বিএনপি থেকে সব পদে স্থগিতাদেশ পাওয়া ফজলুর রহমান তার জন্য ধানের শীষ প্রতীক ফেরত দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কিশোরগঞ্জের ইটনা অলওয়েদার সড়কের জিরো পয়েন্টের কাছে এক পথসভায় তিনি এই দাবি করেন।
পথসভায় ফজলুর রহমান বলেন, ‘আমি একা চাইলে হবে না, দলকে আপনারাও বলতে হবে আমার মার্কা যেন ফিরিয়ে দেয়। কারণ আমার বিরুদ্ধে বড় চক্রান্ত আছে। সারা বাংলাদেশের রাজাকার, আলবদরের চক্রান্ত রয়েছে আমার বিরুদ্ধে।’
সভা শেষে ফজলুর রহমানের নেতৃত্বে একটি মিছিল ইটনা সদর বাজার প্রদক্ষিণ করে কলেজ মাঠে গিয়ে শেষ হয়। এ সময় তার স্ত্রী, জেলা বিএনপির সহসভাপতি উম্মে কুলসুমও উপস্থিত ছিলেন।
পথসভায় ট্রাকে স্থাপিত মঞ্চ থেকে ফজলুর রহমান বলেন, ‘যেদিন আমাকে বিএনপি থেকে শোকজ করা হলো, প্রথমে বিশ্বাস করতে পারিনি। যে দলের জন্য আমি সব করতাছি, সেই দলের প্রতিষ্ঠাতা মুক্তিযোদ্ধা শহীদ জিয়ার মুখ আমি এক বছর যাবৎ রক্ষা করছি। এরপরও আমার হাতে চিঠি আসল—আমি নাকি কুরুচিপূর্ণ ও ধর্মবিরোধী বক্তব্য দিচ্ছি। অথচ ধর্মবিরোধী বক্তৃতা আমি করি না। এটা শুধু জামায়াতে ইসলামী ছড়াচ্ছে।’
জামায়াতের সঙ্গে দ্বন্দ্বের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ‘আমি আহলে সুন্নত আল জামাত তরিকায় বিশ্বাস করি। এই সুফি তরিকার মূল আউলিয়া হজরত আবদুল কাদির জিলানি (রহ.), খাজা মাইনুদ্দিন চিশতি (রহ.), হজরত শাহজালাল (রহ.) ও হজরত শাহ পরান (রহ.)। আমি তাদের অনুসারী। অথচ জামায়াতে ইসলামী এই তরিকার মানুষদের হত্যা করেছে, এমনকি কবর থেকে লাশ তুলে পুড়িয়ে দিয়েছে। তাই তারা বলে আমি নাকি ধর্মবিশ্বাস করি না; আমার জানাজা পড়া যাবে না।’
জামায়াতের সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন, ‘তারা আমার নাম বিকৃতি করে “ফজু পাগলা” বলে ডাকে। অথচ ইসলামে আছে, কারও নাম বিকৃতি করা কবিরা গুনাহ।’
আগামী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ইচ্ছা জানিয়ে ফজলুর রহমান বলেন, ‘এটাই আমার শেষ ইলেকশন। কিন্তু আমি বিএনপির কাছে দলের প্রতীক চাই। আমি ধানের শীষ মার্কায় ইলেকশন করতে চাই।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমার জীবন থাকতে বাংলাদেশকে পাকিস্তান হতে দেব না। এসব কথা বলি বলেই আমাকে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এমনকি হত্যার উদ্দেশ্যে আমার বাসার সামনে পর্যন্ত মব তৈরি করা হয়েছে।’
উল্লেখ্য, গত ২৬ আগস্ট বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ফজলুর রহমানের প্রাথমিক সদস্যপদসহ দলীয় সব পদ তিন মাসের জন্য স্থগিত করে দল।