রাঙামাটিতে অবস্থিত ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠি ইন্সটিটিউট যাদুঘরটি ঐতিহ্যের পাঠশালা। যাদুঘরটির প্রচারের অভাবে অনেক পর্যটক এ জেলায় আসলেও ঐতিহ্যের গন্ধ গায়ে না মাখিয়ে চলে যায়। জেলা শহরের ভেদভেদী এলাকার সেনাবাহিনীর ক্যান্টেনম্যান্ট পাশ্ববর্তী সাড়ে তিন একর জায়গা জুড়ে পাহাড়ি টিলার উপর অবস্থিত এ যাদুঘর। এ যাদুঘর দেখতে আপনাকে প্রবেশ ফি ২০টাকা দিয়ে টিকিট কেটে প্রবেশ করতে হবে। সাপ্তাহিক শনিবার এবং রোববার বন্ধ রাখা হয় যাদুঘরটি।
স্বাগত যুবকদ্বয়
ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্টি ইন্সটিটিউটে প্রথম ফটকে প্রবেশ করলে প্রতিদিন দর্শনার্থীদের স্ব-সংস্কৃতিতে স্বাগত জানাচ্ছে একদল মূর্তীমান যুবক। বলে উঠে তারা ‘রিকুবাইয়া’ (মারমা ভাষা) নমস্কার ( সালাম) বলে। অনেক দর্শনার্থী ফটকে প্রবেশের সাথে সাথে বলে উঠে এরা স্বাগত যুবক।
শিলা পাথরের ফোয়ারা
বিকেল হওয়ার সাথে সাথে এ শিলা পাথরের জল ফোয়ারা যখন বইয়ে যায় তখন মন মিতালী শিহরিত হয়। একটু দুষ্টুর ছলে হলেও শরীরটা ভিজাতে এই মন চাইবে।
খুমী সম্প্রদায়
পার্বত্যঞ্চলে এক সময় খুমি সম্প্রদায় দেখা গেলেও কালের বিবর্তনে এ সম্প্রদায় এখন বিলীনের পথে। যদি এ সম্প্রদায়ের সংস্কৃতি উপলব্দি করতে হলে এ যাদু নগরীতে একবার ডুব দিয়ে আসতে হবে। সম্প্রদায়টির কৃষ্টি-কালচার এ যাদুঘরে রক্ষিত আছে। গেলে দেখতে পাবেন।
বাদ্য যন্ত্র
পূর্ণিমা রাতে চাঁদের আলো গায়ে মাখিয়ে রাতের নেশায় প্রশান্তির ছোঁয়া পেতে হলে এ বাদ্য যন্ত্রের সাথে মিতালী হয়ে একটু গান হয়ে যাক....নচাং জেবাং এ..জাগান ছাড়ি, ইদু আগং জনামানভুরি, এ জাগানত রইয়্যিদে... মোর পরাণা..ন....জুড়ি। (আমি এ জায়গা ছেড়ে যেতে চাইনা, এখানে আছি সারা জীবন, এ জায়গাতে রয়েছে আমার প্রাণ জড়িয়ে)। বর্তমান প্রযুক্তি যুগে বাদ্য যন্ত্রের ব্যবহারে আধুনিকতার ছোঁয়া লাগলেও এখানে ঐতিহ্যবাহী বাদ্যযন্ত্রগুলো রক্ষিত আছে। সঙ্গীত প্রেমীরা এখানে আসলে অজানা অনেক বাদ্য যন্ত্রের সাথে পরিচিত হতে পারবেন।
কোমর তাঁত
যন্ত্রের কাছে হার মেনেছে কোমর তাঁত। এখন কোমর তাঁত নেই বললেই চলে। এখন আর সচারচর পাহাড়ি ললনরা কোমর তাতে কাপড় তৈরি করে না। তাতে কি হয়েছে এখনো বিশেষ অনুষ্ঠানে এ হস্ত শিল্পের কোন বিকল্প নেই। পাহাড়ি ললনাদের ভাল বধূর তকমা গায়ে লাগাতে হলে এ শিল্প ধারণ করতে হয়। তাই যাদুঘরে রক্ষিত আছে এমন কোমর তাঁত।
ঐতিহ্যর টংঘর
এ টং ঘরের তেমন আর দেখা মিলে না। যুগের বিবর্তনে টংঘর দিনদিন বিলীন হয়ে যাচ্ছে। যদি দূর্গম পাহাড় পাড়ি দেওয়া যায় তাহলে দেখা যেতে পারে এ ঐতিহ্যর টংঘর। দূর পাহাড়ে না যেয়েও এখানে রাখা সেই টং ঘর দেখে নিতে পারেন।
বাঁশ-বেতের পণ্য
এক সময় পাহাড়িরা বাঁশ-বেতের জিনিসিপত্র ব্যবহার করলেও আধুনিকতার সাথে তারাও তাল মিলিয়ে প্লাস্টিক আর সিরামিকের জিনিস ব্যবহার করছে। বর্তমানে এ হস্ত শিল্প হারিয়ে যেতে বসেছে। হারিয়ে যাওয়া বাঁশ-বেতের নানা সামগ্রী এখানে সংরক্ষিত আছে। চোখ খুলে পরিচিত হতে পারেন হারিয়ে যাওয়া এসব পণ্য সামগ্রীর সাথে।
পাহাড়ি পরী
ভরা জোৎস্নায় নির্ঘুম রাতে যদি আড্ডা দেওয়ার মতো কেউ না থাকলে এ পাহাড়ি পরীদের সাথে সময় কাটিয়ে দিতে পারেন রাতভর। লিখতে পারেন অসংখ্য কবিতা-গান কিংবা গল্প।
রেস্ট হাউজ
এ ভবন কোন স্বাভাবিক ভবন নই। এখানে থাকতে হলে কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে অনুমতি পত্র পেতে হবে। এ ত্বিতল ভবনে ৪০ টি বেড রয়েছে থাকার জন্য। প্রতি রাতে প্রতিটি বেডের ভাড়া গুণতে হবে ১২০ টাকা করে।
প্রকৃতির খোলা মঞ্চ ও মিলনায়তন
প্রকৃতির খোলা আকাশের নিচে, সবুজ ঘাসে যদি কোন অনুষ্ঠান করতে চাইলে এ মঞ্চের কোন জুড়ি নেই। এছাড়া এ যাদু নগরীতে ২০০ আসনের একটি মিলনায়তন রয়েছে । কর্তৃপক্ষকে একটি নির্ধারিত ফি জমা দিয়ে অনুষ্ঠান করতে পারবেন।
রাঙামাটি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্টি সাংস্কৃতিক ইহ্নটিটিউট’র কালচারাল আফসার শোভিত চাকমা বলেন, আমরা চাই পর্যটকরা ঐতিহ্যর যাদুঘরটি ঘুরে যাক এবং রাঙামাটিতে বেড়াতে আসা পর্যটকরা পার্বত্যঞ্চলের ঐতিহ্য সম্পর্কে জানুক। তবে যাদুঘরটির সংস্কার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সাময়িক সময় পর্যটক প্রবেশ বন্ধ রাখা হয়েছে। যাদুঘরটি আরও উন্নত, আরো সুন্দর ভাবে নির্মাণ করা হচ্ছে। সেই সময় পর্যটকরা আনন্দ চিত্রে যাদুঘরটি সৌন্দর্য উপভোগ করতে হবে।