তিন দশকেও চিহ্নিত হয়নি লাউয়াছড়ার সীমানা

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার লাউয়াছড়া সংরক্ষিত বনাঞ্চলকে ১৯৯৬ সালে জাতীয় উদ্যান ঘোষণা করা হলেও এখনো ভূমি জরিপ হয়নি। সীমানা চিহ্নিত না থাকায় ২৯ বছরে উদ্যানের অনেক জমি বেদখল হয়ে গেছে। ভূমি জরিপ না হওয়ায় উদ্যানের জমি কোথায়, কার দখলে কতটুকু আছে-তা নিশ্চিত করতে জটিলতায় পড়েছে বন বিভাগ।

সম্প্রতি বন বিভাগের বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের বেদখল হওয়া জমি উদ্ধারে অভিযান শুরু করেছে। ইতিমধ্যে বেদখল হওয়া ৯ একর জমি উদ্ধার হয়েছে। কিন্তু সীমানা চিহ্নিত না থাকায় উদ্ধারকাজ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

বিলুপ্তপ্রায় বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল কমলগঞ্জের লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান। লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের আয়তন ১ হাজার ২৫০ হেক্টর। ১৯৯৬ সালে জাতীয় উদ্যান ঘোষণা করা এই বন ১৬৭প্রজাতির গাছ, ২৪৬ প্রজাতির পাখি, ৫৯ প্রজাতির সাপসহ ২০ প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণী, ২২ প্রজাতির উভচরসহ অসংখ্য বিরল ও বিপন্ন প্রাণীর আবাসস্থল। জীববৈচিত্র্যের টানে দেশ-বিদেশের অনেক পর্যটক উদ্যানে ভিড় করেন।

অনুসন্ধানে জানা যায়, লাউয়াছড়ার চারপাশে গ্রাম, চা-বাগান ও ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি রয়েছে। এই সুযোগে উদ্যানসংলগ্ন অনেকেই নিজেদের জমির সঙ্গে বনের জমি দখলে নিয়ে বাণিজ্যিক চাষাবাদ শুরু করেছেন। কেউ কেউ গড়ে তুলেছেন বিভিন্ন স্থাপনা। ২০১৭ সালের ২৪ অক্টোবর লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে সীমানা নির্ধারণে কার্যক্রম শুরু হয়। বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ এবং কমলগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে এই কার্যক্রম শুরু হয় হীড বাংলাদেশসংলগ্ন এলাকা থেকে। বন্যপ্রাণী বিভাগের তৎকালীন সহকারী বনসংরক্ষক (এসিএফ) তবিবুর রহমানের উপস্থিতিতে সীমানা নির্ধারণের কাজ শুরু হয়। তবে অদৃশ্য কারণে পরে এ কার্যক্রম বন্ধ হয়ে পড়ে। ফলে জাতীয় উদ্যানের সীমানা প্রাচীর নির্ধারণে ভূমি জরিপের অভাবের কারণে বনের জমি কোথায়, কতটুকু আছে, তা নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।

এখনো কোনো ভূমি জরিপ হয়নি। সীমানা চিহ্নিত না থাকায় উদ্যানের অনেক জমি বেদখল হয়ে গেছে। বনের ১৫৫ একর জমি নিয়ে বন বিভাগ ও স্থানীয় গ্রামবাসীর মধ্যে মামলাও চলমান। স্থানীয়রা বাসিন্দারা জানান, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর বন বিভাগের বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের বেদখল হওয়া ৯ একর জমি উদ্ধার করে। তবে সীমানা চিহ্নিত না থাকায় উদ্ধারকাজ বাধাগ্রস্ত হয়। তারা আরো বলেন, লাউয়াছড়া বনের জমিতে রিসোর্টও রয়েছে। বাঘমারা-তেরঘর এলাকায় ব্যক্তি মালিকানাধীন জমির সঙ্গে অনেকেই বনের জমি দখলে রেখেছেন। এছাড়া উদ্যানের বন্যপ্রাণী এলাকা কালাছড়ায়ও বেশকিছু জমি বেদখল রয়েছে। সার্ভে না হওয়ায় বনের প্রায় শতাধিক একর জমি উদ্ধার সম্ভব হচ্ছে না। জরিপ হলে উদ্যানের প্রকৃত জমি কতটুকু, তা নিশ্চিত হওয়া যাবে।

এ বিষয়ে বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের লাউয়াছড়া রেঞ্জ কর্মকর্তা নাজমুল হক বলেন, লাউয়াছড়া বনের পাশে পাবলিক ল্যান্ড (ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি) আছে। বনের ল্যান্ড (জমি) আছে। জরিপ না হওয়ায় সীমানা নির্ধারণ করা সম্ভব হচ্ছে না। যে জায়গা দখলমুক্ত করা হচ্ছে সীমানা নির্ধারণ না থাকায় সেখানে খুঁটি মারতেও পারছি না।

বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের সিলেটের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আবুল কালাম বলেন, হয়তো ভূমি সার্ভে হয়নি। তবে ম্যাপ মোতাবেক লাউয়াছড়া উদ্যানের সীমানা নির্ধারণ আছে। আর ভূমি বেদখল বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য থাকলে সেগুলো উদ্ধার করা হবে।