চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) এলাকায় প্রায় দুদিন ধরে চলা শিক্ষার্থীদের সাথে এলাকাবাসীর সংঘর্ষে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে ব্যর্থ দাবি করে চবি ছাত্রদল ও গণতান্ত্রিক গণতান্ত্রিক ছাত্র জোট বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে।
মঙ্গলবার (২ সেপ্টেম্বর) বেলা ১২ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বুদ্ধিজীবী চত্বরে এ কর্মসূচি পালন করে শাখা ছাত্রদল।
একইসাথে বিশ্ববিদ্যালয় জিরো পয়েন্টে বেলা ১২ টায় উপচার্য এবং প্রক্টরিয়াল বডির পদত্যাগের দাবি সহ আরো চার দফা দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র জোট, বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ সহ বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকটি সংগঠন।
আজ বেলা ১২ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বুদ্ধিজীবী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা দিতে ব্যার্থ হওয়ায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচী পালন করেছে ছাত্রদল চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা।
ছাত্রদল সভাপতি আলাউদ্দিন মহসিন বলেন, জুলাই পরবর্তী প্রকাশন শিক্ষার্থীদের তেমন কোন আকাঙ্খা পূরণ করতে পারেনি। আবাসন নিশ্চত করতেপারেনি, নিরাপদ খাবার নেই। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা এখন হুমকির মুখে। আমরা এই ব্যার্থ প্রশাসনের পদত্যাগের দাবিতে এখানে অবস্থান নিয়েছি। এ প্রশাসনের অব্যাহতি না হওয়া পর্যন্ত আমরা এই দাবি চালিয়ে যাব।
চবি ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ইয়াসিন বলেন, এখনো পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সন্ত্রাসীদেরকে আইনের আওতায় আনতে পারছে না। এখনো পর্যন্ত কারো নামে মামলা দিতে পারেনি। আমরা সেই প্রশাসনের পদত্যাগ দাবি করছি।
গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের আহ্বায়ক মুনতাসির মাহমুদ বলেন, জোবরা বাসী এর জন্য আমি বলতে চাই। আপনারা যাদের সুরক্ষা দিচ্ছেন। আমরা যখন সংঘর্ষের মধ্যে ছিলাম তখন আর্মি এসেছে তিন থেকে চার ঘণ্টা পরে। এতগুলো শিক্ষার্থী যে আহত হলো এই দায় তো অবশ্যই প্রশাসনের নিতে হবে। প্রশাসন আহত শিক্ষার্থীদের চিকিৎসার ব্যবস্থা ও করতে পারেনি। আমরা কয়েকজন উদ্যোগ নিয়ে এম্বুলেন্স এর ব্যবস্থা করতে পারিনি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যে বলছে আমার মতন তুচ্ছ ব্যক্তিকে কল দিয়েছে এর দায় তো অবশ্যই প্রশাসনের নিতে হবে। আমরা আজকে আমাদের ভাইদের রক্ত ঝরেছে, আমরা সেই দাবি নিয়ে এখানে দাঁড়িয়েছি।
বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর সভাপতি জসদ জাকির বলেন, আমাদের পাঁচ দফা দাবি নিয়ে জিরো পয়েন্টে অবস্থান করি। আমাদের দাবি প্রশাসন আহত শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার সহিত সুচিকিৎসা দিতে হবে। এক নম্বর গেটে ক্রসিং এ এবং দুই নম্বর গেটে সিসিটিভি এর আওতায় আনতে হবে, নারী শিক্ষার্থীরা যে হুমকির মুখে পড়ছে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যদি দায় নিতে না পারে তাহলে তাদের অবিলম্বে পদত্যাগ এর দাবি জানাচ্ছি আমরা।