মোখলেস :অনেক দিন পরে দেখা, কেমন আছিস দোস্ত? ঘরসংসার কেমন চলছে?
মফিজ :আর বলিস না রে! বিয়ে আর করবই না, ডিসিশন ফাইনাল।
মোখলেস :কী বলিস! তুই না পাশের গ্রামের কুলসুমকে বিয়ে করেছিলি?
মফিজ :মেয়েটা একদম ভালো না। বিয়ের আগে তার প্রেমিক ছিল। তাই পরে ডিভোর্স দিয়ে দিলাম।
মোখলেস :বিয়ের আগে প্রেমিক ছিল তাতে কী! তুইও তো ১৫-২০টা প্রেম করেছিলি!
মফিজ :আমি তো ছেলে মানুষ। ছেলে আর মেয়ে কি এক হলো? ছেলে মানুষ ৩০/৪০টা প্রেম করবে, কিন্তু মেয়ে মানুষের প্রেম করা কি ঠিক?
মোখলেস :মেয়েরা যদি প্রেম না করে তবে ছেলেরা প্রেম করবে কার সাথে? যাই হোক, এই জন্য বিয়ে করছিস না তাহলে!
মফিজ :বিষয়টা তা না। এর পরে বিয়ে করেছিলাম আরেকটা। মধুপুর গ্রামের জরিনাকে। মেয়েটা একদম কাজের না, অল্প কয়েকটা কাজ করেই ক্লান্ত হয়ে যেত।
মোখলেস :কী কাজ করত সে?
মফিজ :করার মধ্যে করত তিন বেলা বিশ-বাইশজন মানুষের মসলা করে ৫/৭ আইটেম রান্না করা, ১০/১২ জনের কাপড় ধোয়া, উঠোন ঝাড়ু দেওয়া, ৫/৭টা বিছানা করা, ঘর গোছানো আর ফ্লোর মোছা, ফার্মের হাঁস-মুরগিকে সারাদিন একটু খাবার আর পানি খাওয়ানো সঙ্গে ওদের পাত্র ধোয়া, গরুর দুধ দোয়ানো, সারাদিন খাবার খাওয়ানো আর দেখাশোনা করা, ঘাস কাটা আর রান্নার জন্য একটু গাছের ডালপালা সংগ্রহ করা। এর বাইরে বাচ্চাদের গোসল করানো।
মোখলেস :এইসব কাজ সে একা করত?
মফিজ :কী আর বলব দুঃখের কথা! একটুতেই সে ক্লান্ত হয়ে যেত। আমি বলি পাশের বাড়ির সুমাইয়া ভাবি যে সংসারের কাজের পাশাপাশি ক্ষেত খামার আর সেলাইয়ের কাজ করে আয়-রোজগার পর্যন্ত করত সেখানে জরিনার এই অবস্থা। এইজন্য জরিনাকেও ডিভোর্স দিলাম।
মোখলেস :তোর কথা শুনে তো আমার মাথা ঘুরাচ্ছে।
মফিজ :মাথা ঘুরানোর কিছুই নেই। এরপরে বিয়ে করলাম বেলতলা গ্রামের সোনিয়াকে কিন্তু তার বাপের বাড়ি জামাইকে মূল্যায়ন করতে জানে না। আমি একটা জামাই, তাদের উচিত ছিল না যে আমাকে একটা মোটর সাইকেল, ৫ লাখ টাকা আর ঘর আসবাবপত্র দিয়ে সাজিয়ে দেওয়া? শ্বশুর মশাই বড্ড কৃপণ ছিল রে। সেটাও মেনে নিয়েছিলাম, কিন্তু তার মেয়ে মানে আমার বউ ছিল আস্ত একটা বেয়াদব। তারে মাঝেমধ্যে পিটালে তার বাপের কাছে নালিশ করত। শেষে ওটাকেও ডিভোর্স দিয়ে দিলাম।
মোখলেস :তুই বউ পিটাতি? তোকে তো পুলিশে দেওয়া উচিত।
মফিজ :পুলিশে দেওয়া লাগবে না, অলরেডি বউ পিটানোর জন্য জেল খেটে এসেছি। এরপরে মেয়ের আর তার বাপের পা ধরে মাফ চেয়ে শেষে ছাড়া পেয়েছি।
মোখলেস :এইজন্য তোর বিয়ের শখ মিটেছে।
মফিজ :বিষয়টা তেমন না। এরপরে আমি ভদ্র হয়ে গেলাম। সিদ্ধান্ত নিলাম বউকে আর কোনোদিন কষ্ট দিব না। বিয়ে করলাম পাগলপুর গ্রামের সখিনাকে। বিয়ের পরে বুঝলাম মেয়ের ঘাড়ে জিন আছে। সকাল, বিকেল, রাত—তিনবেলা আমাকে পিটায়। সংসারের সকল কাজ এখন আমিই করি। রান্না করা, কাপড় ধোয়া থেকে শুরু করে কোনো কাজ বাকি থাকে না। সে বলেছে যদি সংসারের কাজ ঠিকঠাক না করি তবে তালগাছে ঝুলায় রাখবে। বিষয়টি নিয়ে খুব টেনশনে আছি রে! আমার জন্য দোয়া করিস। সিদ্ধান্ত নিয়েছি, কোনোদিন আর বিয়েই করব না, আর তুইও করিস না যেন!