চিতলমারীতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের স্লুইসগেট এখন মৎস্য চাষিদের জন্য অভিশাপ। গেটের মুখে পলি ভরাট ও কচুরিপানা জমার কারনে ভাটার সময় কচুরিপানা বের হতে পারছে না। সামান্য বৃষ্টি হলেই চাষিরা থাকে আতঙ্কে। জোয়ার ও বৃষ্টির পানিতে সৃষ্টি হচ্ছে জলাবদ্ধতা। যার কারণে চিংড়ি চাষের জন্য প্রায় ৮ হাজার চিংড়ি ঘের হুমকির মুখে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, চিতলমারীতে ৩৬/১ পোল্ডারের আওতায় চিতলমারী সদর ইউনিয়নে চিত্রা উপকুলীয় এলাকায় ৯টি স্লুইসগেট অবস্থিত। বেশির ভাগ গেট পানি উন্নয়ন বোর্ড নির্মাণ করেছিল ১৯৭০ সালের দিকে। যার কারণ ছিল বিলে লবন ও জোয়ারের অতিরিক্ত পানি ঢুকতে না দেওয়া। কিন্তু দীর্ঘদিন গেটের মুখে পলি ভরাট ও কচুরিপানা জমার কারণে খাল ও বিল থেকে পানি অপসারন হচ্ছে না। যার কারণে সামান্য বৃষ্টিতে ও জোয়ারের পানির চাপে হুমকির মুখে থাকে চিংড়ি ঘের।
ইউপি সদস্য সুলতান শেখ জানান গেটগুলো রক্ষণাবেক্ষণের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডের নিয়োগ করা লোক থাকত। কিন্তু বেশ কিছু দিন তাদের দেখা যায় না।
পারডুমুরিয়া গ্রামের চিংড়ি চাষি সুমন্ত ভক্ত জানান, পানি উন্নয়ন বোর্ড কচুরিপানা পরিস্কার করার জন্য কোন পদক্ষেপ নেয় না। প্রতিবছর জনপ্রতিনিধিদের আর্থিক অনুদানে ও স্বেচ্ছাশ্রমের ভিওিতে কচুরিপানা পরিস্কার করা হত। মৎস্য বিশেষজ্ঞরা জানান দুই দফায় অতিবৃষ্টি ও জোয়ারের পানির চাপে চাষিরা সর্বশান্ত হয়ে গেছে। আর্থিক ভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে চাষিরা।
পারডুমুরিয়া গ্রামের চিংড়ি চাষী উওম বাড়ৈ, মোস্তাক শেখ, কালশিরার গৌতম বিশ্বাস, সুযশ বিশ্বাস, বলেন তারা ব্যাংক, এনজিও, মহাজনি লোন নিয়ে চিংড়ি চাষ করেছিলাম। দুই দফায় অতি বৃষ্টির কারণে ঘের তলিয়ে গেছে , দফায় দফাই বাগদা চিংড়ি ভাইরাসে আক্রান্তের ফলে চাষীরা এবছর ঘেরে মাছ পাচ্ছে না। গেটের মুখে কচুরিপানা আর পলি জমাট না হলে ভাটায় নদীতে পানি বের হতে পারলে বড় বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হতো না। বিলের খাল গুলোতে পানির প্রবাহ ঠিক থাকলে মাছে রোগ বালাই কম থাকতো।
উপজেলার অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত মৎস্য কর্মকর্তা রাজীব রায় জানান, গেটের মুখে কচুরিপানা জমা ও পলি ভরাটের কারনে খাল বিল থেকে ভাটায় পানি নদীতে নামতে পারছে না। যার কারণে সৃষ্টি হচ্ছে স্থায়ী জলবদ্ধতা। দুই দফায় অতিবৃষ্টির কারণে বেশিরভাগ মৎস ঘেরের পাড় ছিল পানির নিচে। বেশির ভাগ চাষী নেট জাল ব্যবহার করার কারনে অন্যান্য বছর থেকে এবছর ক্ষতি একটু কম হয়েছে। তবুও চাষিরা লোকশানের মুখে পড়বে বলে তিনি মনে করেন।