জাকসু নির্বাচন: আচরণবিধি লঙ্ঘনে সরব প্রার্থীরা, নিশ্চুপ প্রশাসন

দীর্ঘ ৩২ বছর পর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জাকসু) নির্বাচন। নির্বাচনী ঘিরে এখন উৎসবমুখর ক্যাম্পাস। তবুও বাড়ছে নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গের অভিযোগ।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, প্রচারণার নামে ব্যানার, পোস্টারিং, বহিরাগত সমাবেশ থেকে শুরু করে অপ্রত্যাশিত খরচ- সবই ঘটছে নিয়ম ভেঙে। নির্বাচন কমিশনের তদারকি দুর্বল হওয়ায় প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা নিয়ম অমান্য করে নানা ধরনের প্রচারণা চালাচ্ছেন। অভিযোগ উঠেছে, আবাসিক হল, ডিপার্টমেন্ট, ক্যাফেটেরিয়া থেকে শুরু করে ক্যাম্পাসের বটতলা পর্যন্ত পোস্টার, লিফলেট, মিছিল-মিটিংয়ে ভরে গেছে। কেউ কেউ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিয়ম ভেঙে প্রচার করছেন, আবার কেউ শিক্ষার্থীদের কক্ষে কক্ষে গিয়ে ভোট প্রার্থনা করছেন।

আবার অনেকেই নিয়ম ভেঙে নির্ধারিত মাপের চেয়ে বড় পোস্টার ছাপিয়েছেন। 

জানা গেছে, কয়েকটি সংগঠন ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষ থেকে প্রায় ১০-২০ হাজার লিফলেট ছাপানো হয়েছে, যার ব্যয় দাঁড়িয়েছে ১৫-২৫ হাজার টাকার মতো। অথচ আচরণবিধিতে কেন্দ্রীয় সংসদের জন্য সর্বোচ্চ ৭ হাজার টাকা এবং হল সংসদের জন্য সর্বোচ্চ ৪ হাজার টাকা ব্যয়ের সীমা বেঁধে দেওয়া আছে।

ক্যাম্পাস ঘুরে দেখা গেছে, দোকানের গ্লাস, হলের প্রহরীর টেবিল কিংবা রিকশার পেছনে পর্যন্ত প্রচারণার লিফলেট সাঁটানো। এমনকি কিছু প্রার্থীর বিরুদ্ধে বহিরাগতদের দিয়ে প্রচারণায় সহায়তার অভিযোগও উঠেছে। প্রতিদিনই অনেক প্রার্থী সমর্থকদের খাবার, নাশতা ও চায়ের খরচে হাজার হাজার টাকা ব্যয় করছেন।

আচরণবিধি অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষক, কর্মকর্তা কিংবা কর্মচারী সরাসরি নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিতে পারবেন না। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, একজন অধ্যাপক ছাত্র সংগঠনের পোস্টার সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করেছেন। এছাড়া কেন্দ্রীয় সংসদের এক সাংস্কৃতিক সম্পাদক পদপ্রার্থীর লিফলেটে অশালীন শব্দ ও ব্যঙ্গচিত্র ব্যবহারের ঘটনাও প্রকাশ্যে এসেছে।

সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী জাহিদুল ইসলাম ইমন বলেন, অনেক প্রার্থী নির্ধারিত সময়ের আগেই প্রচারণা শুরু করেন, যা সরাসরি আচরণবিধির পরিপন্থী। আমরা অভিযোগ দিয়েছি, কিন্তু প্রশাসন কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি। এতে নিরপেক্ষ নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক মো. মনিরুজ্জামান বলেন, আমরা ইতোমধ্যে বেশ কিছু অভিযোগ পেয়েছি এবং সেগুলো নিয়ে কাজ করছি। লোকবল সীমিত থাকায় প্রশাসনের সহযোগিতা নিচ্ছি। আনুষ্ঠানিক বৈঠকের পর এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।