‘পরকীয়ার’ অভিযোগে বছর দুয়েক আগে পদাবনতি হওয়া পুলিশ কর্মকর্তা নিহার রঞ্জন হাওলাদার এবার ধারের টাকা শোধ না করায় ‘তিরস্কার’ দণ্ড পেয়েছেন। মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব নাসিমুল গনির সই করা এক প্রজ্ঞাপনে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। বর্তমানে তিনি পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে কর্মরত।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ২০২০ ও ২০২১ সালে রাজশাহী রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ে সংযুক্ত থাকার সময় ব্যক্তিগত প্রয়োজনে নিহার রঞ্জন হাওলাদার আবু বাক্কার সিদ্দিক নামে এক ব্যক্তির কাছ থেকে মোট ১২ লাখ ৯৯ হাজার টাকা ধার নেন। এসব টাকা তিনি সরাসরি কিংবা চেকের মাধ্যমে, অধিকাংশ ক্ষেত্রে আবু বাক্কারের ভাগ্নে খাত্তাব আলীর হাত দিয়ে নেন।
পরে তিনি ১৪ দফায় এবং বিকাশের মাধ্যমে মোট ৬ লাখ ১৫ হাজার ২০০ টাকা ফেরত দেন। সর্বশেষ ২০২৩ সালের মে মাসে ব্যাংকের মাধ্যমে মাত্র ১০ হাজার টাকা পরিশোধ করেন তিনি। তবে বাকি ৬ লাখ ৮৩ হাজার ৮০০ টাকা শোধ না করায় তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয় এবং কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করা হয়।
বিষয়টি তদন্তে লিখিত জবাব, শুনানি, উভয়পক্ষের বক্তব্য এবং প্রমাণাদি পর্যালোচনা শেষে তাকে ২০১৮ সালের সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালার ৩(খ) বিধি অনুসারে অসদাচরণের জন্য একই বিধিমালার ৪(২)-এর উপবিধি (১)(ক) অনুযায়ী ‘তিরস্কার’ দণ্ড দেওয়া হয়েছে।
এর আগে, ২০২৩ সালে এক নারী পুলিশ পরিদর্শকের সঙ্গে ‘পরকীয়ার’ অভিযোগ ওঠে নিহার রঞ্জনের বিরুদ্ধে। ওই ঘটনায় তখনকার পদমর্যাদা পুলিশ সুপার (এসপি) থেকে তাকে পদাবনতি দিয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অতিরিক্ত এসপি) করা হয়।