সদরঘাটে লঞ্চকর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষে ৯ শিক্ষার্থী আহত, লঞ্চ চলাচলে বিঘ্ন

পুরান ঢাকার সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি), কবি নজরুল কলেজ ও সোহরাওয়ার্দী কলেজের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সুন্দরবন-১২ লঞ্চের কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত নয়জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার রাত আটটার দিকে সদরঘাটের ১ নম্বর টার্মিনালে এ ঘটনা ঘটে। পরে উত্তেজিত শিক্ষার্থীরা লঞ্চটি ঘেরাও করে ভাঙচুর চালালে ঢাকা-বরিশাল রুটে লঞ্চ চলাচল ব্যাহত হয়, ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, জবির ফিন্যান্স বিভাগের ১৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থী নাবিল বরিশালগামী সুন্দরবন-১২ লঞ্চে উঠলে লঞ্চকর্মীরা তাকে জোর করে কেবিন ভাড়া নিতে বলেন। নাবিল রাজি না হলে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে তাকে মারধর করা হয়। খবর পেয়ে তার সহপাঠী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়ররা ঘটনাস্থলে গেলে তাদেরও লঞ্চকর্মীরা লাঞ্ছিত করেন।

আহত শিক্ষার্থীরা হলেন—নাবিল (ফিন্যান্স, ১৮তম ব্যাচ), শের আলী (আইএমএল, ১৮তম ব্যাচ), ব্রজ গোপাল রায় (সংগীত বিভাগ, ১৬তম ব্যাচ), জিলন (এমসিজে, ১৮তম ব্যাচ), ইমরোজ সিদ্দিক (আইন, ১৯তম ব্যাচ), আনিছ (থিয়েটার, ১৯তম ব্যাচ), টিঙ্কু (ফিলোসফি, ১৮তম ব্যাচ), মাকসুদুল হক (ইসলামিক স্টাডিজ, ১৪তম ব্যাচ), রিহাব (কবি নজরুল কলেজ) এবং মুজাহিদ (সোহরাওয়ার্দী কলেজ)। আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে সুমনা হাসপাতালে।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, এ হামলায় জড়িত ছিলেন সদরঘাটের ইজারাদার এবং দক্ষিণাঞ্চল শ্রমিক দলের আহ্বায়ক সুমন ভূঁইয়ার ঘনিষ্ঠ কিরণ ও তার সহযোগীরা—আজিজুল, রমজান, আনিছ, রফিক, কাদের, রাব্বি ও সাগর।

ঘটনার পর ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা সুন্দরবন-১২ লঞ্চ ঘেরাও করে ভাঙচুর চালান। এতে ঢাকা-বরিশাল রুটে লঞ্চ চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে এবং যাত্রীরা আতঙ্কে পড়েন। বরিশালের যাত্রী রাজীব বলেন, "এক শিক্ষার্থীকে মারধরের পর আমরা আতঙ্কে পড়ে যাই। এখন টিকিট কেটেও লঞ্চ ছাড়বে কি না বুঝতে পারছি না।"

ঘটনার পর অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। এখন পর্যন্ত চারজনকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন কোতোয়ালি থানার ওসি মনিরুজ্জামান। তিনি বলেন, "শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা-কাটাকাটি থেকে ঘটনা শুরু হয়। মামলা হলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. তাজাম্মুল হক বলেন, "সদরঘাটের ঘটনা সম্পর্কে জানার পর ঘটনাস্থলে আসি। সমস্ত কিছু বিবেচনা করে শিক্ষার্থীরা পাঁচ দাবি জানিয়েছে। তাদের দাবি মানা শর্তে এ ঘটনার সুরাহা হবে।"

তাদের দাবিগুলো হলো: কিরণকে দ্রুত সময়ে এরেস্ট করতে হবে; তার সহযোগীকে এরেস্ট করা; সিসিটিভি ফুটেজ চেক; ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের মোবাইল মানিব্যাগ ক্ষতিপূরণ; সাধারণ মানুষের হয়রানি ও কুলিদের অতিরিক্ত টাকা আদায় বন্ধ করতে হবে।