শ্রেষ্ঠত্বের সনদ পেলেও উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত বাইমহাটি বিদ্যালয়

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরের শ্রেষ্ঠ প্রাথমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও রাষ্ট্রপতি পুরস্কারপ্রাপ্ত ২৩নং বাইমহাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে জলাবদ্ধতাসহ নানান সমস্যায় ভোগান্তিতে পড়েছেন শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা।

মাঠে পানি জমে থাকায় শিশু শিক্ষার্থীরা কষ্টে পড়াশোনা করছে। এছাড়া ভবনের ছাদ দিয়ে পানি ঝরা, শিক্ষক স্বল্পতা, শ্রেণিকক্ষ ও টয়লেট সংকটের কারণে ৫ শতাধিক শিক্ষার্থীর জন্য শিক্ষার অনুকূল পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে।

উক্ত বিদ্যালয়ে নার্সারী থেকে ৫ম শ্রেনী পর্যন্ত বিদ্যালয়ে পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থী রয়েছে। পড়াশোনার মান অত্যান্ত সন্তোষ জনক। বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষিকা হোসনেয়ারা বেগমের সার্বিক প্রচেষ্টায় ২০১৮ সালে ঝড়েপড়া রোধে বিদ্যালয়টি সারা দেশের মধ্যে শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠান নির্বাচিত হয়ে পুরষ্কার লাভ করে। একই ভাবে ২০১৯ সালে সার্বিক ভাবে সারা দেশের মধ্যে শ্রেষ্ঠ প্রাথমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নির্বাচিত হয়ে রাষ্ট্রপতির নিকট থেকে পুরষ্কার প্রাপ্ত হন। উপজেলা প্রশাসন, শিক্ষকমন্ডলী, অভিভাবক, ম্যানেজিং কমিটি ও শিক্ষাদের সমন্মিত  প্রচেষ্টা ও সার্বিক সহযোগিতায় শিক্ষার গুণগত মানউন্নয়ন, সাংস্কৃতিক চর্চা ও খেলাধুলায় বিদ্যালয়টির সুনাম রয়েছে। তবে বর্তমানে দীর্ঘ দিনেও বিদ্যালয়ের অবকাঠামোর উন্নয়ন না হওয়ায় নানা সমস্যায় জর্জরিত বাইমহাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি।

সম্প্রতি বিদ্যালয়ের সমস্যা সমাধানে টাঙ্গাইলের জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার (ডিপিও) মো. সাহাব উদ্দিন, মির্জাপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোছাম্মত জান্নাতুল ফেরদৌস ও সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার শমিষ্টা রায় বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করেন। তারা পরিদর্শন শেষে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে অর্থ বরাদ্দের মাধ্যমে দ্রুত সমস্যার সমাধানের আশ্বাস দেন।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. জসিম উদ্দিন সরকার জানান, বাইমহাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় দেশ সেরা প্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতি পেলেও অবকাঠামোগত উন্নয়ন হয়নি। মাঠে সামান্য বৃষ্টি হলেই জলাবদ্ধতা হয়, দুটি ভবনের ছাদ দিয়ে পানি পড়ে। শিক্ষার্থীরা চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে। মাঠ ভরাটসহ দ্রুত অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রয়োজন।

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোছাম্মত জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, বিদ্যালয়টির মান ও ফলাফল সন্তোষজনক হলেও দীর্ঘদিনের সমস্যা রয়েছে। বিদ্যালয়টি মুল সড়ক এবং উপজেলা পরিষদ চত্তর থেকে নিচু হওয়ায় বৃষ্টি হলে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। বিষয়টি উর্ধ্বতন কতৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। ইতিমধ্যে জেলা শিক্ষা অফিসার সরেজমিন পরিদর্শন করেছেন। বরাদ্দ পেলে উন্নয়নের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ বি এম আরিফুল ইসলাম জানান, বিদ্যালয়ের জলাবদ্ধতাসহ বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে উপজেলা প্রশাসন ও শিক্ষা কর্মকর্তারা একসঙ্গে কাজ করছেন। বরাদ্দ সাপেক্ষে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।