পটুয়াখালীর আলীপুর-মহিপুর অঞ্চলে অবস্থিত খাপড়াভাঙ্গা নদীর মৎস্য বন্দরে এই কয়েক দিন ধরে হইচই, ফেলে রাখা রয়েছে শতাধিক মাছ ধরার ট্রলার। কারণ, সাগরে তীব্র ও ঝড়ো আবহাওয়ার কারণে নৌযানগুলো নিরাপদ আশ্রয়ে নোঙর করা হয়েছে। ভরা মৌসুমে হলেও দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে জেলেরা গভীর সমুদ্রে যেতে পারছেন না। ফলশ্রুতিতে তাদের আয়-রোজগার প্রায় নেই বললেই চলে।
সকালে বিভিন্ন ঘাট ঘুরে দেখা গেছে, নৌকা ও ট্রলারে ওঠা-নামা- সবই থমকে আছে। জেলেরা মাঠে বা পানির ঘাটে বসে সময় কাটাচ্ছেন, চিন্তায় ডুবে আছেন কেউ। তাদের অভিযোগ, মৌসুম শুরু থেকেই একের পর এক প্রাকৃতিক বাধা তাদের কাজ বাধাগ্রস্ত করেছে।
জেলে ফজলু ঘরামী বলেন, সাধারণ দিনে দুই-তিন দিন সমুদ্রে থেকে পরিশ্রম করলে একটা ভালো আয় হয়। কিন্তু এখন তো সাগরে যেতে পারি না, ঘাটেই বসে রয়েছি। বাড়ি সংসারের খরচ, ঋণ— সবই বাড়ছে।
আর জেলে ইউনুস মাঝি জানান, মৌসুমে যখন সবচেয়ে বেশি ইলিশ ধরার সম্ভাবনা থাকে, তখনই আবহাওয়া আমাদেরকে ঘাটেই আটকে রাখছে।
খবির ঘরামী বলেন, সমুদ্রযাত্রার আগে পুরো যাত্রাপথের প্রস্তুতি যেমন জ্বালানি, বরফ, খাদ্য— এসব খরচ লাগে লাখ লাখ টাকা। কিন্তু যাওয়া না গেলে সেসবই অর্থাৎ পুরো খরচই বৃথা যায়।
মৎস্য ব্যবসায়ী জলিল ঘরামী বলেন, চলমান মৌসুমে মাছ ধরাহীন দিনগুলো যদি দীর্ঘায়িত হয়, তাহলে অনেক পরিবারের বছরের আয়ের বড় অংশই হারিয়ে যেতে পারে। যা খুবই বিপজ্জনক।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানাচ্ছে, বঙ্গোপসাগরে একটি নিম্নচাপ গঠিত হওয়ায় সমুদ্র উত্তাল রয়েছে। সে কারণে গভীর সমুদ্রে যেতে নিষেধ করা হয়েছে।
পটুয়াখালী আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহবুবা সুখী জানান, পায়রা সমুদ্র বন্দরে ৩ নম্বর, এবং নদী বন্দরে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত জারি রয়েছে। আগামী ২ অক্টোবর পর্যন্ত ঝড়ো হাওয়া ও বৃষ্টিপাত চলতে পারে। এরপর থেকে ৪ অক্টোবর থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিনের মৎস্য শিকার নিষিদ্ধ সময় সিলসিলা চালু হবে।
সব মিলিয়ে দফায় দফায় বৈরী আবহাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আসন্ন নিষেধাজ্ঞার কারণে উপকূলে বসবাসকারী জেলেদের উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে।