কুমিল্লার তিতাস উপজেলায় গোমতী নদীর ওপর নির্মাণাধীন সেতুর কাজ নির্ধারিত সময়ের অনেক পরেও শেষ না হওয়ায় দুর্ভোগে পড়েছেন দুই পাড়ের ৪৫টি গ্রামের প্রায় দেড় লাখ মানুষ। নদীর ওপর নির্মিত বিকল্প ভাসমান সেতুটি গত সোমবার (৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে গোমতীর প্রবল স্রোতে ভেঙে পড়ায় পুরো এলাকা কার্যত যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের ক্ষোভ তীব্র আকার ধারণ করেছে। বিকল্প কোনো সেতু না থাকায় শিশু, শিক্ষার্থী, অসুস্থ রোগী, কৃষক ও ব্যবসায়ীরা মারাত্মক দুর্ভোগে পড়েছেন। ঝুঁকি নিয়ে অনেকেই নৌকা বা ঘুরপথে চলাচল করছেন।
জানা যায়, আসমানিয়া বাজার সংলগ্ন গোমতী নদীর উপর পুরনো সেতুর স্থলে নতুন করে ৭৫ মিটার দৈর্ঘ্যের একটি সেতু নির্মাণের কাজ চলছে। প্রায় ১০ কোটি ৭৭ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে এসএবিএনএমই নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। কাজ শুরু হয় ২০২৩ সালের ৮ আগস্ট, আর নির্ধারিত ছিল ২০২৪ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি শেষ হওয়ার কথা। পরে সময় বাড়িয়ে ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত করা হয়েছে।
কাজ চলাকালীন স্থানীয়দের চলাচলের জন্য নদীর ওপর ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে ৮০ মিটার দীর্ঘ একটি ভাসমান সেতু তৈরি করা হয়। তবে সেটি ২০২৩ সালের ২৯ মে একটি বালুবাহী বলগেটের ধাক্কায় প্রথমবার ধসে পড়ে। পরে আবারও পুনর্নির্মাণ করা হলেও সম্প্রতি ২১ আগস্ট দ্বিতীয়বারের মতো সেটি পানির স্রোতে ভেঙে যায়।
তিতাস উপজেলার ৫টি ইউনিয়ন, দাউদকান্দির ২টি ও মুরাদনগরের ১টি ইউনিয়নের ৪৫টি গ্রামের মানুষ এই সেতু ব্যবহার করতেন। আসমানিয়া বাজারের ব্যবসায়ীরা বলছেন, মালামাল আনা-নেওয়া, কৃষকদের ফসল পরিবহন, শিক্ষার্থীদের যাতায়াতসহ সবকিছুতে স্থবিরতা নেমে এসেছে।
আসমানিয়া বাজারের সার ব্যবসায়ী আরিফুল ইসলাম হানিফ বলেন, ব্রিজের মেয়াদ বারবার বাড়ানো হচ্ছে, কাজের অগ্রগতি নেই বললেই চলে। আমরাই নিজেদের টাকায় ভাসমান সেতু বানিয়েছিলাম, সেটিও ভেঙে গেছে।
এক শিক্ষার্থী বলেন, প্রতিদিন ৩-৪ কিলোমিটার ঘুরে যেতে হয় স্কুলে। এতে পড়াশোনায় অনেক ক্ষতি হচ্ছে।
এসএবিএনএমই কোম্পানির সাইট ম্যানেজার আলমগীর হোসেন জানান, আমরা মাত্র কিছুদিন আগে এসেছি। এখন যে পরিমাণ কাজ আছে তাতে আরও এক বছর সময় লাগবে। কারণ পানি বেড়ে যাওয়ায় নদীর মাঝখানে কাজ করা যাচ্ছে না। গার্ডারগুলো যে প্রক্রিয়া করতে হবে তাতে সব মিলিয়ে এক বছর আরো সময় লাগবে।
উপজেলা প্রকৌশলী মো. খোয়াজুর রহমান জানান, বিকল্প সড়কের জন্য আমরা বরাদ্দ চেয়েছিলাম। এখনও বরাদ্দ পাইনি। ভাসমান সেতুটি ভেঙ্গে গেছে। এটাকে ঠিক করে সাধারন জনগণের চলাচলের ব্যবস্থা করা যায় কিনা এ বিষয়ে আমরা দেখব। ব্রিজের নির্মাণ কাজের মেয়াদ বাড়িয়ে ডিসেম্বর পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়েছে। পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নদীর মাঝখানে কাজ করতে না পারায় একটু সমস্যা হচ্ছে। কাজ চলমান আছে আশা করি ডিসেম্বরের মধ্যে অবশ্যই কাজ শেষ হবে।