মানিকগঞ্জে ড্রেজার বন্ধের দাবিতে এলাকাবাসীর ঝাড়ু মিছিল

মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার পুটাইল ইউনিয়নে ড্রেজার বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন এবং ঝাড়ু মিছিল করেছে সাধারণ গ্রামবাসী। শনিবার সকাল ১১টায় বালিয়াবিল এলাকায় এই মানববন্ধনের মাধ্যমে ড্রেজার বন্ধের দাবি তোলে। মানববন্ধনে পূর্ব পুটাইল, উত্তর পুটাইল, হিজলাইন, বালিয়াবিল গ্রামের প্রায় ৫ হাজার মানুষ সমাবেত হয়। এ সময় তারা ড্রেজার বন্ধের জন্য এলাকায় পুরুষ মহিলা একত্রে ঝাড়ু মিছিল করেন।

গ্রামবাসীরা জানান, স্থানীয় কিছু স্বার্থধারী ব্যক্তির সহযোগিতায় রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ড্রেজিং করে বালু কাটার পায়তারা চালাচ্ছে বালু ব্যবসায়ীরা। বন্যার পানিতে এমনিতেই আমরা অনেক ক্ষতিগ্রস্ত। স্রোতের কারণে নদীপাড়ের সকল ঘরবাড়িই ভাঙ্গনের শিকার হচ্ছে। এই সময় ড্রেজার চালালে পাড়ের প্রায় পাঁচ শতাধিক ঘরবাড়ির একটিও থাকবে না। তার সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত হবে ফসলী জমি। এই অসাধু ড্রেজার চক্র বেছে বেছে বর্ষা মৌসুমকেই বালুকাটার জন্য ব্যবহার করে। বর্ষাকালে বলগেটে অল্প সময়ে বেশি বালু কাটা যায় এবং নদীতে পানি থাকর দরুন দ্রুত বের হয়ে যাওয়া যায়। বিগত বছরগুলোতে গড়ে প্রতিদিন প্রায় একশ' থেকে দেড়শ' ট্রলার বালু কেটে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এ জন্যই এ অঞ্চলের ভাঙ্গনটা মহামারি আকার ধারণ করেছে। স্থানীয় মেম্বার চেয়ারম্যানরা এই বিষয়টায় অবগত কিন্তু তারাও কোন উদ্যোগ নিচ্ছেন বলে মনে হচ্ছে না। আমরা একাধিকবার গণস্বাক্ষর দিয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে অবগত করেছে কিন্তু তাতেও কোন ফলাফল হচ্ছে না। 

বর্ষা মৌসুমের পুরোটা সময়ই কালীগঙ্গা নদীর পুটাইল অংশে ব্যাপক ড্রেজিং করা হয়। এই ড্রেজিংয়ের কারণে গত ৮-১০ বছরে পুটাইল ইউনিয়নের প্রায় দেড় থেকে দুই শতাধিক পরিবারের ভিটে মাটি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। এদের কেউ এখন নিঃস্ব হয়ে চলে গেছেন এলাকা ছেড়ে। কেউবা আছেন আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে কিংবা আশ্রয়ে।

আরও পড়ুন:  লন্ডন ও নয়া পল্টন হলো গুজব তৈরির কারখানা: তথ্যমন্ত্রী

এলাকার নাদী ভাঙ্গনের শিকার মুসলেম মাস্টার জানান, গত দুই বছর আগে আমরা গ্রামবাসীরা ড্রেজিং বন্ধের জন্য সোচ্চার অবস্থানে যাই। গণস্বাক্ষর সংগ্রহের মাধ্যমে লিখিত অভিযোগ দিয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে অবগত করি। আমাদের ঐক্য বিনষ্ট করার জন্য  এরপর ড্রেজার ব্যবসায়ীরা নিজেরা নিজেরা মারামারি করে অজ্ঞাতনামে করে মামলা দায়ের করে। পুলিশ দিয়ে আমাকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয় এবং আমরা যারা নেতৃত্বে ছিলাম তাদের হয়রানি করা হয়। এভাবে পুনরায় তাদের বালু উত্তোলন সচল হয়। এরপর থেকে ভয়ে তেমন কেউ এগিয়ে আসতে সাহস করেনি। বালু ব্যবসায়ীরা বালু কাটতে কাটতে গত ৭-৮ বছরে নদীর মানচিত্র পরিবর্তন করে ফেলেছে। নদী এখন সবটুকুই রেকর্ডিং মালিকানা জমিতে প্রবাহিত হচ্ছে।

নদী ভাঙ্গনের শিকার হাশেম কাজী ও দানেজ উদ্দিন জানান, গত ৩ বছর আগে আমার একমাত্র সম্বল বাপ দাদার ভিটাটা নদীতে বিলীন হয়ে যায়। ড্রেজার দিয়ে বালু কাটতে কাটতে একদম আমার বাড়ির সামনে চলে আসে। আমি বলতে গেলে আমাকে ভয়ভীতি দেখানো হয়। চোখের সামনে বিলীন হয়ে যায় বাড়ি। ছেলে, মেয়ে ও গরু-ছাগল দিয়ে চকের ভিতর যেয়ে বাড়ি করেছি। 

ইত্তেফাক/জেডএইচডি