্রেন একটি শান্তিপূর্ণ সমাধানে পৌঁছাবে।

রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ ৩০ জুলাই বলেছিলেন, পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও রাশিয়ার অর্থনীতি কার্যকরভাবে পরিচালিত হচ্ছে।