তিন দফা দাবিতে আমরণ অনশনে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, জমি অধিগ্রহণ এবং শতভাগ পরিবহন সুবিধা নিশ্চিত করার দাবিতে টানা ৩৬ দিন আন্দোলনের পর এবার আমরণ অনশনে বসেছেন একদল শিক্ষার্থী।

বৃহস্পতিবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন-১–এর নিচতলায় এই অনশন শুরু করেন তারা।

অনশনরত শিক্ষার্থীদের মধ্যে রয়েছেন—ইংরেজি বিভাগের শারমিলা জামান সেঁজুতি, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অমিয় মণ্ডল, অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের তাজুল ইসলাম, রসায়ন বিভাগের আবুবকর সিদ্দিক, দর্শন বিভাগের পিয়াল হাসান, লোকপ্রশাসন বিভাগের আহমেদ রিয়াজ এবং আইন বিভাগের শওকত ওসমানসহ আরও অনেকে।

এর আগে বৃহস্পতিবার দুপুরে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা কিছু সময়ের জন্য বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন।

৩ দফা দাবিতে শিক্ষার্থীরা গত ২৯ জুলাই থেকে আন্দোলন শুরু করেন। প্রথমে মানববন্ধন ও গণস্বাক্ষর কর্মসূচি দিয়ে শুরু হলেও পরবর্তীতে কর্মসূচির ধরণ রূপ নেয় বিক্ষোভ, অবস্থান, সড়ক অবরোধ এবং এখন এসে দাঁড়িয়েছে অনশনে।

গত ১৪ আগস্ট থেকে টানা এক সপ্তাহ অবস্থান কর্মসূচি চালান তারা। ২৪–২৮ আগস্ট পর্যন্ত ছিল পাঁচ দিনের সড়ক অবরোধ কর্মসূচি। ২৭ আগস্ট রাতে শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাস সংলগ্ন নির্মাণাধীন নভোথিয়েটার ও বিটাক ভবনে একাডেমিক ও আবাসিক ভবনের ব্যানার টাঙিয়ে প্রতীকী দাবি জানান।

পরবর্তীতে উপাচার্য অধ্যাপক তৌফিক আলমের আশ্বাসে আন্দোলন সাময়িক স্থগিত করা হলেও নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে ইউজিসি বা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে কোনো সাড়া না মেলায় আন্দোলনকারীরা আবারও কর্মসূচিতে ফেরেন।

অনশনকারী অমিয় মণ্ডল বলেন, "দীর্ঘদিন কর্মসূচি চালালেও আমাদের সঙ্গে কেউ যোগাযোগ করেনি। উপাচার্যের আশ্বাসে আন্দোলন স্থগিত করেছিলাম, কিন্তু কোনো অগ্রগতি নেই। তাই আমরণ অনশনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।"

শারমিলা জামান সেঁজুতি বলেন, "৩৬ দিন আন্দোলন করেও কোনো প্রজ্ঞাপন পাইনি। জনদুর্ভোগের কথা চিন্তা করে আমরা সড়ক ছেড়েছি, কিন্তু দাবি না মানা পর্যন্ত অনশন চালিয়ে যাব।"

এই পরিস্থিতিতে এখন নজর রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, ইউজিসি ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিক্রিয়ার দিকে। অনশন দীর্ঘায়িত হলে শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যঝুঁকিও বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।