আরেকটা ইতিহাস গড়ার দ্বারপ্রান্তে আফঈদারা। এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ নারী এশিয়ান কাপের বাছাইয়ের দুই ম্যাচ শেষে গ্রুপে এগিয়ে বাংলাদেশ, আর এখন সামনে সবচেয়ে বড় পরীক্ষা দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে শেষ ম্যাচ। জয়-ড্র পেলেই তাদের নিয়ে যাবে এশিয়ান কাপের মূল পর্বে। এই টুর্নামেন্টেও আগে কখনও খেলেনি বাংলাদেশ। অর্থাৎ আজকে বাটলারের শিষ্যদের লড়াই হার এড়ানোর।
এমন সমীকরণ নিয়েই আজ বিকাল ৩টায় বাছাইয়ের শেষ ম্যাচে শক্তিশালী প্রতিপক্ষ দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে মাঠে নামবে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। এই ম্যাচ নিয়েও আত্মবিশ্বাসী আফঈদা-তৃষ্ণারা। নজর জয়েই। তবে হারলেও সম্ভাবনা থাকবে মূলপর্বে যাওয়ার। তবে সেক্ষেত্রে কষতে হবে জটিল অঙ্ক।
এশিয়ার নারী ফুটবলে দক্ষিণ কোরিয়া মানেই এক অদম্য শক্তি। বয়সভিত্তিক এই টুর্নামেন্টের দুই শিরোপা রয়েছে তাদের ঝুলিতে। সবশেষ আসরেও ছিল সেরা চারে। এছাড়া নিয়মিত বিশ্বকাপ খেলোয়াড়দের সরবরাহকারী দল, আর বাছাইপর্বে প্রতিপক্ষকে গুঁড়িয়ে দেওয়ার অভ্যাস তাদের পুরোনো। সেই ধারাবাহিকতা দেখা গিয়েছিল তাদের চলমান এই বাছাইয়েরও। এইচ গ্রুপেও শুরুটা করেছে ভয় ধরানো প্রথম ম্যাচেই তিমোর লেস্তেকে ৯-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে। যদিও দ্বিতীয় ম্যাচে স্বাগতিক লাওসের বিপক্ষে পেয়ে ১-০ গোলের কষ্টার্জিত জয়।
অন্যদিকে বাংলাদেশও দেখিয়েছে নিজেদের ধার। প্রথম ম্যাচে স্বাগতিক লাওসকে ৩-১ গোলে হারানোর পর তিমোর লেস্তের বিপক্ষে গোলের উৎসব ৮-০ ব্যবধানের দাপুটে জয়। দুই দলের সমান জয়ে আজকের ম্যাচ হয়ে উঠেছে গ্রুপ সেরা হওয়ার ফয়সালার লড়াই। যেখানে কাগজে কলমে দক্ষিণ কোরিয়া এগিয়ে থাকলেও, সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সে চ্যাম্পিয়নদের চোখ রাঙাচ্ছে লাল- সবুজের মেয়েরা।
আজকের কঠিন ম্যাচের আগে শনিবার কোনো অনুশীলন করেনি বাংলাদেশ। কাটিয়েছে রিকভারি ডে হিসেবে। সকালে খেলোয়াড়রা স্ট্রেচিং, জিম ও পুল সেশনে অংশ নেয়। পরে সন্ধ্যায় খেলোয়াড়দের সঙ্গে কোচ শক্তিশালী প্রতিপক্ষকে রুখে দেওয়ার পরিকল্পনা সাজিয়েছেন। গতকাল ভিডিও বার্তায়
এমনটি জানিয়েছেন দলের সহকারী কোচ মাহমুদা আক্তার অন্যন্যা।
এছাড়া গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ নিয়ে তিনি বলেন, 'লাওসে প্রথম দুই ম্যাচে ভালো খেলে মাঠ থেকে জয় পেয়েছি। আরেক ম্যাচ রয়েছে। প্রতিপক্ষ দক্ষিণ কোরিয়া যদিও অনেক শক্তিশালী দল। তবে আমরা আশা করছি ভালো কিছু করার। সবাই দোয়া করবেন এই ম্যাচে যেন আমরা ভালো করে, আরেকটা হাসিসহ ভালো কিছু নিয়ে যেন দেশে ফিরতে পারি।'
চলমান বাছাইয়ে মূল পর্বে জায়গা নিতে বাছাইয়ে অংশ নিয়েছে ৩২ দল, যাদের ভাগ করা হয়েছে আট গ্রুপে। এখান থেকে প্রতি গ্রুপের চ্যাম্পিয়নের পাশাপাশি সেরা তিন রানার্স আপ দল আগামী বছর চূড়ান্ত পর্বে খেলবে। গতকাল পর্যন্ত আট গ্রুপেই প্রতিটি দল দুইটি করে ম্যাচ খেলেছে। এতে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন ও সম্ভাব্য তিন রানার্স আপের হিসাব-নিকাশ চলছে নানা দেশের ফুটবলাঙ্গনে।
বাংলাদেশ খেলছে সর্বশেষ এইচ গ্রুপে। এই গ্রুপে শক্তিশালী দক্ষিণ কোরিয়া থাকলেও টেবিলে সুবিধাজনক অবস্থানে বাংলাদেশেই। দুই দলেরই, দুইটি করে সমান ৬ পয়েন্ট। গোল ব্যবধানও ১০। তাতে আজকের ম্যাচ তাহলে বাংলাদেশই এইচ চ্যাম্পিয়ন হবে। কারণ বাইলজ অনুযায়ী, একাধিক সমান যদি ড্র হয় টুর্নামেন্টের দলের সমান পয়েন্ট হলে হেড টু হেড বিবেচনায় আসবে। আজকের ম্যাচ ড্র হলে হেড টু হেডের হিসাব সমান থাকবে। এরপর গ্রুপের মধ্যে গোল ব্যবধান সেটাও সমান। তখন বাইলজের ৭.২.২.৬ ধারা অনুযায়ী, বেশি গোলের হিসাব হবে।
বাংলাদেশ দুই ম্যাচে করেছে ১১ গোল আর কোরিয়া ১০। এতে বাংলাদেশ গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হবে। আর জয় পেলে তো হিসাব পানির মতো পরিষ্কার। তবে হারলেও আফঈদাদের সুযোগ থাকবে মূল পর্বে খেলার। কিন্তু সেটার জন্য তাকিয়ে থাকতে হবে বাকি সাত গ্রুপের দিকে। কারণ সব খেলা শেষ হলে হিসাব হবে সেরা তিন রানার্স আপ দল।