শেরপুর জেলার সীমান্তবর্তী ঝিনাইগাতী উপজেলার নলকুড়া ইউনিয়নের সন্ধ্যাকুড়া বাজার এলাকায় সংবাদ প্রকাশের জের ধরে হামলার শিকার হন দৈনিক ইত্তেফাকের সাংবাদিক খোরশেদ আলম। হামলার ঘটনায় তিনি গুরুতর আহত হন এবং তার মোটরসাইকেল ছিনতাই করা হয়। মোটরসাইকেলটি অবশেষে উদ্ধার হলেও হামলার মূল পরিকল্পনাকারীরা এখনও ধরা পড়েনি।
ঘটনা সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ আগস্ট রাত ৯টার দিকে সীমান্ত এলাকার শীর্ষ সন্ত্রাসী ও কথিত মাদক সম্রাট রাসেল বাহিনীর ২৫-৩০ জন সশস্ত্র সদস্য সাংবাদিক খোরশেদ আলমের ওপর অতর্কিতে হামলা চালায়। অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পান তিনি। পরে থানা পুলিশ তাকে উদ্ধার করে প্রথমে ঝিনাইগাতী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরে শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। এক মাস পেরিয়ে গেলেও তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়নি। তিনি এখনো জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
সাংবাদিক খোরশেদ আলম জানান, দীর্ঘদিন ধরেই সীমান্ত এলাকায় রাসেল বাহিনী গারো পাহাড় হয়ে মাদক পাচারসহ নানা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে। তার বিরুদ্ধে প্রায় দুই ডজন মামলা থাকলেও রাসেল দীর্ঘ দুই যুগ ধরে প্রকাশ্যে এসব অপরাধ চালিয়ে গেলেও তাকে কেউ গ্রেপ্তার করার সাহস পায়নি।
হামলার সময় আশপাশের দোকানি, সাবেক ইউপি সদস্য ও স্থানীয় বাসিন্দারা ভয়ে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যান। সাংবাদিক খোরশেদের দাবি, এটি একটি পূর্বপরিকল্পিত হত্যাচেষ্টা। তিনি বলেন, আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যেই রাসেল বাহিনীর সদস্যরা হামলা চালায়।
হামলার পরদিন, ১৬ আগস্ট খোরশেদ আলম হাসপাতালে অচেতন অবস্থায় থাকলেও তার পরিবারের পক্ষ থেকে স্থানীয় সাংবাদিকদের সহায়তায় ঝিনাইগাতী থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলায় ৬ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরও ৬ জনকে আসামি করা হয়। পুলিশ এ পর্যন্ত চার আসামিকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করলেও তাদের রিমান্ডে নেওয়া হয়নি। এর মধ্যে মামুন, দেলোয়ার ও কোরবান আলী জামিনে মুক্তি পেয়েছেন।
গত ২৮ আগস্ট রাতে থানা পুলিশের একটি দল ওসি মো. আল আমিনের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে সন্ধ্যাকুড়া গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে রাসেলকে গ্রেফতার করে। এ সময় তার বাহিনীর নারী সদস্যরা পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ানোর চেষ্টা করলেও ব্যর্থ হয়। বর্তমানে রাসেল শেরপুর জেলা কারাগারে রয়েছেন। জানা গেছে, তার জামিনের জন্য ইতোমধ্যে হাফ ডজন আইনজীবী চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
অপরদিকে, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. রবিউল আজম খান জানান, রাসেলের মামা ও নলকুড়া ইউনিয়নের ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জামাল উদ্দিনের বাড়ি থেকে সাংবাদিক খোরশেদের ছিনতাই হওয়া মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এখনও সাংবাদিকের মোবাইল ফোন ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র উদ্ধার হয়নি। এবং রাসেল বাহিনীর অন্য সদস্যরাও এখনও পলাতক।
স্থানীয়দের অভিযোগ, গত ১৫ বছর ধরে রাসেল বাহিনী মাদক পাচারসহ নানা অপরাধে যুক্ত থাকলেও রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পৃষ্ঠপোষকতায় তারা বারবার পার পেয়ে গেছে। এমনকি গুরুত্বপূর্ণ মামলাগুলোর তদন্তেও নানা ধরণের গাফিলতি রয়েছে। গ্রেপ্তার হওয়া আসামিদের কাউকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ না করাকে নিয়েও জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আল আমিন বলেন, জামাল উদ্দিন দাবি করেছেন, তিনি হত্যাচেষ্টার সঙ্গে জড়িত নন, বরং সাংবাদিককে সাহায্য করেছেন।
তদন্ত কর্মকর্তা মো. রবিউল আজম খান জানান, জামাল উদ্দিনের বিষয়টি পুলিশের নজরে রয়েছে। তদন্ত চলছে।