সময় বা দূরত্ব যতই হোক, প্রিয়জনদের সঙ্গে কানেক্টেড রাখবে ইমো

দোহার একটি নির্মাণ সাইটে কাজ করেন শফিক। ভাগ্যের সন্ধানে কয়েক সপ্তাহে আগে মধ্যপ্রাচ্যের এ শহরে আসেন তিনি।  তাই, কাজের মাঝে দেশ ও দেশে রেখে আসা প্রিয় মানুষদের জন্য সারাক্ষণই মন অস্থির থাকে তার। এ অস্থিরতা কাটাতে কাজ শেষ করে প্রতিদিন তিনি ফোন করেন ঢাকায় তার পরিবারের কাছে। ভাড়া নেয়া ছোট ঘরটায় ফিরে এসে ক্লান্ত উদগ্রীব মুখে ভিডিও কল করেন সহজ ও নির্ভরযোগ্য ভিডিও কলিং অ্যাপ–ইমোর মাধ্যমে। স্ক্রিনে দেখা যায় তার স্ত্রী রিনা ঘরের মেঝেতে বসে আছেন, আর তাদের চার বছরের ছেলে কোলে বসে খেলছে বল হাতে। ‘আব্বু!’-ডেকে ওঠে বাচ্চাটি; আর এদিকে হাজার মাইল দূরে থাকলেও প্রশান্তিতে ভরে ওঠে শফিকের হৃদয়। 

তবে, কিছুদিন আগেও চিত্রটা এমন ছিল না। ঢাকায় পরিবারের সাথে কানেক্টেড থাকার অভিজ্ঞতা কয়েকদিন আগেও এমন ছিল না তার। প্রবাস জীবনের শুরুর দিকে যখন তিনি  স্ত্রীকে ফোন করতেন, তখন কথার মাঝেই  ফোনের স্ক্রিন স্থির হয়ে যেত, হঠাৎ করেই লাইন কেটে যেত। বার বার ‘হ্যালো’ ‘হ্যালো’ করতে হত। একটু ভালো ভাবে কথা বলার আশায় বার বার কেটে দিয়ে আবার ফোন করা একটা অঘোষিত নিয়মে পরিণত হয়েছিলো। তবে, এখন শফিক ইমো এইচডি ভিডিও কলে নিরবচ্ছিন্নভাবে কথা বলতে পারেন, স্ক্রিন ফ্রিজ হওয়া কিংবা কল ড্রপ ছাড়াই; যা একটা সময় ছিল তার কল্পনার বাইরে।

আসলে নেটওয়ার্ক সমস্যার কারণে কথার মাঝে বিঘ্ন ঘটা ও বিরক্তি নিয়ে ফোন রেখে দেয়া অভিবাসী শ্রমিকদের কাছে একটি সাধারণ ঘটনা। জরুরি বিষয়ে কথা বলা বা ভিডিও কলে প্রিয়জনের মুখ দূর দেখে একটু শান্তি পাওয়া তাদের জন্যে পরম পাওয়ার মতই একটি বিষয়। পরিবারকে একটু আর্থিক স্বচ্ছলতা দেয়ার জন্যে তারা নিজেরা প্রবাস জীবনের দুঃখ কষ্ট আর পরিশ্রম মেনে নেন হাসি মুখে। তাই কথা বলার সময় এমন নীরবতা তাদের জন্যে গভীর যন্ত্রণা নিয়ে আসে। ঢাকা শহরের ব্যস্ত এক এলাকায় শফিকের পরিবারের বসবাস হলেও, ইন্টারনেট সংযোগ সেখানে প্রায়ই ঠিক মত কাজ করে না। অধিকাংশ সময়, কথোপকথনের মাঝে থাকে কেবল নীরবতা।                     

কিন্তু শফিকের এই প্রবাস জীবনে আশার আলো আসে যখন তার এক বন্ধু ইমো-এইচডি ভিডিও কলের অ্যাপটি তার ফোনে ইন্সটল করে দেয়। জনপ্রিয় এই মেসেজিং অ্যাপটি সহজে ব্যবহার করা যায় এবং কম ব্যান্ডউইথেও ভালো অডিও ও ভিডিও কল করা যায়; শহর ও প্রত্যন্ত গ্রাম, যেকোনো জায়গাতেই। সহজ-সরল ইন্টারফেস এবং স্বতঃস্ফূর্ত গুণগত মান দিয়ে ইমো খুব দ্রুতই শফিকের আস্থা অর্জন করে নেয়। এখন তিনি তার স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেন কোনো সমস্যা ছাড়াই। আর একদম পার্থক্য স্পষ্ট – নিরবচ্ছিন্ন অডিও এবং মসৃণ ভিডিও কলে এখন তিনি তার তার সন্তানদের সঙ্গে হাসতে পারেন, বারবার জিজ্ঞাসা করতে হয় না, ‘শুনতে পাচ্ছো?’ আর তার ছোট সন্তান যখন আধো আধো স্বরে কিছু বলে, সবকিছুই স্পষ্ট শুনতে পান তিনি। 

আর একজন বাবা, রনি। তিনি থাকেন সৌদি আরবে। রনি যখন ইচ্ছা ইমোর মাধ্যমে তার পরিবারের সাথে পরিষ্কার  অডিও আর এইচডি ভিডিও কলে কথা বলেন। এক বিকেলে, কাজ শেষে তিনি তার ঘরে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন, তখন তার স্ত্রী ইমো -তে ফোন করেন। পাশে তাদের ছোট ছেলেটি আপন মনে খেলছিল। হঠাৎ একটা শব্দে রনি থমকে যান: ‘বাবা।’ রনি একদম স্তব্ধ হয়ে যান। চোখের কোণে পানিও আসে একটু। তার সন্তানের প্রথম বাবা ডাক তিনি নিজ কানে শুনতে পেয়েছেন! মনে মনে তিনি ধন্যবাদ জানান ইমোর রিয়েল-টাইম, ল্যাগ-ফ্রি সংযোগকে। কিছুক্ষণ পর স্ক্রিন একটু কেঁপে ওঠে, তার স্ত্রী ক্যামেরা কাছে নিয়ে আসেন। আর কয়েক মুহূর্ত পর, তার ছেলে উঠে দাঁড়ায় এবং তার সামনেই চোখের প্রথম পা ফেলতে শুরু করে। শারীরিকভাবে কাছে না থেকেও সেই মুহূর্তে তিনি উপস্থিত ছিলেন তার সন্তানের কাছে। বাবা হিসেবে আসলে এমন সব মুহূর্তের সাক্ষী না হতে পারা আসলেই দুর্ভাগ্যজনক, তবে ইমোর কারণে এমন অসংখ্য বাবা দু’চোখ ভরে দেখতে পারেন সন্তানের প্রথম পদক্ষেপ কিংবা শুনতে পারেন প্রথম বাবা ডাক।  

জীবিকা কিংবা বাস্তবতার কারণে পরিবার থেকে দূরে থাকা মানুষগুলোর মধ্যে যে শূন্যতা তৈরি হয় তা পূরণ করা যায় না কিছুতেই। বাকি থাকে শুধু প্রযুক্তির আশ্রয়ে কাছে থাকার একটা সান্ত্বনা। আর যখন প্রযুক্তিও ব্যর্থ হয়, সেই শূন্যতা আরও গভীর হয়। তবে, আন্তর্জাতিক কলিং অ্যাপ ইমো, যা কোটি কোটি মানুষ ব্যবহার করছেন ভরসার জায়গা হিসেবে। এই অ্যাপ নিশ্চিত করে যে ব্যবহারকারীরা যেন তার প্রয়োজনে, অবসরে কিংবা ব্যস্ততায়—যেকোনো মুহূর্তে প্রিয়জনদের সাথে কানেক্টেড থাকতে পারেন; দূরত্ব যেমনই হোক। আর কথা বলতে পারেন স্ক্রিন ফ্রিজ বা কল ড্রপ ছাড়াই। ইমো হাজার মাইল দূর থেকেও কথোপকথনকে করে তোলে নিরবচ্ছিন্ন ও প্রশান্তিময়। সময় বা স্থান যাই হোক না কেন, কল কিংবা মেসেজের মাধ্যমে আপনাকে আপনার প্রিয়জনদের সাথে যুক্ত রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ইমো।