পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার কালাইয়া সোমবারের হাটে মাছ ধরার ঐতিহ্যবাহী যন্ত্র পলো নিয়ে বসেছিলেন বাহিরদাসপাড়া গ্রামের সহিদুল মিয়া। বেচাকেনা কেমন চলছে জানতে চাইলে হালকা হতাশার সঙ্গে তিনি বলেন, এখন আর পলোর কদর নাই। আগের মতো চলে না।
বাঁশ ও বেত দিয়ে তৈরি, তলা-বিহীন কলসির মতো দেখতে মাছ ধরার এই যন্ত্রটির নাম পলো। এর গায়ে ছোট ছোট ফাঁকাকৃতির জানালার মতো ছিদ্র থাকে। এক সময় বর্ষাকালে যখন কোলা-বিল পানিতে ডুবে যেত, তখন পুকুর, খাল, বিলের দেশীয় মাছ ধরতে পলোর ব্যাপক ব্যবহার ছিল। কিন্তু আধুনিক মাছ ধরার নানা প্রযুক্তির যুগে এই যন্ত্রটির চাহিদা দিন দিন কমে গেছে।
পলোর কারিগর সহিদুল মিয়া জানান, পলো বিভিন্ন আকৃতির হয়ে থাকে। আকৃতি অনুযায়ী দাম নির্ধারণ করা হয়। এক হাত, দেড় হাত ও দুই হাত সাইজের পলো তৈরি করেন তিনি। এর মধ্যে দুই হাত মাপের একটি পলো বিক্রি হয় ১,৮০০ থেকে ২,০০০ টাকায়। কখনও কখনও এর চেয়ে বেশি দামেও বিক্রি হয়। এক একটি পলো বিক্রিতে খরচ বাদে ৩০০ থেকে সর্বোচ্চ ৬০০ টাকা পর্যন্ত লাভ হয়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এক সময় বাউফলের দাসপাড়া গ্রামে শতাধিক পরিবার পলো তৈরি করে জীবিকা নির্বাহ করত। কালের আবর্তে এই পেশা আজ প্রায় বিলুপ্তির পথে। বর্তমানে গ্রামের মাত্র ১০ থেকে ১২টি পরিবার কোনো রকমে এই শিল্প টিকিয়ে রেখেছে।
বাউফল পৌর শহরের প্রবীণ বাসিন্দা ও অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা আব্দুস সালাম বলেন, ২০–২৫ বছর আগেও এলাকায় প্রচুর জলাশয় ছিল। বর্ষায় যখন কোলা-বিলে পানি জমত, তখন দলবেঁধে পলো নিয়ে মাছ শিকার করত মানুষ। দেশি প্রজাতির রুই, কাতলা, মৃগেল, বোয়াল, কালিবাউসসহ নানা মাছ ধরা পড়ত। পলো দিয়ে মাছ ধরতে গিয়ে আমরা শ্লোগান দিতাম ‘ঝপ ঝপাঝপ পলো বাও, মজার মজার মাছ খাও।’ এখন আর সেই জলাশয় নেই, নেই আগের মতো মাছও। আর পলো? সেটাও হারিয়ে যেতে বসেছে।