গাজার জন্য প্রস্তাবিত শান্তি চুক্তিতে আগ্রহী নয় ইসরায়েল: কাতার

ইসরায়েল এখনও গাজার জন্য প্রস্তাবিত শান্তি চুক্তিতে প্রতিক্রিয়া দেয়নি, যা থেকে বোঝা যাচ্ছে তারা “চুক্তি করতে আগ্রহী নয়। মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) এমন তথ্য জানিয়েছেন কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মজেদ আল-আনসারি। তিনি বলেন, কাতারের মধ্যস্থতায় হামাস এই মাসের শুরুতে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবে সম্মত হয়েছিল। এই প্রস্তাবে ইসরায়েলের এখনও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

আল-আনসারি বলেন, ‘আমরা সব পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি, যাতে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি সম্পন্ন করা যায়। কিন্তু ইসরায়েলের কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া নেই। ইসরায়েল না গ্রহণ করছে, না প্রত্যাখ্যান করছে এবং না কোনো বিকল্প প্রস্তাব দিচ্ছে।’

কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, ‘ইসরায়েলের মিডিয়া বিবৃতিকে আমরা গুরুত্ব দিই না। আমরা প্রস্তাবটির আনুষ্ঠানিক সাড়া পাবার অপেক্ষায় রয়েছি। আর আলোচনা কোথায় হবে তা মিশর বা কাতারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নয়। হামাস যা সম্মত হয়েছে- তা ইতিমধ্যে ইসরায়েলও মেনে নিয়েছিল। এখন বল ইসরায়েলের মাঠে, কিন্তু দেখা যাচ্ছে তারা চুক্তি করতে বা প্রস্তাবের প্রতিক্রিয়া জানাতে চাচ্ছে না।’

দোহা থেকে আল জাজিরার প্রতিবেদক ওসামা বিন জাভেইদ বলেন, প্রস্তাবটি ইতিমধ্যেই ইসরায়েল মেনে নিয়েছে। প্রস্তাব ১০ দিন আগে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ইসরায়েলের কাছে পৌছে গেছে। কিন্তু ইসরায়েল এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে সাড়া দেয়নি।

ইসরায়েল থেকে যা দেখা গেছে, তা হলো আরও মৃত্যু, আরও ধ্বংস, আরও এলাকা দখলের পরিকল্পনা। কিন্তু কোনো বাস্তব পদক্ষেপ নেই যা সহিংসতা বন্ধ করার দিকে ইঙ্গিত করে।’

কাতারের পক্ষ থেকে মনে করা হচ্ছে, গাজার সংঘাতের স্থিরতা আনতে এখন প্রয়োজন ইসরায়েলের সদিচ্ছা, না হলে বিপুল ক্ষয়ক্ষতি ও মানবিক সংকট অব্যাহত থাকবে।

এদিকে কাতার গাজার ওপর ইসরায়েলের আক্রমণ বন্ধ করতে চেষ্টা অব্যাহত রাখবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। গাজার বর্তমান সংঘাতে ইতিমধ্যে ৬২ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আল-আনসারি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে আবেদন জানিয়েছেন, ইসরায়েলের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে, যাতে তারা যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব গ্রহণ করে।

এক সপ্তাহ আগে হামাস জানিয়েছিল, তারা মধ্যস্থতাকারী মিশর ও কাতারকে জানিয়েছে, যে তারা প্রস্তাবে সম্মত এবং আলোচনায় ফেরার জন্য প্রস্তুত। প্রস্তাবে ইসরায়েলি সেনা অভিযান ৬০ দিনের জন্য স্থগিত এবং এই সময়ে মানবিক সহায়তা প্রবেশের জন্য সৈন্যদের প্রত্যাহার করতে হবে। এছাড়া এই সময়ের মধ্যে ৫০ বন্দির মধ্যে অর্ধেক ফিলিস্তিনি বন্দিদের সঙ্গে বিনিময় করা হবে।