দুই দাবিতে চতুর্থ দিনের মতো জবি শিক্ষার্থীদের অবস্থান

ছাত্রসংসদ (জকসু) নির্বাচন ও সম্পূরক শিক্ষাবৃত্তির রোডম্যাপ ঘোষণার দাবিতে টানা আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

সোমবার (২৫ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ভবনের সামনে সারারাত অবস্থানের পর চতুর্থ দিনের মতো কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন আন্দোলনকারীরা।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানান, আগামী ২৬ আগস্ট অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেট সভায় নির্বাচন কমিশন গঠন, ১০ কর্মদিবসের মধ্যে প্রবিধি আইন আকারে অনুমোদন এবং সভার দিনেই তফসিল ঘোষণা করতে হবে। একইসঙ্গে দ্রুত সময়ের মধ্যে সম্পূরক শিক্ষাবৃত্তির চূড়ান্ত বাস্তবায়ন করতে হবে। তা না হলে আরও কঠিন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

এর আগে, রোববার বিকেল ৩টা থেকে ‘নো ওয়ার্ক’ কর্মসূচি চলাকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে দেয় শিক্ষার্থীরা। এ সময় ভবনের ভেতরে ও বাইরে বিভিন্ন রুটিন কাজে নিযুক্ত শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। ফলে উপাচার্যের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার, রেজিস্টার, প্রক্টর, ছাত্রকল্যাণ পরিচালকসহ শিক্ষক-কর্মকর্তারা অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন। সবশেষ রাত ১২টায় তালা খুলে নেওয়ার পর রাত ১টায় উপাচার্যসহ প্রশাসনিক কর্মকর্তারা বিশ্ববিদ্যালয় ত্যাগ করেন। তবে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা সারারাত অবস্থান করে কর্মসূচি চালিয়ে যান। 

গত বুধবার থেকে শুরু হওয়া এই অবস্থান কর্মসূচি শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক বন্ধের কারণে সাময়িক বিরতি পায়। রোববার থেকে পুনরায় শুরু হয়ে সোমবার চতুর্থ দিনের মতো আন্দোলন চলছে।

ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ২০২২–২৩ শিক্ষাবর্ষের আন্দোলনরত শিক্ষার্থী আশিকুর রহমান আশিক বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে আমরা সম্পূরক বৃত্তি ও জকসু নির্বাচন নিয়ে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছি। কিন্তু প্রশাসনের উদাসীনতা ও দায়িত্বহীনতার কারণে আজও শিক্ষার্থীরা অনিশ্চয়তায় রয়েছে- আসলে নির্বাচন হবে কি, হবে না। সম্পূরক বৃত্তি নিয়ে আন্দোলনও বারবার প্রশাসনের অবহেলার শিকার হয়েছে। টানা চারদিন আমরা যমুনার সামনে অবস্থান করেছি, পুলিশের লাঠিপেটা সহ্য করেছি, রাস্তার ওপর রাত কাটিয়েছি কিন্তু তবুও এখন পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান বাস্তবায়ন হয়নি। আমাদের দাবিগুলো বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত এই আন্দোলন সংগ্রাম চলবে, চালিয়ে যাবো ইনশাআল্লাহ।’  

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক রেজাউল করিম শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়ে বলেন, ‘আমরা শিক্ষার্থীদের সব দাবির সঙ্গে একমত। তাদের দাবি যৌক্তিক। আমরা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এ দুটি দাবির কাজ এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি। খুব শীঘ্রই জকসু নীতিমালা চূড়ান্ত করে মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়ে দিবো। সম্পূরক বৃত্তির কাজও এগিয়ে গেছে, আশা করছি সহসাই শিক্ষার্থীদেরকে বৃত্তি দিতে পারব।’