চুক্তির অর্থ না পাওয়ায় বসুন্ধরা কিংসের বিরুদ্ধে ফিফায় অভিযোগ করেন ক্লাবটির সাবেক রোমানিয়ান কোচ ভ্যালেরিও তিতা ও ফরাসি ট্রেইনার খলিল চাকরৌন। তাদের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেছে বিশ্ব ফুটবল সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা।
ফুটবলে কোনো কোচ বা খেলোয়াড় চুক্তির পাওনা অর্থ না পেলে তিনি ফিফার কাছে অভিযোগ করতে পারেন। তখন প্রক্রিয়াটা সাধারণত পাঁচটি ধাপে সম্পন্ন করে ফিফা।
শুরুতে সংশ্লিষ্ট কোচ বা খেলোয়াড়কে ফিফার প্লেয়ারস স্ট্যাটাস চেম্বার (পিএসসি) বা ডিসপুট রেজল্যুশন চেম্বারে (ডিআরসি) প্রয়োজনীয় প্রমাণ (চুক্তি, ব্যাংক স্টেটমেন্ট, বকেয়া অর্থের হিসাব) যুক্ত করে লিখিত অভিযোগ করতে হয়।
অভিযোগের ওপর ভিত্তি করে তদন্তে নামে ফিফা। প্রথমে উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনা হয়। এরপর ক্লাবকে উত্তর দেওয়ার জন্য নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দেয় ফিফা।
তিতা ও চাকরৌনের অভিযোগ পর্যালোচনার পর বসুন্ধরা কিংসকে জবাব দেওয়ার জন্য ২৭ আগস্ট পর্যন্ত সময় দিয়েছে। দেশের একটি সংবাদমাধ্যমকে নিজেই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তিতা।
বর্তমানে মানের ক্লাব আল-সিবের কোচ হিসেবে কাজ করছেন তিতা। তিনি বলেন, ‘অভিযোগটি এখন তদন্ত পর্যায়ে। আমার আইনজীবী জানিয়েছেন, ফিফা আমাদের মামলার বিষয়টি নিয়ে ক্লাবের কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছে। তারা কিংসকে ২৭ আগস্টের মধ্যে জবাব দিতে বলেছে।’
কিংসের কাছে টাকা পাওয়া প্রসঙ্গে তিতা আরও বলেন, ‘তারা (কিংস) আমার তিন মাসের বেতন ও বোনাস দেয়নি। বিমানভাড়াও আমি নিজের পকেট থেকে দিয়েছি। একইভাবে ফিটনেস ট্রেইনার তিন মাসের বেতনের সঙ্গে বোনাসও পাবে।’
কিংসের ব্যাখ্যা পাওয়ার পর রায় ঘোষণা করবে ফিফা। যদি কোচের দাবি প্রমাণিত হয়, তবে ফিফা ক্লাবকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বকেয়া পরিশোধ করতে বলবে। ওই সময়ের মধ্যে তিতা ও চাকরৌনের পাওনা কিংস পরিশোধ না করলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেবে বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।
অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী, তিন রকমের শাস্তি হতে পারে কিংসের। ট্রান্সফার ব্যান, অর্থাৎ নতুন খেলোয়াড় দলভুক্তিতে নিষেধাজ্ঞা, লিগে পয়েন্ট কেটে নেওয়া ও লিগ থেকে অবনমন।
তবে এমন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বসুন্ধরা কিংস যদি প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ উত্থাপন করতে পারে এবং অভিযোগ ভুল প্রমাণিত হয়, তাহলে আবেদন খারিজ করে দেবে ফিফা।