স্মার্টফোন শুধু কথা বলা বা গেম খেলার জন্য নয়। কম্পিউটারের যে কাজগুলো করা যায় সেগুলো এটি দিয়েও করা যায়। বিশেষ করে ওয়েবে কোনো কিছু সার্চ করতে হলে আমরা সাধারণত ব্রাউজারের মাধ্যমে তা করে থাকি। গুগল প্লে স্টোরে অনেক ব্রাউজার পাওয়া যায়, তবে সবগুলো আপনি স্বচ্ছন্দে ব্যবহার করতে পারবেন না। যে ব্রাউজার দিয়ে আপনি ঝামেলহীন ব্রাউজ করতে পারবেন এ রকম কয়েকটি অ্যান্ড্রয়েড ব্রাউজার নিয়ে সাজানো হয়েছে এ লেখাটি
আরমোরফ্লাই ব্রাউজার
এই ব্রাউজারটি CM Browser-এর পরে Cheetah Mobile-এর তৈরি আরেকটি ওয়েব ব্রাউজার যা একই ব্রাউজার ইঞ্জিনের ওপরে রান করে। এই ব্রাউজারটিকে আমি বলবো অ্যাড-ফ্রি ইউসি ব্রাউজার। এই ব্রাউজারটির ফাংশনালিটি, ইউজার ইন্টারফেস, ব্রাউজিং এক্সপেরিয়েন্স সবকিছুই প্রায় ইউসি ব্রাউজারের মতোই।
যারা অ্যান্ড্রয়েড ফোনে ইউসি ব্রাউজার ব্যবহার করেন, তারা সবাই জানেন অ্যান্ড্রয়েডে ইউসি ব্রাউজারের বিরক্তিকর এবং অশ্লীল নোটিফিকেশন অ্যাডসগুলোর ব্যাপারে, যেগুলো কিছুক্ষণ পরপরই নোটিফিকেশন বার অ্যাডস দিয়ে ভর্তি করে ইউজারকে বেশ ভালোরকম সমস্যায় ফেলে দেয়। তবে এই ব্রাউজারটিতে এই ধরনের কোনো বিরক্তিকর অ্যাডস নেই। এছাড়া এই অ্যাপটির বাকি সব ফিচারস ইউসি ব্রাউজারের মতোই।
ডেটা সেভার, বিল্ট ইন ডাউনলোড ম্যানেজার, বিল্ট ইন অ্যাড-ব্লকার, বিল্ট ইন ভিডিও ডাউনলোডার—এইসবকিছুই আছে এই ব্রাউজারে। এছাড়া এই ব্রাউজারটি অন্যান্য ব্রাউজারের তুলনায় আরো ফাস্ট ওয়েবপেজ লোড করার দাবি করে, যদিও স্পিডের দিক থেকে ইউসি ব্রাউজার এবং অন্যান্য ব্রাউজারের সঙ্গে খুব বেশি পার্থক্য নেই এই ব্রাউজারটির। আপনি যদি ইউসি ব্রাউজার ইউজার হয়ে থাকেন, তাহলে এই ব্রাউজারটি আপনার ভালো লাগতে বাধ্য।
এছাড়া এই ব্রাউজারটির আরো এক্সট্রা কিছু ফিচারসও আছে। যেমন—সিক্রেট ফোল্ডার, যার সাহায্যে এই ব্রাউজারটির সাহায্যে ডাউনলোড করা যেকোনো ফাইল আপনি হাইড করে রাখতে পারবেন যা শুধু এই ব্রাউজারটি ব্যবহার করেই অ্যাক্সেস করা যাবে।
মাইক্রোসফট এজ
যারা পিসিতে উইন্ডোজ ১০ ব্যবহার করেন, তারা এই ব্রাউজারটির সঙ্গে বেশ ভালোভাবেই পরিচিত। এটি উইন্ডোড ১০-এর জন্য মাইক্রোসফটের তৈরি ডিফলট ব্রাউজার, যা খুব কম ইউজারই ব্যবহার করে থাকে। যদিও ব্রাউজিং স্পিড এবং ফিচারসের দিক থেকে অন্য যে কোনো মডার্ন ওয়েব ব্রাউজারের থেকে কম যায় না এটি, তবুও গুগল ক্রোম এবং মজিলা ফায়ারফক্সের মতো জনপ্রিয় ওয়েব ব্রাউজারের কাছে এই ব্রাউজারটির জনপ্রিয়তা নেই বললেই চলে। তবে উইন্ডোজ ১০-এর ডিফলট ব্রাউজার হওয়ায় এটির কয়েকটি অ্যাডভানটেজ ঠিকই আছে যেগুলো অন্যান্য ব্রাউজারের নেই।
যেমন—মাইক্রোসফটের অন্যান্য প্রোডাক্টগুলোর সঙ্গে ডিপ ইন্টাগ্রেশন, উইন্ডোজ ১০-এর অন্যান্য সেটিংসের সঙ্গে ডিপ ইন্টাগ্রেশন এবং আরো অনেক কিছু। আপনি যদি উইন্ডোজ ১০-এ সেকেন্ডারি ব্রাউজার হিসেবেও মাইক্রোসফট এজ ব্যবহার করেন অথবা মনেপ্রাণে একজন মাইক্রোসফট ফ্যানবয় হয়ে থাকেন, তাহলে আপনি অ্যান্ড্রয়েডেও মাইক্রোসফট এজের অ্যান্ড্রয়েড ভার্শনটি ব্যবহার করতে পারেন।
এক্ষেত্রে আপনি যে সুবিধা পাবেন, তা হচ্ছে আপনার পিসি এবং মোবাইলের ব্রাউজারের মধ্যে সিংক করার সুবিধা। যেমন ব্রাউজিং হিস্টোরি, সেটিংস, কাস্টমাইজেশন—এই সবকিছুই আপনার মাইক্রোসফট অ্যাকাউন্টের সঙ্গে সিংক হবে যদি আপনি দুই জায়গাতেই মাইক্রোসফট এজ ব্রাউজার ব্যবহার করেন।
এছাড়া মাইক্রোসফট এজ-এর আরেকটি সুবিধা হচ্ছে, এক্ষেত্রে আপনি মোবাইলের ব্রাউজার থেকে পিসির ব্রাউজারে কনটেন্ট শেয়ার করতে পারবেন। অর্থাত্ মোবাইলের ব্রাউজার থেকে কোনো ওয়েবপেজ ব্রাউজ করার সময় চাইলে সেটিকে অটোমেটিক পিসির ব্রাউজারে লোড করতে পারবেন যদি দরকার হয়। এটি ব্রাউজিং-এর ক্ষেত্রে কোনো যুগান্তকারী ফিচার নয়, তবে কনভেনিয়েনসের কথা বিবেচনা করলে এটি অবশ্যই একটি কাজের ফিচার।
পুফেইন ব্রাউজার
এটি স্মার্টফোনের জন্য অন্যতম জনপ্রিয় একটি ব্রাউজার। আপনি এই ব্রাউজারটির নাম অবশ্যই শুনে থাকবেন এবং হয়তো ব্যবহারও করেছেন। ব্রাউজিং এবং ভিজুয়্যালের দিক থেকে এই ব্রাউজারটি অসাধারণ কোনো ব্রাউজার নয়, তবে এই ব্রাউজারটির কনসেপ্ট বেশ ইনোভেটিভ।
এই ব্রাউজারটি মূলত ব্রাউজিং-এর ক্ষেত্রে ব্যবহার করে ক্লাউড কম্পিউটিংকে। ক্লাউড কম্পিউটিং ব্যবহার করার মাধ্যমে এটি আরো ফাস্ট ব্রাউজিং এক্সপেরিয়েন্স দেওয়ার দাবি করে এবং আমার নিজের অভিজ্ঞতা অনুযায়ী তাদের এই দাবিটি অধিকাংশ ক্ষেত্রে সত্যি। এই ব্রাউজারটি সত্যিই অন্যান্য অনেক জনপ্রিয় ব্রাউজারের তুলনায় কিছুটা ফাস্ট পেজ লোড করে।
এর কারণ হচ্ছে—এই ব্রাউজারটির সাহায্যে যখন আপনি কোনো ওয়েবপেজ লোড করেন, তখন ব্রাউজারটি আপনার রিকুয়েস্ট আপনার ডিভাইস এবং আপনার ইন্টারনেট থেকে সেন্ড করে না। বরং রিকুয়েস্টটি সেন্ড করা হয় তাদের হাই পারফরমেন্স ক্লাউড কম্পিউটার থেকে এবং সম্পূর্ণ ওয়েবপেজটিকেই রেন্ডার করা হয় তাদের হাই এন্ড ক্লাউড কম্পিউটার থেকে এবং সেটিকে আপনার ডিভাইসে দেখানো হয়। তাই পেজটিকে যেহেতু আপনার ডিভাইসকে রেন্ডার করতে হচ্ছে না, তাই তুলনামূলকভাবে আরেকটু ফাস্ট লোড হয় পেজগুলো।
আর তাই এই ব্রাউজারের সাহায্যে ভিপিএন ছাড়াও জিওগ্রাফিক্যালি ব্লকড ওয়েবসাইটগুলোও লোড করা যায়। তবে অনেকসময় দেখা যায়, এটি ভালোভাবে কাজ করে না এবং ব্রাউজারটি আনস্ট্যাবল হয়ে যায়। তবে তা খুব কমই হয়। এছাড়া এই ব্রাউজারটিতে আরো কিছু ফিচারস আছে, যেমন—আপনি এই ব্রাউজারে পেজ নেভিগেট করার সময় ভার্চুয়াল মাউস এবং টাচপ্যাড ব্যবহার করতে পারবেন যদি দরকার হয়। এছাড়া থাকছে ডেটা সেভার এবং বিল্ট ইন ফ্ল্যাশ প্লেয়ার সাপোর্টও।
অপেরা টাচ
উইন্ডোজ পিসি এবং অ্যান্ড্রয়েড ফোন ব্যবহার করেন, অথচ অপেরা ব্রাউজার চেনে না এমন ইউজার খুবই কম আছে। তবে অধিকাংশ ইউজারই অ্যান্ড্রয়েডে অপেরার শুধু দুইটি ব্রাউজারই চেনে। অপেরা ব্রাউজার এবং অপেরা মিনি। তবে অপেরা সম্প্রতি তাদের এই নতুন ব্রাউজারটি রিলিজ করেছে প্লে স্টোরে যেটির নাম অপেরা টাচ।
এই ব্রাউজারটি স্পেশালি ওয়ান-হ্যান্ডেড নেভিগেশনের জন্য তৈরি করা হয়েছে। অর্থাত্ এই ব্রাউজারটি যে কোনো সাইজের স্মার্টফোনেই এক হাতে ধরে ভালোভাবে ব্রাউজ করার জন্য পারফেক্ট।
স্ট্যান্ডার্ড অপেরা ব্রাউজার যে ব্রাউজিং ইঞ্জিন ব্যবহার করে, সেই একই ইঞ্জিন ব্যবহার করার ফলে অরিজিনাল অপেরা ব্রাউজারের সঙ্গে স্পিডের তেমন কোনো পার্থক্য নেই। তবে এই ভার্শনটিতে আরেকটি এক্সট্রা ফিচার আছে যার নাম ঙঢ়বত্ধ ঋষড়।ি এর সাহায্যে অপেরা টাচ ব্রাউজারটি থেকে যে কোনো ওয়েবপেজ বা যে কোনো ওয়েবসাইট ব্রাউজ করার সময় পিসির অফিশিয়াল অপেরা ব্রাউজারে ট্রানসফার করা যাবে পিসিতে ব্রাউজ করার জন্য।
অনেকটা মাইক্রোসফট এজ ব্রাউজারের মতো, তবে এক্ষেত্রে শুধু অপেরা ব্রাউজারই কাজ করবে। এছাড়া এই অ্যাপটি অপেরা মিনির মতো বিরক্তিকর অ্যাড দিয়েও ইউজারকে বিরক্ত করে না। যদি অপেরা ফ্যানবয় হয়ে থাকেন, তাহলে এই ব্রাউজারটি ব্যবহার করতে পারেন।
ভিআইএ ব্রাউজার
এই লিস্টের মধ্যে আমার সব থেকে পছন্দের ব্রাউজার এটি। এই ব্রাউজারটি এতটাই ভালো যে, অনেক জনপ্রিয় কাস্টম রমে এই ব্রাউজারটিকে ডিফলট ওয়েব ব্রাউজার হিসেবে দেওয়া হয়। ১ এমবি-এরও কম সাইজের এই ব্রাউজারটি ফোকাস করে সিমপ্লিসিটি এবং মিনিমাল ইউজার ইন্টারফেসের দিকে। এই ব্রাউজারটির মিনিমাল এবং ক্লিন ইউজার ইন্টারফেস প্রথমবার দেখেই যে কারো ভালো লাগতে বাধ্য।
এই ব্রাউজারটিতে শুধু যা যা দরকার তাই তাই আছে। এক্সট্রা এমন কোনো ফিচার নেই যেগুলো অপ্রয়োজনীয় এবং কেউ খুব বেশি ব্যবহার করবে না। যেমন অপেরা ফ্লো বা এই ধরনের কোনো ফ্যানি্স ফিচার। এই ব্রাউজারটির কাস্টোমাইজেশনও খুব লিমিটেড যা ১ এমবির কম সাইজের ব্রাউজারে এক্সপেক্টেড।