শুধুমাত্র বাঙালি হওয়ার কারণে পশ্চিমবঙ্গের কলকাতার এক প্রযুক্তিবিদ ও তার ১৪ বছর বয়সী ছেলেকে ভারতের উত্তরপ্রদেশের নয়ডার একটি হোটেলে থাকার অনুমতি দেওয়া হয়নি।
মঙ্গলবার (১২ আগস্ট) ভারতের শহরের ৪৪ নম্বর সেক্টরে ‘মীরা এটারনিটি’ নামের একটি হোটেলে এ ঘটনা ঘটেছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া এ খবর জানিয়েছে।
প্রতিবেদন অনুসারে, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম 'ওয়ো'র মাধ্যমে মীরা এটারনিটি নামের হোটেলে বুকিং দিয়ে রেখেছিলেন তারা। সেখানে দুই রাত থাকার কথা ছিলো। কিন্তু পৌঁছানোর পর রিসিপশনিস্ট তাদের ভেতরে ঢুকতে দিতে অস্বীকৃতি জানায়।
বাঙালি ওই ব্যক্তি টাইমস অব ইন্ডিয়াকে বলেন, ‘আমার ছেলে জাতীয় পর্যায়ের স্কেটার। ওর প্রতিযোগিতার জন্য আমরা নয়ডা যাই। আগে থেকে বুকিং দিয়ে রাখা সত্ত্বেও হোটেলে ঢুকতে গেলে রিসিপশনিস্ট আমাদের বাধা দেয়। জানায়, প্রশাসন নাকি তাদের ১৫ আগস্ট স্বাধীনতা দিবসের নিরাপত্তা নিশ্চিতে বাংলাদেশ, পাঞ্জাব আর কাশ্মীর থেকে আগতদের থাকতে না দেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছে। এমন কথা শুনে আমি রীতিমতো অবাক হয়ে যাই।’
তিনি জানান, যখন তিনি রিসিপশনিস্টকে বলেন, তিনি বাংলাদেশি নন, পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা; তখন রিসিপশনিস্ট বলেন, ‘ওই একই কথা। বাঙালি আর বাংলাদেশির মধ্যে পার্থক্য নেই।’
নয়ডা শহরের এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘হোটেলগুলোকে বলা হয়েছে বাংলাদেশ থেকে আসা ব্যক্তিদের আইডি ও অন্যান্য কাগজপত্র ভালোভাবে দেখে নিতে। এছাড়া অন্য কোনো ধরনের নিষেধাজ্ঞা বা নির্দেশনা দেওয়া হয়নি।’
এই ঘটনায় 'ওয়ো' কর্তৃপক্ষ ক্ষমা চেয়ে বিবৃতি দিয়েছে এবং 'মীরা ইটারনিটি' হোটেলটিকে তাদের প্ল্যাটফর্ম থেকে সরিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি তদন্ত শুরু করেছে।
প্রসঙ্গত, ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে বাঙালিদের ওপর জাতিবিদ্বেষ ক্রমশ বেড়েই চলেছে। বার বার চরম হেনস্থার মুখে পড়ছেন বাংলাভাষীরা।
এমএইচএস