দীর্ঘ ৩৩ বছর পর অনুষ্ঠিত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জাকসু) নির্বাচনের ভোট গণনা শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট হলে গণনার কাজ শুরু করে নির্বাচন কমিশন।
জাকসু নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ফলাফল ঘোষণা করতে শুক্রবার (আজ) দুপুর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে, কারণ রাতভর গণনার কাজ চলবে।
এবারের নির্বাচনে ১১ হাজার ৭৪৩ জন শিক্ষার্থী ভোটার হিসেবে তালিকাভুক্ত ছিলেন। এর মধ্যে ছাত্র ৬ হাজার ১৫ জন ও ছাত্রী ৫ হাজার ৭২৮ জন। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ভোট পড়েছে প্রায় ৬৮ শতাংশ।
জাকসুর কেন্দ্রীয় সংসদের ২৫টি পদের বিপরীতে ১৭৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে—
-
সহসভাপতি (ভিপি): ৯ জন
-
সাধারণ সম্পাদক (জিএস): ৮ জন
-
যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (নারী): ৬ জন
-
যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (পুরুষ): ১০ জন
একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২১টি হল সংসদেরও নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিটি হলে ১৫টি করে পদ রয়েছে।
ভোট গণনার অপেক্ষায় শিক্ষার্থীরা
ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর ব্যালট বাক্সগুলো কেন্দ্রীয়ভাবে সিনেট হলে আনা হয়। ফলাফলের জন্য রাত থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনের করিডোর, সিঁড়ি এবং সামনের মাঠে জড়ো হয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
রসায়ন বিভাগের ৫১তম ব্যাচের শিক্ষার্থী তালহা চৌধুরী বলেন, ‘পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিয়েছি। এখন অপেক্ষা করছি ফলাফলের জন্য।’
লোকপ্রশাসন বিভাগের ৪৯তম ব্যাচের শিক্ষার্থী সুরাইয়া লিনা বলেন, ‘জাকসু নির্বাচন আমাদের বহুদিনের প্রত্যাশা। এখন চাই, নির্বাচিতরা যেন শিক্ষার্থীদের অধিকার রক্ষায় দায়িত্ব পালন করেন।’
জাকসু নির্বাচন কমিশনের সদস্যসচিব অধ্যাপক এ কে এম রাশিদুল আলম বলেন, ‘সুষ্ঠুভাবে ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে। রাতভর গণনার কাজ চলবে। আশা করছি, শুক্রবার দুপুরের মধ্যে ফলাফল দিতে পারব।’