বসুন্ধরা কিংসের ১০ ফুটবলার চলমান জাতীয় দলের ক্যাম্পে যোগ না দেওয়ায় বাফুফে এবং বসুন্ধরা কিংস রীতিমতো মুখোমুখি অবস্থানে দাঁড়িয়েছে। তাতে অভিযোগ আর পালটা অভিযোগ উঠে আসছে। এ নিয়ে গত রোববার (১৭ আগস্ট) বাফুফে জরুরি সভা শেষে মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান আমিরুল ইসলাম বাবু যেসব কথা সংবাদমাধ্যমের কাছে তুলে ধরেছিলেন তার কোনোটাই সঠিক নয় জানিয়ে উলটো তোপ দাগিয়েছেন বসুন্ধরা কিংসের সভাপতি ইমরুল হাসান।
গতকাল দুপুরে ইত্তেফাকের সঙ্গে কথার প্রসঙ্গে প্রশ্ন তোলা হয়েছিল আপনারা কেন জাতীয় দলের জন্য খেলোয়াড় ছাড়ছেন না? ইমরুল হাসান বলেন, 'আমরা কোথায় বলেছি, কাকে বলেছি। একবারও বলিনি খেলোয়াড় ছাড়বো না। সময় হলে দেব বলেছি। আমরা খেলোয়াড় ছাড়বো, ৩০ আগস্ট পর্যন্ত দেবো না, ৩১ তারিখেই দেব। খেলোয়াড়রা ক্যাম্পে যাবে।'
ইত্তেফাক: এখন খেলোয়াড় ছাড়লে কী সমস্যা?
ইমরুল হাসান: সামনে নতুন মৌসুম। প্রি-সিজন প্রস্তুতির ব্যাপার রয়েছে। আমার দলের ৫ জন অনূর্ধ্ব-২৩ দলে গেছে। এখন যদি ১০ জন জাতীয় দলে চলে যায় তাহলে আমাদের ক্লাবের প্রস্তুতি কীভাবে চলবে।
ইত্তেফাক: আপনার ফুটবলাররা তো জাতীয় দলেও অনুশীলনে থাকবে?
ইমরুল হাসান: ওটা জাতীয় দল। আর ক্লাবের অনুশীলনের বিষয়টা ভিন্ন। ক্লাবেরও তো একটা পরিকল্পনা থাকে। আমার দলের ১৫ জনই যদি জাতীয় দলে চলে যায় তাহলে প্র্যাকটিস করবে কীভাবে।
ইত্তেফাক: আপনি খেলোয়াড় ছাড়বেন কথাগুলো বাফুফেকে বলছেন না কেন?
ইমরুল হাসান: বলা হয়েছে। এক মাস আগে কেন জাতীয় দলের প্রস্তুতি নিতে হবে? সময় আছে তো। প্রতি উইনডোতে যদি এক মাস আগে প্রস্তুতি শুরু হয় তাহলে তো লিগই বন্ধ হয়ে যাবে। ফ্রেন্ডলি ম্যাচের জন্য এক মাস আগে প্রস্তুতি শুরু করবে ওয়ার্ল্ডের কোথাও এটা নেই। এক সময় আপনরাই (সাংবাদিকরা) তো বলেছেন লিগের খেলা বন্ধ রেখে এক মাস কেন জাতীয় দলের অনুশীলন।
ইত্তেফাক: এখন তো লিগের খেলা নেই তবুও কেন?
ইমরুল হাসান: ঐ যে বললাম, একটা ক্লাবের পরিকল্পনা থাকে। আমার প্লেয়ার যদি প্রি-সিজন ক্যাম্প না করে তাহলে কাকে নিয়ে পরিকল্পনা করবে। প্রত্যেকটা ক্লাবেরই প্রি-সিজন দরকার। আমার যদি ১০ জন খেলোয়াড় না হয়ে ১/২ জন হতো আমি সঙ্গে সঙ্গে পাঠিয়ে দিতাম। অন্য সব ক্লাবই প্রি-
সিজন করছে।
ইত্তেফাক: আপনি বাফুফের ফোন ধরেন না কেন?
ইমরুল হাসান: আপনাকে কে বললো ফোন ধরিনি। ফোন করেছে বাফুফের জিএস (জেনারেলন সেক্রেটারি)। আমি যে ফোন ধরিনি এটা কে বললো। আপনি জানেন কীভাবে।
ইত্তেফাক: রিং হওয়া সত্ত্বেও আপনি মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান আমিরুল ইসলাম বাবুর ফোন ধরেননি। জরুরি মিটিংয়ে আসেননি, কেন?
ইমরুল হাসান: প্রমাণ দিতে বলেন, কে কাকে ফোন করেছে। কল লিস্ট দেখাতে বলেন। উনাকে পালটা প্রশ্ন করেন কল লিস্ট দেখান। উনাকে স্ক্রিনশট দেখাতে বলেন। বাফুফে কাকে ফোন দিয়েছে। আর মিটিংয়ের কথা বলছেন? আমি কাতারে গিয়েছিলাম, আমাদের খেলা ছিল। ওখান থেকে দুবাই গিয়েছিলাম। গতকাল (রোববার) বিকালে এসেছি ঢাকায়। সভাপতিকে (বাফুফের) মেসেজ দিয়েছি। কী কথা হয়েছে সেটা কি আমি সবাইকে বলবো? সভাপতির সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। এটাই কি যথেষ্ঠ নয়?
ইত্তেফাক: আপনি বাফুফের সিনিয়র সহ-সভাপতি, ন্যাশনাল টিমস কমিটির ডেপুটি চেয়ারম্যান। আপনারও তো দায়িত্ব আছে?
ইমরুল হাসান: এখন কথা বললে তো কোচের বিরুদ্ধে যায়, কথাটা কোচকে জিজ্ঞেস করুন। তার সঙ্গে আমাদের কী কথা হয়েছিল। সেপ্টেম্বরে ফিফার কোনো উইনডোতে খেলবে না। কথাটা কোচ নিজেই জানিয়েছিলেন। সেই সময় এটাও জানিয়েছিলেন যে অক্টোবর এবং নভেম্বরের উইনডো কাজে লাগাতে চান তিনি। কারণ তখনই এশিয়ান কাপের খেলা। কিন্তু এখন হঠাৎ করে সেপ্টেম্বরে ফিফার উইনডোতে ম্যাচ কনফার্ম করেছেন। তাহলে কোচ আগে কেন বলেছিলেন সেপ্টেম্বরের উইনডোতে খেলবেন না। কোচকে দেখিয়ে ফুটবল লিগের ক্যালেন্ডার করা হয়েছে কোচ তখন সেপ্টম্বরের উইনডো চায়নি। ৯ অক্টোবর ও ১৪ অক্টোবর এশিয়ান কাপের খেলা রয়েছে। এভাবে অনুশীলনের প্ল্যান করলে প্লেয়াররা তো বিশ্রাম পাবে না।
ইত্তেফাক: এখানে আপনি সমালোচনার মুখে পড়ছেন না?
ইমরুল হাসান: আপনারাই হচ্ছেন মেইন...। সরি কথাটা এভাবে বলিনি। যখন জাতীয় দলে ১০/১২ জন প্লেয়ার কিংস থেকে চান্স পায় আপনারাই বলেন কিংসের সব সিন্ডিকেটের প্লেয়ার। কিংস জোর করে ন্যাশনাল টিমে ঢোকায়। আমরা সিন্ডিকেট থেকে বেরিয়ে গেলাম। সিন্ডিকেটের প্লেয়ার ছাড়াই গেলেন। যাই হোক আমি এগুলো কথার কথা বললাম। আমি খেলোয়াড় ছাড়বোই। খেলোয়াড় দেবো না, তা তো বলিনি।
ইত্তেফাক: বিশ্বনাথ ঘোষের ইনজুরি কথা লিখেছেন চিঠিতে, কেন?
ইমরুল হাসান: ন্যাশনাল টিম দেশের বাইরে তখন প্র্যাকটিসে বিশ্বনাথের ইনজুরি হয়েছিল। প্র্যাকটিস ম্যাচে ইনজুরি হয়েছিল। সেই বিশ্বনাথ দেড় বছর মাঠের বাইরে। তার ক্যারিয়ার শেষ। বাফুফে হতে একটা ফোনও করেনি কেউ। আর কেউ না ফোন দিক, কোচ-ম্যানেজার তো দেবেন? তারাও ফোন দেয়নি। কোচ খবরও নেয়নি বিশ্বনাথ কেমন আছেন।