ফরিদপুরের মধুখালীতে নিখোঁজের তিন দিন পর বড় গোপালদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী তামিম তালুকদার এর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। অভিযোগ ওঠেছে, মুক্তিপণ না দেওয়ার কারণে শিশুটি হত্যা করা হয়েছে।
এ ঘটনয় তুহিন (৩২) ও আমিরুল (২৫) নামে দুইজনকে আটক করেছে মধুখালী থানা পুলিশ। তুহিনের বাড়ি মাগুরা জেলার মোহাম্মদপুর থানায় ও আমিরুলের বাড়ি মাগুরা জেলার সদর থানায়।
সোমবার (১৮ আগস্ট) রাতেই গ্রামের থেকে তুহিন শেখকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার কোরকদী ইউনিয়নের বাঁশপুর গ্রামে জমির আইলে আবর্জনার নিচ থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত তামিম বড় গোপালদী গ্রামের সৌদি প্রবাসী শামিম তালুকদারের ছেলে। মঙ্গলবার সকালে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
শিশুর পরিবার জানায়, ১৫ আগস্ট বিকেলে তামিম ঘুরতে বের হয় এবং আর বাড়ি ফেরেনি। সন্ধ্যায় পরিবারের পক্ষ থেকে খোঁজ শুরু হয়। সেই রাতেই অপহরণকারীরা ফোন করে ১৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। পরিবার প্রস্তুত থাকলেও শেষ পর্যন্ত শিশুটিকে বাঁচানো যায়নি।
মধুখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম নুরুজ্জামান জানান, তুহিন প্রায় এক বছর ধরে গৃহপরিচারক হিসেবে তামিমদের বাড়িতে কাজ করতেন। এ সুযোগে পরিবারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা গড়ে তুহিন শিশুটিকে অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবি করেছিল। অভিযোগের ভিত্তিতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সময় আরও একজনকে আটক করা হয়েছে।
ওসি আরও বলেন, মুক্তিপণের দাবিতে শিশুটিকে অপহরণ ও হত্যা মামলায় তুহিন শেখসহ দুইজনকে ফরিদপুরে আদালতে পাঠানো হয়েছে।