লালমনিরহাটে তিস্তার পানি কমেছে, দুর্ভোগ কমেনি - কৃষক ও জনজীবনে হাহাকার     

টানা তিন দিনের বন্যার পানি নামার পর তিস্তা নদীর তীরবর্তী এলাকায় ভেসে উঠেছে ভয়াবহ ক্ষতির চিত্র। পানি কমায় বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হলেও লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার তিস্তাপাড়ে কৃষকদের দুর্ভোগ বেড়েছে বহুগুণ। রোপা আমন ক্ষেত পঁচে নষ্ট হয়ে যাওয়ায় কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে তাদের, সেই সঙ্গে অনিশ্চয়তায় পড়েছে জীবিকা।

উজানের ঢল ও টানা ভারি বৃষ্টিতে তিস্তা নদীর পানি প্রবাহ হঠাৎ বেড়ে যায়। গত ১১ আগস্ট রাতে ডালিয়া পয়েন্টে পানি বিপদসীমা অতিক্রম করে। পরেরদিন সকাল থেকে হাতীবান্ধা উপজেলার অধিকাংশ এলাকা প্লাবিত হয়। নদী তীরবর্তী ফসলি জমি, পুকুর, বসতভিটা পানিতে ডুবে যায়। প্রায় কয়েক হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়ে। বিশেষ করে ১৫ হেক্টর আমন ক্ষেত ও বীজতলা ডুবে যাওয়ায় কৃষিতে ব্যাপক ক্ষতি হয়। 

রোববার (১৭ আগস্ট) পানি কমার পর দেখা যায়, অধিকাংশ খেতে আমনের চারা নেই, আছে শুধু বালু ও কাদা। কিছু জায়গায় চারা থাকলেও রোদে তা গলে পঁচে গেছে। দ্বিতীয় দফার বন্যায় নষ্ট হওয়া জমিতে কৃষকরা নতুন করে চারা লাগিয়েছিলেন, যা তৃতীয় দফার বন্যায় আবারও ৩–৪ দিন ডুবে থেকে নষ্ট হয়েছে। অধিকাংশ কৃষকের কাছে নতুন করে রোপনের মতো চারা নেই।

এ ব্যাপারে হাতীবান্ধা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা শামীমা ইয়াসমিন জানান, তৃতীয় দফার বন্যায় ১৫ হেক্টর জমির আমন ক্ষেত নিমজ্জিত হয়েছে। কৃষি অধিদপ্তর থেকে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের প্রণোদনা হিসেবে মাষকলাইয়ের বীজ ও সার দেওয়া হবে, যাতে তারা আগাম ভুট্টা চাষ করতে পারেন।

গড্ডিমারী ইউনিয়নের কৃষক নুরুজ্জামান বলেন, 'আমার ৩ বিঘা জমির আমন ধান প্রথমে বন্যায় নষ্ট হয়। পরে চারা কিনে আবার রোপণ করি। সেটাও এক সপ্তাহের ব্যবধানে আবার ডুবে যায়। এখন চারা কেনার টাকাও নেই। চাষ না করলে পরিবার চলবে কীভাবে?' 

তিস্তা পাড়ের বাসিন্দা সফুরা বেগম বলেন, 'তিস্তা আমাদের সর্বনাশ করে দিয়েছে। বছরের পর বছর চাষ করে লাভ পাই না। এবারের বন্যায় সব শেষ। সামনে কীভাবে চলব, কেউ জানে না। আমরা ত্রাণ চাই, চাই স্থায়ী বাঁধ।' 

সোমবার (১৮ আগস্ট) ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানি বিপদসীমার ৪৪ সেন্টিমিটার নিচে প্রবাহিত হয়। ফলে হাতীবান্ধায় বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হলেও নদীতে দেখা দিয়েছে ভাঙন। সিন্দুর্না, গড্ডিমারী, পাটিকাপাড়া ও ডাউয়াবাড়ী এলাকায় ভাঙনের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। 

সিন্দুর্না ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আরিফুর ইসলাম বলেন, 'আমার ইউনিয়নের চরাঞ্চলে আমন খেতে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। পানি নামার পর ভাঙন বেড়েছে। বিদ্যালয়সহ অনেক স্থাপনা ঝুঁকিতে রয়েছে। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন।' 

এছাড়াও লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শুনীল কুমার বলেন, 'তিস্তার পানি কমায় বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। পানিবন্দি পরিবার মুক্তি পেয়েছে। তবে পানি কমলে নদীতে ভাঙন দেখা দেয়। সে কারণে নদীপাড়ে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।'