সাদা চোখে পরিষ্কার দেখা গেল মহিলাদের ১০০ স্প্রিন্টে নৌবাহিনীর শিরিন আক্তারকে পেছনে ফেলে তার দলেরই সুমাইয়া দেওয়ান ল্যান্ডমার্ক টাচ করে চলে গেছেন এবং তিনি ট্র্যাকে লুটিয়ে পড়েন। ডান হাঁটুতে দুইটা স্পট, কেটে গিয়েছে। সবাই নিশ্চিত হয়ে গেছেন সুমাইয়া দেওয়ান দ্রুততম মানবী হয়েছেন। বিচারকরা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে সুমাইয়ার নাম নির্ধারণ করলেন।
এর মধ্যে ইলেকট্রনিক টাইমিংয়ের রিপোর্ট দেওয়া হলো বিচারক কিতাব আলীকে। তিনিও কৌতূহলী সাংবাদিকদের জানালেন, সুমাইয়া দেওয়ান প্রথম হয়েছেন। সুমাইয়াকে নিয়ে তখন সংবাদমাধ্যমের টানাটানি। শিরিন তখন চ্যালেঞ্জ করেছেন। তিনি প্রথম হয়েছেন বলে দাবি করেছেন। তাকে নিয়ে নৌবাহিনীর কর্মকর্তা, ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম বিচারকদের কাছে গিয়েছেন। ইলেকট্রনিক টাইমিং সিস্টেম পরিচালনাকারীদের কাছে গিয়ে কথা বলেছেন। শিরিন নাছোড়বান্দা। তিনি বাংলাদেশ অ্যাথলেটিকস ফেডারেশনের সদস্য। শিরিন জোর দিয়ে বলছেন তিনি প্রথম হয়েছেন। তার দাবি টাইমিং দেখানো হচ্ছে না।
আর টাইমিং পরিচালনাকারীরা বলছেন, তারা বিচারক কিতাব আলী ছাড়া কাউকে টাইমিং রিপোর্ট দিতে পারেন না। এসব নিয়ে ১০০ মিটারের টাইমিং ঘোষণা করতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কেটে গেল। সুমাইয়ার নামে প্রথম হওয়ার সার্টিফিকেট লিখে রাখা হয়েছে। কিন্তু পুরস্কার ঘোষণা করা হচ্ছিল না। শেষ পর্যন্ত সুমাইয়া দেওয়ানকেই ১০০ মিটার স্প্রিন্টে প্রথম ঘোষণা হয়। শিরিন চলে যান ড্রেসিং রুমে। তার মন খারাপ, আর মুচকি হাসছিলেন সুমাইয়া।
গত জাতীয় অ্যাথলেটিকসের ২০০ মিটার নারী স্প্রিন্টে দৌড় শেষ হওয়ার পরই সবার জানা হয়ে গিয়েছিল সুমাইয়া দেওয়ান প্রথম হয়েছেন। কিন্তু বিচারকদের মধ্যে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে লুকোচুরি হয়েছিল বলে গুঞ্জন উঠেছিল। যে কারণে এবার সামার অ্যাথলেটিকসের সংবাদ সম্মেলনে জোরাল দাবি উঠেছিল এক জনের পদক আরেক জনের গলায় উঠে যাচ্ছে।
এসব নিয়ে জোরালো অবস্থান নিয়েছিল ফেডারেশন। বলেছিল তারা খুব সোচ্চার। এজন্য বিচারকদের নিয়ে ৪ ঘণ্টার রিফ্রেশার্স কোর্স হয় খেলা শুরু হওয়ার আগের দিন। এবার যেন বিচারকদের কোনো ভুল না হয় প্রতিজ্ঞা করেছিলেন সবাই। সুমাইয়া বললেন, 'গত বার একটা ঝামেলা হয়েছিল। এবার সেটা হয়নি।'