ইবিতে শিক্ষক সংকট, একাডেমিক কার্যক্রম ব্যাহত

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) ৩টি বিভাগের মধ্যে ১৫ টি বিভাগে তীব্র শিক্ষক সংকটে ভুগছে। এসব বিভাগে অল্পসংখ্যক স্থায়ী শিক্ষক ও অন্য বিভাগ থেকে ধার করা শিক্ষক দিয়ে চলছে একাডেমিক কার্যক্রম।

বিভাগগুলোর শিক্ষক সংকট নিরসনে সম্প্রতি ২১টি বিভাগে ৫৯টি শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দিয়েছিল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তবে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) অর্থছাড় না থাকায় নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থগিত করেছে বিশবিদ্যালয় প্রশাসন। শিক্ষক সংকটের আশা জাগলেও তা সময়সাপেক্ষ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ নিয়ে শিক্ষক শিক্ষার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তবে সর্বশেষ প্রকশিত বিজ্ঞপ্তিতে ছয়টি বিভাগে ছয়টি পদে শিক্ষক নিয়োগের অর্থছাড় দিয়েছে ইউজিসি। 

রেজিস্ট্রার দপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের ২০ জানুয়ারি থেকে ১৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ধর্মতত্ত্ব, বিজ্ঞান, প্রকৌশল ও প্রযুক্তি, জীববিজ্ঞান, কলা, সামাজিক বিজ্ঞান, আইন, ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ২১টি বিভাগে মোট ৫৯টি পদের বিপরীতে শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। সেই অনুযায়ী বিভিন্ন বিভাগে প্রার্থীরা আবেদনও করেন। তবে এসব বিজ্ঞপ্তির বিষয়ে ইউজিসির অর্থছাড়ের পূর্বানুমতি নেয়নি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। ফলে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্থগিত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তবে ইউজিসি সব পদের অর্থছাড় অনুমোদন না করে শিক্ষক স্বল্পতা বিবেচনায় মাত্র ছয়টি পদে অর্থছাড় দেয়।

নতুন খোলা বিভাগগুলোর মধ্যে ফাইন আর্টস, সমাজকল্যাণ, ল’ অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট, হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট, ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট, শারীরিক শিক্ষা ও ক্রীড়া বিজ্ঞান, বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং, ফার্মেসি, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ, ফোকলোর স্টাডিজ, কমিউনিকেশন অ্যান্ড মাল্টিমিডিয়া জার্নালিজম এবং জিওগ্রাফি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট বিভাগ উল্লেখযোগ্য। এসব বিভাগে গুটিকয়েক স্থায়ী শিক্ষক ও অন্য বিভাগ থেকে ‘ধার করা’ শিক্ষক দিয়ে একাডেমিক কার্যক্রম চলছে। বিভাগগুলো থেকে বারবার চাহিদা দেওয়া হলেও প্রশাসনের সদিচ্ছার অভাব ও অব্যবস্থাপনায় নিয়োগ হচ্ছে না বলে অভিযোগ বিভাগগুলোর সভাপতিদের। এমন পরিস্থিতিতে একজন শিক্ষককে একাধিক কোর্স পড়াতে হচ্ছে।

কমিউনিকেশন এন্ড জার্নালিজম মাল্টিমিডিয়া বিভাগের শিক্ষার্থী শান্ত শিশির বলেন, আমাদের বিভাগে দীর্ঘদিন ধরে তীব্র শিক্ষক সংকট চলছে। মাত্র দুজন শিক্ষক দিয়ে ৪-৫টি ব্যাচের ক্লাস পরিচালিত হচ্ছে। এতে শিক্ষার্থীরা হাতে-কলমে সাংবাদিকতা শিক্ষায় বঞ্চিত হচ্ছেন। অন্য বিভাগের শিক্ষকরা সহযোগিতা করলেও প্র্যাকটিক্যালভিত্তিক বিষয় হওয়ায় কাঙ্ক্ষিত শিক্ষা পাচ্ছেন না শিক্ষার্থীরা।

এছাড়া কর্মমুখী এ বিভাগে নেই কোনো ল্যাব, ক্যামেরা কিংবা নিউজরুম সংশ্লিষ্ট ক্লাসরুম। শিক্ষার্থীদের দাবি, দ্রুত নতুন শিক্ষক নিয়োগ ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নিশ্চিত করে বিভাগে প্রাণ ফিরিয়ে আনা হোক।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্সটিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স সেলের (আইকিউএসি) পরিচালক অধ্যাপক ড. নাজিম উদ্দিন বলেন, ‘ইবির শিক্ষার্থী সংখ্যার তুলনায় শিক্ষকের হার অ্যাক্রিডিটেশনের শর্তের চেয়ে অনেক কম। বিভিন্ন বিভাগে দুই-তিন জন শিক্ষক অনেকগুলো কোর্স নিচ্ছেন। এটি ইউজিসির ক্লাস লোড পলিসির পরিপন্থি। ৩৬টি বিভাগের জন্য অ্যাক্রিডিশনের ন্যূনতম শর্ত পূরণ করতে ১ হাজার ৮০ জন শিক্ষক প্রয়োজন। বর্তমানে শিক্ষক সংখ্যা মাত্র ৪০৬ জন।’

রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. মনজুরুল হক বলেন, ইউজিসির অর্থছাড়ের অনুমোদন ছাড়া নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের কারণে ৫৯টি পদ অনুমোদন পায়নি। যেহেতু বর্তমানে শিক্ষার্থীর তুলনায় শিক্ষক কম থাকায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নতুন নিয়োগের অনুমোদনের জন্য কাজ করছে এবং শিগগিরই এ বিষয়ে ইতিবাচক ফল আশা করা হচ্ছে।

কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ইউজিসি অনুমোদন পাবে ভেবে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হলেও পরবর্তীতে শুধু ৬টি পদের নিয়োগের আর্থিক ছারের অনুমোদন পেয়েছে। শিক্ষার্থীর তুলনায় শিক্ষক কম থাকায় একাডেমিক কার্যক্রম সচল রাখতে পর্যাপ্ত শিক্ষক নিয়োগ জরুরি। এ জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রসাশন ইউজিসির অর্থছাড় অনুমোদন পেতে কাজ করে যাচ্ছেন।

উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এয়াকুব আলী বলেন, নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেওয়ার আগে উপাচার্য স্যার আমার সাথে কোনোরকম পরামর্শ করে দেননি। এই বিষয়ে আমি কিছু জানি না।  

উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহকে মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন দেওয়া হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।