উভয় সংকট

আমরা যে ফ্ল্যাটটায় থাকি, তাতে দুটো মোটে ঘর। সজীব, রতন আর আমি—তিনজন একসঙ্গে থাকি! তিনজনের সবাই বেকার ব্যাচেলর! আমাদের ফ্ল্যাটটার দুপাশেও দুটো ফ্ল্যাট রয়েছে! সেসব ফ্ল্যাটে যাঁরা থাকেন, তাঁরা আমাদের পূর্ব পরিচিত না হলেও দীর্ঘদিন পাশাপাশি থাকার সুবাদে অনেকটা চেনাজানা আছে! আমরা যতক্ষণ বাসায় থাকি, আমাদের বাসার জানালাগুলোও খোলা থাকে আর সেগুলো দিয়ে বেশ ঠাণ্ডা বাতাস ঢোকে!

হঠাত্ একদিন বাসায় এসে লক্ষ করলাম প্রচণ্ড গরমের মধ্যেও সজীব তাঁর ঘরের জানালাটা বন্ধ করে শুয়ে আছে! কিছুটা অবাক হয়েই জিজ্ঞেস করলাম, ‘কী রে, এত গরমের মধ্যেও জানালা বন্ধ করে শুয়ে আছিস কেন?’ ও মৃদুস্বরে বলল, ‘আর বলিস না, পাশের ফ্ল্যাটে বিরিয়ানি রান্না হচ্ছে! এত সুবাস ছড়াচ্ছে যে রুমে থাকাই দায়, ক্ষুধা বেড়ে যাচ্ছে!’

ওর কথা শুনে হাসতে হাসতে জানালা খুলতে লাগলাম! ও একটু ঝাঁজালো স্বরেই বলল, ‘জানালা খুলছিস ক্যান, তবে তুই-ই এ ঘরে থাক! আমি তোর ঘরে গেলাম!’

আমাকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে সে হনহন করে চলে গেল আমার ঘরে! আমি ততক্ষণে জানালাটা খুলে সজীবের বিছানায় শরীর এলিয়েছি! কিছুক্ষণ পরেই সজীব আবার এসে হাজির! আমাকে টেনে তুলে বলল, ‘তুই নিজের ঘরে যা!’

অবাক হয়ে বললাম, ‘ক্যান? তুই না বললি বিরিয়ানির সুবাস আসছে বলে এ ঘরে থাকা কঠিন!’

ও বললো, ‘হুম! কঠিন বলেছি, অসম্ভব তো বলিনি!’

‘তাতো বুঝলাম, কিন্তু আমার ঘরেই বা কী এমন হলো যে চলে এলি!’

ও আমতা আমতা করে বলল, ‘ভুলে গেছিস মনে হয়? তোর পাশের ফ্ল্যাটের ভাইটা নতুন বিয়ে করেছে?’

উত্তর দিলাম, ‘ভুলব কেন? স্পস্ট মনে আছে! তো তাতে কী হয়েছে?’

সজীব দুখী দুখী স্বরে বলল, ‘নতুন বিয়ে করা কাপলরা অকারণে হাসে, হাজাররকম খুনসুটি করে, তামাশা করে! বিরিয়ানির সুবাস কিঞ্চিত্ হজম করা যায়, কিন্তু পাশের ফ্ল্যাটের সেই খিলখিল হাসি কোনোমতেই হজম করা যায় না রে বন্ধু!’

রাজশাহী।