বাগেরহাট জেলার চারটি সংসদীয় আসন পুনর্বহালের দাবিতে মোংলায় চলছে সর্বাত্মক হরতাল। সর্বদলীয় সম্মিলিত কমিটির ডাকে সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকাল ৬টা থেকে শুরু হওয়া হরতালে সকল সরকারি-বেসরকারি অফিস, মোংলা বন্দর, ইপিজেড, শিল্পপ্রতিষ্ঠান, দোকানপাট ও নৌযান চলাচল বন্ধ রয়েছে।
হরতালের অংশ হিসেবে সকালে উপজেলা নির্বাচন অফিসে তালা ঝুলিয়ে দেয় নেতাকর্মীরা। এছাড়া শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে গাড়ি, গাছের গুঁড়ি, বেঞ্চ ফেলে সড়ক অবরোধ করেন তারা। মোংলার কুমারখালী, শ্রমিক সংঘ চত্বর, শাপলা চত্বর, ফয়লা ও বাসস্ট্যান্ড এলাকায় হরতাল সমর্থনে অবস্থান নেন নেতাকর্মীরা।
সকাল থেকেই শহরের কোথাও যানবাহন চলাচল করেনি। বন্ধ রয়েছে ভ্যান, রিকশা ও দূরপাল্লার সব বাস। মোংলা থেকে খুলনা, যশোর, বাগেরহাট, ঢাকা ও চট্টগ্রাম রুটে কোনো বাস ছেড়ে যায়নি। নদীপথেও বন্ধ রয়েছে খেয়া ট্রলার চলাচল, ফলে ইপিজেডের শত শত শ্রমিক নদীর পাড়ে আটকা পড়েছেন। দুরপাল্লার যাত্রীরাও পড়েছেন চরম বিড়ম্বনায়।
সকাল থেকে বিক্ষোভ মিছিল, পথসভা ও টায়ার জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ করে হরতাল পালন করছেন সর্বদলীয় সম্মিলিত কমিটির নেতাকর্মীরা। তারা জানান, দেশ স্বাধীনের পর থেকে বাগেরহাটে ৪টি সংসদীয় আসন ছিল। কিন্তু গত ৩০ জুলাই নির্বাচন কমিশন এক প্রস্তাবে একটি আসন বাদ দিয়ে তিনটি করার সিদ্ধান্ত নেয়। এরপর থেকেই আমরা এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে আসছি।
৪ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত চূড়ান্ত গেজেটে নির্বাচন কমিশন শুধুমাত্র সীমানা সামান্য পরিবর্তন করে তিনটি আসন বহাল রাখে, যা বাগেরহাটবাসীর দাবি ও স্বার্থ উপেক্ষার সামিল বলে মন্তব্য করেন আন্দোলনকারীরা।
সর্বদলীয় সম্মিলিত কমিটির নেতারা জানান, সোমবার সকাল-সন্ধ্যা হরতালের মধ্য দিয়ে চার দিনের কর্মসূচি শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) বিক্ষোভ সমাবেশ, ১১ ও ১২ সেপ্টেম্বর টানা ৪৮ ঘণ্টার হরতাল পালনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। দাবি মানা না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।