গাজীপুরের শ্রীপুরে মো. নূরুল ইসলাম (৩৫) এক যুবকের বিরুদ্ধে স্ত্রীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার পর ওই দম্পতির চারমাসের শিশুর কান্নার শব্দ পেয়ে এলাকার বাসিন্দারা হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি বুঝতে পারেন। নির্মম এ হত্যাকাণ্ডের জেরে নূরুল ইসলামের ঘরে আগুন দিয়েছে বিক্ষুব্ধ গ্রামবাসী।
বুধাবার (৭ আগস্ট) ভোরে উপজেলার বরমী ইউনিয়নের বরমী মধ্যপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এর আগে মঙ্গলবার দিবাগত রাতে সুইটি আক্তার (২০) নামে ওই নারীকে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
সুইটি ময়মনসিংহ জেলার পাগলা থানার নিগুয়ারী ইউনিয়নের চাকুয়া গ্রামের মৃত আফসারুল ইসলামের মেয়ে। অভিযুক্ত স্বামী মো. নূরুল ইসলাম (৩৫) শ্রীপুর উপজেলার বরমী ইউনিয়নের বরমী মধ্যপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। প্রায় দেড় বছর আগে তাদের বিয়ে হয়। তাদের চার মাসের একটি শিশু রয়েছে।
এ ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত মো. নূরুল ইসলাম পলাতক রয়েছেন। ঘটনায় জড়িত সন্দেহে নূরুলের মা জুবাইদা খাতুনকে (৫২) আটক করেছে পুলিশ।
স্থানীয়রা জানান, মঙ্গলবার রাতে চার মাসের ওই শিশুটির কান্নার শব্দ পেয়ে নূরুল ইসলামের বাড়িতে যান প্রতিবেশীরা। তখন শিশুটির মা সুইটি আক্তারের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন তারা। রাতে এ ঘটনা জানাজানির পর বুধবার ভোরে নূরুল ইসলামের ঘরে আগুন দেয় বিক্ষুব্ধরা। মূলত নূরুলের বিরুদ্ধে মাদক কারবারসহ নানা অভিযোগ ছিল। সুইটি ছাড়াও তার আরও ৩টি স্ত্রী রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
সুইটির মামা জসিম শেখ বলেন, ‘আমার ভাগনিকে ছোটবেলায় মা হারানোর পর এক বোনের কাছে মানুষ করেছি। উচ্চ মাধ্যমিকে পড়ার সময় নূরুল ইসলামের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই মাদকের টাকার জন্য ও নানা বিষয় নিয়ে সুইটিকে নির্যাতন করতো। বুধবার রাত ১০টার দিকে নাজমুল ফোন করে জানান, সুইটি মারা গেছে। খবর পেয়ে আমরা গিয়ে দেখি তার মরদেহ পড়ে আছে, শরীরে মারাত্মক আঘাতের চিহ্ন। দুই পা হাঁটুর নিচ থেকে থেঁতলানো, মাথা ও শরীরজুড়ে একাধিক আঘাতের দাগ। পাশেই তার শিশুটি কাঁদছিল, শরীরেও রক্ত লেগে ছিল, কিন্তু নূরুল নেই।'
নিহতের খালা আকলিমা অভিযোগ করেন, ‘বিয়ের পর থেকেই সুইটিকে নানা কারণে মারধর করতো নূরুল ইসলাম। এত নির্যাতন চালিয়ে শেষমেশ তাকে মেরেই ফেললো। চার মাসের শিশুটি এখন মায়ের দুধের জন্য কাঁদছে।'
শ্রীপুর থানার ওসি মহম্মদ আব্দুল বারিক বলেন, খবর পেয়ে রাতেই ফোর্স পাঠানো হয়েছে। তারা গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেছে। নিহতের শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন ছিল। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পিটিয়ে ও শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্ত নূরুলের বিরুদ্ধে থানায় ৩টি মাদক মামলা আছে। হত্যার পর থেকে সে পলাতক, তাকে ধরতে অভিযান চলছে। ভিকটিমের শাশুড়িকে আটক করা হয়েছে। মামলার প্রস্তুতি চলছে।’