তুহিন হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে ঢাকায় সাংবাদিকদের হুঁশিয়ারি বার্তা 

গাজীপুরে সাংবাদিক আসাদুজ্জামান তুহিনকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় গোটা সাংবাদিক সমাজ ক্ষোভে ফেটে পড়েছে। তুহিন হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে ঢাকায় ডিজিটাল রিপোর্টার্স ফোরামসহ, মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন, জুলাই রেভল্যুশনারি জার্নালিস্ট অ্যালায়েন্স ও বিক্ষুব্ধ সাংবাদিকদের যৌথ উদ্যোগে এক মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়।

শুক্রবার (৮ আগস্ট) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে উপস্থিত বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও হত্যার ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বেড়ে চলেছে। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বিচার হয় না, আর এই দায়মুক্তির সংস্কৃতিই নতুন হত্যাকাণ্ডকে উৎসাহ দিচ্ছে। তারা তুহিন হত্যার দ্রুত বিচার দাবি জানান।

526808157_1987042008726417_3302055662795104996_n

এসময় উপস্থিত সাংবাদিকবৃন্দ তাদের বক্তব্যে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, “যদি দ্রুত সময়ের মধ্যে হত্যাকারীদের গ্রেফতার ও বিচার না হয়, তাহলে সারাদেশে সাংবাদিক সমাজ দুর্বার আন্দোলনের পথে নামবে। এবার আর পিছু হটবে না”

ডিজিটাল রিপোর্টার্স ফোরামের সিনিয়র সহসভাপতি এবং এটিএন বাংলার সিনিয়র রিপোর্টার আলী আজগর ইমন বলেন, “ আমরা সারাদেশের আন্দোলনের খবর প্রচার করি, আর আজকে আমরা আমদের সহকর্মীর হত্যার বিচারের দাবিতে নিজেরাই আন্দোলনে নেমেছি, এর চেয়ে দুঃখজনক আর কিছু হতে পারে না। যারা জিজ্ঞাসা করে ভালো সাংবাদিক হতে কি করতে হবে, আমি বলি ভাল সাংবাদিক হইয়ো না। কারণ আমাদের দেশের ভালো সাংবাদিকরা গুম, খুন ও হত্যার শিকার হতে হয় অথবা জীবন বাঁচাতে দেশ ছেড়ে চলে যেতে হয়। আমি আফসোস করে বলি এদেশে কোনো দিন ভালো সাংবাদিক জন্ম নিবে না। আমি হুঁশিয়ারি করে বলতে চাই, গুম, খু্‌ন, ও হত্যা করে আমাদের থামাতে পারবে না।” 

ঢাকা পোস্টের মাল্টিমিডিয়া ইনচার্জ সাইফুল ইসলাম বলেন, “এই সরকার শুধু রাজনৈতিক দলগুলো মামলা প্রত্যাহার ও বিচারের জন্য ক্ষমতায় এসেছে। দীর্ঘ এক যুগেও সাগর রুনি সহ কোনো সাংবাদিক হত্যার বিচারের কোনো অগ্রগতি করে নাই। প্রবাসী সাংবাদিকদের মিথ্যা মামলাগুলো নিয়েও কোনো সুরাহা করে নাই। অনিবিলম্বে দাবি জানাই, এই সরকার যে সকল সাংবাদিকরা হত্যাকান্ডের শিকার হয়েছে তাদের বিচার অতিদ্রুত করবে।”

মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও যুগান্তরের চিফ মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার ফখরুল ইসলাম বলেন, “তুহিন হত্যাকাণ্ড কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, এটি ধারাবাহিক দমন-পীড়নের অংশ। সাংবাদিকদের চাকরি হারানো, গুম হওয়া, এমনকি খুন হওয়া—এসব এখন নিত্যদিনের ঘটনা। আমরা আর চুপ থাকব না। সরকার যদি দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না দেয়, তবে আন্দোলন অনিবার্য।”

জনকণ্ঠের ডেপুটি চিফ রিপোর্টার ইসরাফিল ফারাজি বলেন, “প্রতিটি হত্যার বিচারহীনতা নতুন হত্যার পথ খুলে দিচ্ছে। আমরা এর অবসান চাই। তুহিন হত্যার বিচার হতেই হবে।”

দেশটিভির রিপোর্টার হাসান মাহমুদ বলেন, “এত নির্মমভাবে সাংবাদিক তুহিনকে প্রকাশ্যে হত্যা করা হয়েছে, আমাদের সিনিয়ররা এখন পর্যন্ত একটা বিবৃতি দেয়ার সাহস পাচ্ছে না। আমি বলবো আপনি আপনার মেরুদন্ডটা হাত দিয়ে দেখেন আপনার কাছে আছে কি না? এখানে সাংবাদিকদের হত্যার মাধ্যমে রাষ্ট্রকে ব্যর্থ করার চেষ্টা চলছে। রাষ্ট্রের এই চতুর্থ স্তম্বকে ধমন করলে রাষ্ট্র ব্যবস্থা ভেঙ্গে পরবে। আমরা চায় সরকার এসব হত্যাকান্ডের সুষ্ঠু বিচার করবে”

মানববন্ধনে আরও বক্তব্য রাখেন: জিআরইউ-র সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল ইসলাম, সাংবাদিক অন্তু মোজাহিদ (কালবেলা), হাকিম মাহি (একুশে টেলিভশন), মাহমুদ হাসান ও তাওহিদ (নিউজ টুয়েন্টিফোর), নাহিস প্রিন্স (এনটিভি), আকরাম হোসেন (কালবেলা), সাইমুন মুবির পল্লব (বাংলা নিউজ), সাইফুল ইসলাম (ঢাকা পোস্ট), রাজু আহমেদ (বার্তা টোয়েন্টিফোর), নাইম (যায়যায়দিন), রায়হান হোসেন (কালেরকন্ঠ), সজল আহমেদ (ফেইস দ্য পিপল), আজহারুল ইসলাম (বাংলাদেশ প্রতিদিন),  এবং সাদিয়া ইসলাম (ডেইলি ক্যাম্পাস) সহ আরও অনেক সাংবাদিকবৃন্দ।