জাতীয় পুরস্কার পেলেও উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি বাইমহাটি স্কুলে

জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে রাষ্ট্রপতির কাছ থেকে পুরস্কারপ্রাপ্ত মির্জাপুর উপজেলার বাইমহাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এখন জলাবদ্ধতা, ছাদ চুইয়ে পানি পড়া ও নাজুক অবকাঠামোগত পরিস্থিতির কারণে চরম দুর্ভোগে রয়েছে। এতে পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থী ও শিক্ষক-কর্মচারীরা প্রতিনিয়ত ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সরেজমিনে দেখা যায়, বিদ্যালয়টি রাস্তাঘাট ও উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে নিচু জমিতে অবস্থিত হওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই মাঠে পানি জমে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন পানি পার হয়ে ক্লাসে আসতে হয়।

বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. ফরহাদ হোসেন বলেন, ভবনে বসে পাঠদান করানো বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থীর জন্য অত্যন্ত কষ্টসাধ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। ছাদ চুইয়ে পানি পড়ে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান ব্যাহত হয়।

প্রধান শিক্ষক মো. জসিম উদ্দিন সরকার বলেন, ২০১৮ সালে আমরা জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে রাষ্ট্রপতির পুরস্কার পেয়েছি। ২০১৯ সালেও সেরা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের স্বীকৃতি পাই। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, আজও অবকাঠামোগত উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। মাঠ সারা বছর পানিতে ডুবে থাকে, টয়লেট ও ওয়াশ ব্লকের অবস্থা করুণ, আর ভবনের ছাদে ফাঁটল ধরে পানি পড়ে।

তিনি আরও বলেন, এমন সম্মানজনক পুরস্কার পাওয়া প্রতিষ্ঠানের এমন করুণ দশা জাতির জন্যই লজ্জাজনক।

এ বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা অফিসার জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, বাইমহাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় একটি আদর্শ ও স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এখানে ভবন, মাঠ ভরাট, টয়লেট এবং ওয়াশ ব্লক নির্মাণ জরুরি। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আমাদেরকে লিখিতভাবে জানিয়েছে। আমরা বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিগোচরে এনেছি। বরাদ্দ পেলে দ্রুত কাজ শুরু হবে।

উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে বাইমহাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠান হিসেবে রাষ্ট্রপতির কাছ থেকে পুরস্কার লাভ করে এবং ২০১৯ সালেও একই ক্যাটাগরিতে দেশসেরা নির্বাচিত হয়।