ইসরায়েলিদের হাত থেকে ফিলিস্তিনের প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান রক্ষায় ইউনেস্কোর প্রতি আহ্বান

জাতিসংঘের সংস্কৃতি ও শিক্ষা সংস্থা ইউনেস্কোর প্রতি ফিলিস্তিন আহ্বান জানিয়েছে, তারা যেন দেশটির প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানগুলোকে ইসরায়েলিদের চুরির হাত থেকে রক্ষা করার দায়িত্ব গ্রহণ করে।

বৃহস্পতিবার (২১ আগস্ট) এক বিবৃতিতে ফিলিস্তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অধিকৃত পশ্চিম তীরের ৬৩টি প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানকে নিজেদের ঐতিহ্য হিসেবে শ্রেণীবদ্ধ করার ইসরায়েলি সিদ্ধান্তকে 'আন্তর্জাতিক আইন, জেনেভা কনভেনশন এবং স্বাক্ষরিত চুক্তির স্পষ্ট লঙ্ঘন' বলে অভিহিত করেছে।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, 'এটি দখলদার সরকারের ঔপনিবেশিক মতাদর্শের অংশ, যার লক্ষ্য পশ্চিম তীরের ধীরে ধীরে সংযুক্তি আরও গভীর করা, এর ল্যান্ডমার্ক ও পরিচয় পরিবর্তন করা এবং এর ভূগোল ও জনসংখ্যার বাস্তবতায় নতুন বৈশিষ্ট্য আরোপ করা।'

মন্ত্রণালয় বলেছে, কোনো ঐতিহাসিক বা নথিভুক্ত প্রমাণ ছাড়াই মিথ্যা অজুহাতে সম্পূর্ণরূপে বসতি স্থাপনের উদ্দেশ্যে ফিলিস্তিনি ভূমিতে দস্যুতা এবং চুরির সবচেয়ে বড় কাজগুলোর মধ্যে এটি হবে একটি। এটি ইতিহাস এবং বর্তমানকে মিথ্যা প্রমাণ করার একটি প্রকাশ্য অপরাধ।

বিবৃতিতে সতর্ক করে বলা হয়েছে, ইসরায়েলি পদক্ষেপগুলো ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনাকে ক্ষুণ্ণ করে, একই সঙ্গে ঐতিহ্যবাহী স্থানগুলোর পরিচয় মুছে ফেলবে এবং পরিবর্তন করবে।

এর আগে বুধবার ফিলিস্তিনের একটি বেসরকারি সংস্থা 'অ্যাপ্লাইড রিসার্চ ইনস্টিটিউট-জেরুজালেম' জানিয়েছে, দখলদার ইসরায়েলি বাহিনী পশ্চিম তীরের ৬৩টি ফিলিস্তিনি প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানকে 'ইসরায়েলি ঐতিহ্যবাহী স্থান' হিসেবে ঘোষণা করেছে।

ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুসারে, ইসরায়েল ইতোমধ্যেই অধিকৃত পশ্চিম তীরে অবস্থিত ২৪০০টিরও বেশি ফিলিস্তিনি স্থানকে ইসরায়েলি ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে শ্রেণীবদ্ধ করেছে।

ইসরায়েলি বাহিনী পশ্চিম তীরে তাদের আক্রমণ তীব্র করার পর এই পদক্ষেপটি নেওয়া হয়েছে। গতকাল বুধবার ইসরায়েল পশ্চিম তীরে সাড়ে ৪ হাজার বসতি স্থাপনের প্রকল্পও অনুমোদন করেছে।