সুনামগঞ্জের হাওরবেষ্টিত দিরাই উপজেলার প্রায় তিন লাখ মানুষের একমাত্র ভরসা দিরাই সরকারি হাসপাতাল। কাগজে-কলমে এটি ৫০ শয্যার হাসপাতাল হলেও বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। চিকিৎসক সংকট, অচল যন্ত্রপাতি, ওষুধের ঘাটতি এবং অব্যবস্থাপনার কারণে রোগীদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।
সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ৫০ শয্যার হাসপাতালে অন্তত ১৫–২০ জন এমবিবিএস চিকিৎসক ও ২০–২৫ জন নার্স থাকার কথা থাকলেও, দিরাই হাসপাতালে বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র ৫ জন চিকিৎসক, ১ জন স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও ১১ জন নার্স। স্থানীয়দের অভিযোগ, কর্মরত চিকিৎসকদের অনেকেই বেশিরভাগ সময় প্রাইভেট চেম্বারে ব্যস্ত থাকেন, ফলে হাসপাতালে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পাওয়া যায় না।
প্রতিদিন শতাধিক রোগী সেবা না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন। এমনকি সাধারণ রোগের ক্ষেত্রেও রোগীদের সিলেট পাঠানো হচ্ছে, যা দরিদ্র হাওরাঞ্চলের মানুষের পক্ষে ব্যয়বহুল ও কষ্টসাধ্য।
হাসপাতালে এক্স-রে মেশিন দুই দশক ধরে অচল, প্যাথলজি বিভাগ কার্যত বন্ধ, বিদ্যুৎ বিভ্রাটে জেনারেটরও কাজ করে না। ওষুধ সংকট এতটাই প্রকট যে, রোগীদের প্রায় সব ওষুধ বাইরের ফার্মেসি থেকে কিনতে হয়।
এ নিয়ে এক অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “যখন সব ওষুধ বাইরেই কিনতে হয়, তখন সরকারি হাসপাতালে আসার মানেটা কী?”
স্থানীয়দের দাবি, হাসপাতালের সেবার মান উন্নয়নে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। জনবল নিয়োগ, যন্ত্রপাতি মেরামত ও ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত না করলে হাওরাঞ্চলের মানুষ স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিতই থেকে যাবে।
এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শংকর চন্দ্র দাস বলেন, “হাসপাতালে জনবল সংকট অত্যন্ত প্রকট। আমরা বারবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জনবল বৃদ্ধির অনুরোধ জানিয়েছি। আশা করছি, জনবল বাড়লে সেবার মান উন্নত হবে এবং রোগীদের দুর্ভোগও কমবে।”