বিভিন্ন ব্যাংকের নামে লোন দেওয়ার নতুন প্রতারণার ফাঁদ

থাই লটারি ও কানাডাসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে জাল ভিসা দিয়ে প্রতারণার পর এবার নতুন কৌশলে প্রতারণায় নেমেছে নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্র। এবার তারা অস্ট্রেলিয়া ন্যাশনাল ব্যাংক ও জার্মান ব্যাংকের লোগো ব্যবহার করে ফেসবুক পেজে সহজ শর্তে দ্রুত লোন দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। এসব চটকদার বিজ্ঞাপনের ফাঁদে পড়ে ইতোমধ্যে অনেকে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন।

থাই লটারি ও জাল ভিসা চক্রের একাধিক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, গত কয়েক মাসে ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ায় থাই লটারি ও জাল ভিসা প্রতারণা নিয়ে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশের পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার নজরে আসে এসব চক্র। এর ফলে সরকার অভিযান চালাতে শুরু করলে চক্রের সদস্যরা নতুন কৌশলে প্রতারণা শুরু করে।

বিশেষ করে কিশোরগঞ্জ উপজেলার নিতাই, বাহাগিলি, পুটিমারী, চাঁদখানা ও সদর ইউনিয়নে সক্রিয় কয়েকটি চক্র এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাংকের লোগো ব্যবহার করে কোটি কোটি টাকার লোন পাইয়ে দেওয়ার ভুয়া বিজ্ঞাপন দিচ্ছে। 

অনুসন্ধানে জানা যায়, এই চক্রের সদস্যরা নিজেদের কেউ ‘ব্যাংকের মাঠকর্মী’, কেউ ‘লোন অফিসার’, কেউবা ‘ম্যানেজার’ বা ‘জোনাল ম্যানেজার’ হিসেবে পরিচয় দেয়।

চক্রটি প্রথমে প্রথমে ফেসবুক বা হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে ভুয়া লোন বিজ্ঞাপন দেয়। এরপর আগ্রহী প্রবাসীদের কাছ থেকে ‘ফরম পূরণের খরচ’ হিসেবে ৫ হাজার ৫০০ টাকা নেওয়া হয়। এরপর তাদের কথিত ‘ব্যাংক অফিসারদের’ সঙ্গে যুক্ত করা হয়। পরবর্তীতে কোটি টাকার লোনের জন্য ‘লোন পাশ করাতে’ বলা হয় ১০ লক্ষ টাকা ‘খরচ’ দিতে। প্রতারক চক্র এইভাবেই প্রবাসীদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল একটি ভিডিওতে দেখা যায়, অস্ট্রেলিয়া ন্যাশনাল ব্যাংকের লোগোসংবলিত এক বিজ্ঞাপনে এক প্রতারক বলছেন, প্রবাসী ভাইয়েরা, আমি রুবেল হাসান, ওমান প্রবাসী। অনেক চেষ্টা করেও কোথাও লোন পাইনি। পরে আইয়ুব আলী স্যারের মাধ্যমে ৫,৫০০ টাকা দিয়ে মাত্র ২৪ ঘণ্টায় ৩৫ লাখ টাকা লোন পেয়েছি। এখন আমি গরুর খামার করছি। আপনারাও যোগাযোগ করুন, ইনশাআল্লাহ পাবেন।

এই ভিডিওতে মক্কা শরিফ, কাবা শরিফের কসম দিয়েও প্রতারকরা মানুষকে বিশ্বাস করানোর চেষ্টা করছে। এমন চটকদার প্রচারণায় প্রতারিত হচ্ছেন বহু মানুষ।

কিশোরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফুল ইসলাম জানান, কিশোরগঞ্জ থানায় থাই লটারী ও জাল ভিসা কান্ডে সাইবার আইনে বেশ কয়েকটি মামলা হয়েছে। প্রতিনিয়ত অভিযান পরিচালনার কারনে থাই ও ভিসা প্রতারকরা নতুন করে প্রতারনার আশ্রয় নিয়েছে। তিনি বলেন বর্তমানে প্রতারকরা বিভিন্ন ব্যাংক থেকে ২৪ ঘন্টার মধ্যে লক্ষ লক্ষ টাকা লোন দেয়ার আশ্বাস দিয়ে প্রতারনার মাধ্যমে প্রবাসীদের নিঃস্ব করছেন।