নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলার দক্ষিণ সীমান্তবর্তী খিলপাড়া ইউনিয়নে ডাকাতি, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বেড়ে যাওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়রা এলাকাটিকে এখন ‘ক্রাইম জোন’ হিসেবে আখ্যায়িত করছেন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ক্রমাবনতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়লেও পুলিশের কার্যকর পদক্ষেপ না থাকায় ক্ষোভ বিরাজ করছে।
জানা গেছে, সম্প্রতি খিলপাড়া ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে পরপর বেশ কয়েকটি ডাকাতির ঘটনা ঘটে। শংকরপুর গ্রামের ভূঁইয়া বাড়িতে মৃত হাজী আবুল খায়ের ভূঁইয়ার ঘরে, একই গ্রামের মৃত নূর মোহাম্মদের প্রবাসী ছেলের ঘরে, ওমানপ্রবাসী হোসেনের বাড়িতে, ছোট জীবনগর গ্রামের মাষ্টার ছায়েদুর রহমানের বাড়ির মো. হোসেন ওরফে ফিটারের ঘরে, দেলিয়াই বাজারের ব্যবসায়ী মুনছুর আহমেদের বালিয়া ঘরের পাশে। এসব স্থানে সংঘবদ্ধ ডাকাত দল ভয়াবহ হামলা চালায়। ডাকাতরা নগদ টাকা, স্বর্ণালংকারসহ প্রায় ৩০-৩৫ লাখ টাকার মালামাল লুট করে নেয় এবং বাসিন্দাদের শারীরিকভাবে নির্যাতন করে। একাধিক ভুক্তভোগী পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় বাড়িঘর ছেড়ে অন্যত্র চলে যেতে বাধ্য হয়েছে।
ডাকাতির পাশাপাশি চাঁদাবাজি, গরু-ছাগল ও হাঁস-মুরগি চুরি, এমনকি প্রকাশ্য সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগও উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, শংকরপুর গ্রামে এক চিহ্নিত আন্তঃজেলা ডাকাত সর্দার ১৫-১৬ জনের একটি সশস্ত্র বাহিনী নিয়ে পুরো এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করেছে। তারা স্থানীয়দের জিম্মি করে একের পর এক অপরাধ করে চলেছে।
এছাড়া মুন্সী বাড়ির প্রবাসী তাহেরা বেগম ভুলু হত্যা মামলায়ও এই সন্ত্রাসী চক্রের এক সদস্যের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ওই চক্রের এক সদস্যের নাম ও ছবি ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, থানা পুলিশ রহস্যজনক কারণে হত্যা মামলার তদন্তে গড়িমসি করছে।
অবস্থা নিয়ন্ত্রণে আনতে খিলপাড়া এলাকায় একটি পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র স্থাপন করা হলেও কার্যত অপরাধ দমন হচ্ছে না বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। তারা বলেন, এ কেন্দ্রের কয়েকজন চিহ্নিত সালিশকারীর সঙ্গে মিলে তদন্ত কেন্দ্রটি এখন সালিশ বৈঠক আর লোক দেখানো কার্যক্রমে সীমাবদ্ধ। চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসীদের পৃষ্ঠপোষকতার অভিযোগও রয়েছে।
ভুক্তভোগীরা থানায় মামলা করতে ভয় পাচ্ছেন। কারণ তারা মনে করছেন, মামলা করলে তাদের ওপর আরও হামলার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে অধিকাংশ ঘটনাই ধামাচাপা পড়ে যাচ্ছে।
চাটখিল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ফিরোজ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ডাকাতিসহ অন্যান্য ঘটনার বিষয়ে থানায় কেউ এখনও লিখিত অভিযোগ দেয়নি। ফলে পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে ব্যবস্থা নিতে পারছে না।
তিনি আরও জানান, ডাকাত, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজি এবং মাদক ব্যবসায়ীদের গ্রেপ্তারে থানা পুলিশ নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে এবং টহল জোরদার করা হয়েছে।