ভোলা-লক্ষ্মীপুর রুটে বিকল ২ ফেরি, ঘাটে যানবাহনের দীর্ঘ লাইন

ভোলা-লক্ষ্মীপুর রুটের দুইটি ফেরি যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বিকল হয়ে পড়ায় ফেরি ঘাটের দুই পাড়েই পারাপারের অপেক্ষায় রয়েছে অন্তত তিন শতাধিক যানবাহন। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে পরিবহন শ্রমিক ও যাত্রীরা। শনিবার (২৭ জুলাই) বিকাল পর্যন্ত দুই পাড়ে অন্তত তিন শতাধিক যানবাহন পারাপারের অপেক্ষায় রয়েছে। 

এর আগে নতুন একটি ফেরিসহ দুইটি ফেরি যানবাহন পারাপারের কাজ করলেও জট কমছে না। ঘাটে দিনের পর দিন অপেক্ষা করেও ফেরির দেখা মিলছেনা। এতে করে নির্দিষ্ট সময়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছে না পণ্যবাহী ট্রাকসহ অন্যান্য যানবাহন। এ অবস্থা অব্যাহত থাকলে আসছে ঈদে ঘরমুখো মানুষদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হবে।

সরেজমিনে ভোলার ইলিশা ফেরিঘাট এলাকা ঘুরে জানা যায়, দেশের গুরুত্বপূর্ণ ভোলা-লক্ষ্মীপুর ফেরি রুটটি দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১টি জেলার যোগাযোগের অন্যতম সহজ মাধ্যম। এ রুটে কনকচাঁপা, কৃষাণী ও কলমিলতা নামে ৩টি ফেরি নিয়মিত চলাচল করে আসছিল। কিন্তু ৫ দিন আগে দুইটি ফেরি যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বিকল হওয়ায় যানবাহন পারাপারে বিঘ্ন দেখা দিয়েছে।

এ সময় ট্রাক চালক মো. সিরাজ, হাবিব ও বাবুলসহ অন্যরা জানান, ঘাটে তারা ৫/৬ দিন ধরে অপেক্ষা করছেন কিন্তু গন্তব্যে যেতে পারছেন না। এমনকি কবে নাগাদ যেতে পারবেন তাও তাদের জানা নেই। তাদের অভিযোগ, দিনে একবার ফেরি চলাচল করে, তাই ঘাটেই বসে থাকতে হয়। ফেরি সচল না হওয়া পর্যন্ত ভোগান্তি পোহাতে হবে বলেও তিনি জানান। কয়েকজন ট্রাক চালক জানান, ভোলা-লক্ষ্মীপুর রুটটি গুরুত্বপূর্ণ হলেও অবহেলিত, একের পর এক সমস্যা লেগেই আছে। এখানে বাড়তি ফেরি প্রয়োজন। সামনে ঈদ খুব দ্রুত ফেরির সমস্যার সমাধান না হলেও ভোগান্তির সীমা থাকবে না।

আরও পড়ুন:  ২০২৪ সালে ‌চাঁদে প্রথম মহিলা নভোচারী পাঠাবে নাসা

তারা আরও জানান, দুইটি মাত্র সচল ফেরি দিয়ে কিছুটা যানবাহন পারাপার হলেও ফেরির টিপ কমে যাওয়ায় দুই পাড়ে পরিবহনের দীর্ঘ-লাইন ও যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। এতে চরম দুর্ভোগ আর ভোগান্তির মধ্যে পড়েছে ট্রাক ও পরিবহন শ্রমিকরা। কবে নাগাদ ফেরি সচল হবে তাও জানে না কেউ। বেশিরভাগ ট্রাকই ঘাটে ৫/৬ দিন ধরে আটকে আছে। একের পর এক সমস্যার কারণে এ রুটটি এখন বিড়ম্বনায় আর ভোগান্তিতে অতিষ্ঠ চলাচলকারীরা। তাই এখানে অন্তত আরও ৫টি ফেরি যুক্ত করার দাবি জানান তারা।

তবে খুব দ্রুত ফেরি সচল হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) ম্যানেজার মো. এমরান খান। তিনি বলেন, 'তিনটির মধ্যে দুইটি ফেরি বিকল রয়েছে, সেগুলো মেরামত কাজ চলছে। ঘাটের জট কমাতে আরও একটিসহ মোট দুইটি ফেরি চলছে। ২/১ দিনের মধ্যে সব ফেরি সচল হবে বলে আশা করছি।' ফেরিগুলো সচল হলে এক সপ্তাহের মধ্যে জট কমে যাবে বলেও জানান তিনি।

ইত্তেফাক/জেডএইচডি